ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

যে কারণে স্থগিত কাপ্তাই বিএনপির কার্যক্রম

দলীয় কোন্দল ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপি’র সকল কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্রগ্রাম বিভাগ) এর মৌখিক নির্দেশে ও রাঙামাটি জেলা বিএনপির গত ১১ জানুয়ারীর সম্পাদকীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো: শাহ আলম এবং সাধারন সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু স্বাক্ষরিত পত্রে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান উপজেলা কমিটি করার পর থেকে কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: দিলদার হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো: ইয়াছিন মামুনের মধ্যে দলীয় কোন্দল শুরু হয়। মাঠ পর্যায়ের নেতা কর্মীরা জানান, উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা,কেন্দ্রীয় কোন কর্মসূচী পালন না করে নিজেদের দলভারি করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া, এমনকি আধিপত্য বজায় রাখতে নিজ সর্মথকদের দিয়ে দলীয় নেতাকে লাঞ্জিত করার মতো ঘটনা ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে। উপজেলা বিএনপির কোন্দলের কারণে বিএনপি ও অংগ সংগঠনের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।

দলীয়ভাবে কোন্দল নিরসনে গত ৯ জানুয়ারী চট্রগ্রাম মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম সহ মহানগর ও রাঙামাটি বিএনপি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক চলাকালীন কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই কাপ্তাই বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটিসহ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কোন্দল মিটিয়ে একযোগে সবাইকে কাজ করার কথা বলেন। নইলে কাপ্তাই বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করার হুশিয়ারি উচ্চারন করেন।
চট্টগ্রামে বৈঠক শেষ করে আসার পথে কাপ্তাই উপজেলা সদরে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি লোকমান আহমেদকে বিএনপির অপর একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা আক্রমন করে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি দিতে থাকে। এঘটনায় উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মামুন জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কাপ্তাই থানায় দু’টি জিডি করেন বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।
এদিকে সৃষ্ট ঘটনা সম্পর্কে লোকমান আহমেদ পরদিন স্বশরীরে গিয়ে জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দকে অভিযোগ করার পর জেলা বিএনপি কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সকল কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি লোকমান আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: দিলদার হোসেনের উপস্থিতিতেই তার সর্মথকরা আমার উপর হামলা চালায়।

উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন মামুন বলেন,বিএনপি সভাপতি সবাইকেই প্রতিপক্ষ ভাবেন। আর কাপ্তাই উপজেলা বিএনপিতে তার কোন প্রতিপক্ষ থাকতে পারবেনা। তার এধরনের মানসিকতার জন্যই আজ কাপ্তাই বিএনপির এই দশা।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো: দিলদার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কোন নোটিশ পাইনি। তবে কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি শুনেছি। তিনি আরো বলেন, লোকমান আহমেদকে আক্রমণের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তার সাথে ছাত্রদল যুবদলের পুরনো কোন্দল। এটা তাদের ব্যাপার। এখানে আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে।

অপরদিকে, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত করায় উপজেলা বিএনপির মাঠ পর্যায়ের অনেক নেতা কর্মী জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button