করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

যেনো মানবতার জয়গান গাইছে অন্য তারুণ্য !

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া আশীষ দাশের সৎকারে ১২ তরুণ

আশীষ কান্তি দাশ । ৬৫ বছর বয়সী এই মানুষটি করোনা উপসর্গ নিয়ে গত বুধবার বিকাল তিনটায় রাঙামাটি শহরের আইসোলেশনে মারা যান। করোনা উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা মানুষটির মৃতদেহ সৎকারে এগিয়ে এলো জাতপাত ভুলে মানবতার জন্য কাজ করা সংগঠন ইসলামিক ফাউন্ডেশন,রাঙামাটি গাউছিয়া কমিটি এবং মারা যাওয়া ব্যক্তির নিজ এলাকা পূর্ব ট্রাইবেল আদামের পাঁচ তরুন।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃতবরন করা আশীষ কান্তি দাশ শহরের পূর্ব ট্রাইবেল আদামের বাসিন্দা। বুধবার রাঙামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে আইসোলেশনে পাঠানো হয় এবং সেখানে দুপুর তিনটার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) ফোন করেন গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার কমিটিকে। এনডিসি এনডিসি উত্তম কুমার দাশ বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আশীষ কান্তি দাশকে চিকিৎসক আইসোলেশনে পাঠান। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সন্ধ্যার পর খবর পেয়ে মৃতদেহ সৎকারের জন্য  রাঙামাটি ইফা ও জেলা গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার কমিটিকে ফোন করি এবং তারা বরাবরের মতই ছুটে আসেন।

সৎকার কাজে অংশ নেয়া গাউছিয়া কমিটির দাফন ও সৎকার টিমের সদস্য মোঃ ইব্রাহিম জাভেদ জানান,খবর পেয়ে আমরা আইসোলেশন সেন্টারে গিয়ে দেখি মৃত আশীষ কান্তি দাশের স্ত্রী ও পুত্র সিদ্ধার্থ শংকর দাশ ছাড়া আশেপাশে আর কেউ নেই। তারা অসহায়ের মতই নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে। আশীষ দাশের স্ত্রী ও ছেলে আমাদেরকে দেখে যেন নির্ভরতা পেলেন। পরে তাদের সাথে কথা বলে আমরা মৃতদেহের গোসল ও সৎকার শেষে দাহের জন্য প্রস্তুত করে গাড়ীতে তুলে দিই। পরে ওই এলাকার মহানুভব পাঁচজন হিন্দু ও বড়ুয়া তরুণ আশীষ দাশের দাহক্রিয়া সম্পন্ন করেন বলে জেনেছি।

দাহক্রিয়ায় অংশ নেয়া  সুজন কান্তি দাশ জানিয়েছেন, ইফা ও গাউছিয়া কমিটির ভাইয়েরা আশীষ দাশের মৃতদেহটি সৎকার করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে প্রশাসনের  নির্ধারিত ট্রাকে তুলে দেন। এরপর আমরা পাঁচজন আসামবস্তি মহাশশ্মানে দাহ কাজে অংশ নিই  এবং দাহের  পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করি ।

মৃত আশীষ কান্তি দাশের ছেলে সিদ্ধার্থ শংকর দাশ জানান, বুধবার সকালে বাবার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে তাকে রাঙামাটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ডাক্তাররা তাকে আইসোলেশনে ভর্তি করান। দুপুরে বাবা মারা যান। কিন্তু লাশ আইসোলেশন থেকে বের করার জন্য কেউ আসেনি। জীবনের একটা কঠিন মুহুর্ত দেখেছি এদিন। কি করব বুঝতে পারছিলাম না; অসহায় হয়ে যাই আমরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে সৎকার কমিটির সদস্যরা আসেন। তারা খুব যত্ন সহকারে লাশের গোসল ও অন্যান্য কাজ শেষ করে ট্রাকে তুলে দেন এবং পরে আমাদের এলাকার পাঁচজন তরুণ বাবার দাহক্রিয়ার কাজ সম্পন্ন করেন।

আশীষ দাশ মারা গেছেন। সরকারি নিয়ম মেনেই করোনা রোগির মতোই সৎকার ও দাহ করা হয়েছে তার। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা,সেটা জানা যাবে রিপোর্ট আসার পর। কিন্তু একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীর মৃতদেহ সৎকার ও দাহ করার কাজে ইফা’র পক্ষে মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন আল হাসান, মুহাম্মদ মিরাজ উদ্দিন আল-ক্বাদেরী, মেহেদী ইমাম,গাউছিয়া কমিটির পক্ষে মুহাম্মদ ইব্রাহিম জাভেদ, মুহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম তোফা, মুহাম্মদ ফজল আকবর এবং পূর্ব ট্রাইবেল আদামের স্থানীয় তরুণ  সুজন  কান্তি দাশ,ইমন দে,হৃদয় নাথ,তুষার বড়ুয়া,সান্ত মন্ডলের অংশগ্রহণ যেনো জানান দিয়েছে, এই ঘোর ক্রান্তিকালের বিপন্ন সময়েও এখনো মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে মানবতা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − five =

Back to top button