ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

যেনো নিয়ম না মানার এক নির্বাচন !

বরাবরই বদনাম তাদের বিরুদ্ধে- নিয়ম মানার প্রতি বড্ড অনাগ্রহ তাদের। বাস্তবতা যেনো সেই ইঙ্গিতই দিলো। রাঙামাটি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে দেয়ালজুড়ে ব্যাপক পোস্টারিং,রঙিন পোস্টার,স্টিকার ও ব্যানার লাগানো এবং নিয়ন্ত্রনহীন প্রচারনা,সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ইতিবাচক ভাবনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করলো যেনো।

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাঙামাটি শহরকে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছে সংগঠনিটর নির্বাচনের প্রার্থীরা। নিয়ন্ত্রনহীন ব্যানার পোস্টার ফেস্টুন স্টিকারসহ বিচিত্র সব প্রচারণায় বিরক্ত শহরবাসি। অথচ সম্প্রতি শেষ হওয়া রাঙামাটি আসবাবপত্র সমিতি,কাঠ ব্যবসায়ি সমিতিসহ বিভিন্ন নির্বাচনে ছিলো আচরণবিধি,প্রকাশ্য প্রচারণায় ছিলোনা কোন বাড়াবাড়ি,কিংবা দেয়ালে পোস্টার লাগানো কিংবা রঙিন পোস্টার না করার উপরও ছিলো নিষেধাজ্ঞা।

শুধু তাই নয়,পার্বত্য রাঙামাটির সবচে প্রভাবশালী সংগঠন রাঙামাটি কাঠ ব্যবসায়ি সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নির্বাচনেও পৃথক মডেল নির্বাচন বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে প্রার্থীদের অতিরিক্ত প্রচারণা নিয়ন্ত্রন করা হয়। ফলে কোন প্রার্থীই বাড়তি পোস্টার,ব্যানার করতে পারেনি,কিংবা করতে পারেনি রঙিন কোন উপকরণ,শুধু তাই নয়,নিষিদ্ধ ছিলো পোস্টারিংও। রাঙামাটিবাসিও ব্যাপক খুশি হয়েছিলো এই কার্যক্রমে। কিন্তু তিনমাস না পেরোতেই রাঙামাটি অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের প্রার্থীদের আচরণে হতাশ,ক্ষুদ্ধ এবং ব্যথিত রাঙামাটি শহরবাসি।

রাঙামাটি নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম মুন্না বলেন, এটা উচিত হয়নি,রাঙামাটি শহর সবার শহর। এই শহরকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব সবার। কাঠ ব্যবসায়ি সমিতির নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনও সুন্দর ও হতে পারতো,যদি সবাই চাইতো। আশা করি রাঙামাটি শহরকে সুন্দর রাখবে ভবিষ্যতে তারা এটি মাথায় রাখবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন চালক জানালেন, যারা এতো পোস্টার ব্যানার করছে নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে,তারা সমিতির দায়িত্ব পাওয়ার পর আমাদের ভাগ্যের কতটুকু পরিবর্তন করতে পারবে ? আমাদের সুখ দু:খে কতটা পাশে থাকবে
?

সভাপতি পদপ্রার্থী পরেশ মজুমদার বলেন, আসলে আমাদের শ্রমিকরা দরিদ্র মানুষ,তারা তাই অল্পদামে পোস্টার করে প্রচার করেছে। হয়তো এতো কিছু বোঝেনি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই জন্য দু:খ প্রকাশ করছি। নির্বাচনের পর আমরা এসব তুলে নিবো।

একই কথা বলেছেন সাধারন সম্পাদক পদে দ্বিতীয়বারের মতো প্রার্থী হওয়া শহীদুজ্জামান মহসিন রোমান। তিনি বলেন,এটা আসলে আমরা জন্যও বিব্রতকর। আমাদের প্রার্থীদের অসচেতনতার কারণেই এটি হয়েছে। আর আমাদের কোন আচরণবিধিও নেই। তবে আমি কথা দিচ্ছি,নির্বাচনের পরপরই আমরা নিজ উদ্যোগে এসব তুলে নিবো।

তবে মজার ব্যাপার হলো সভাপতি ও সম্পাদক পদের এই দুই প্রার্থীই মুখে এসব কথা বললেও বাস্তবে নিজেরাও অংশ নিয়েছেন ব্যাপক প্রচারনার এই প্রতিযোগিতায়। রঙিন পোস্টার করা,ব্যাপকহারে পোস্টার ও ব্যানার লাগানোর মতো কাজ করেছেন তারা দুজনই ! শুধু এরা দুজনই নয়, প্রায় সব প্রার্থীই সামিল হয়েছে শহর নষ্ট করা আগ্রাসী প্রচারযুদ্ধে !

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সংগঠনের উপদেষ্টা সাংবাদিক এসএম শামসুল আলম বলেন, আমি ব্যক্তিগত এটা চাইনি। পোস্টারবিহীন হলেই ভালো হতো। এটা ঠিক হয়নি। আমি সবাইকে অনুরোধ করবো প্রার্থীদের,তারা যেনো দেয়ালে লাগানো পোস্টারগুলো তুলে নেয়।

ব্যাপক ব্যানার,পোস্টারিং করে শহর অসুন্দর করায় ব্যথিত রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরীও। তিনি বলেন, এই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব শুধুই পৌরসভার নয়,প্রতিটি নাগরিকের। অটোরিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দকে এই বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার ছিলো। আমি তাদের প্রতি বিনিত অনুরোধ করছি,যাতে নির্বাচন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই যেনো এসব পোস্টার ব্যানার তারা নিজ উদ্যোগে অপসারণ করে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button