ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

যেখানে থমকে যায় পথও

পর্যটন শহর রাঙামাটি এখানকার মানুষের চলাচলের একমাত্র বাহন অটোরিক্সা। রাঙামাটি যানজটমুক্ত শহর হিসেবে পুরো বাংলাদেশে সুনাম রয়েছে। যে কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যই শহরের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌছানো সম্ভব কারণ যেখানে গোটা দেশ যানজটের জন্য অনেকখানি সময় রাস্তায় পার করতে হয় সেখানে বিনা যানজটেই চলাচল করে রাঙামাটির বাসিন্দারা।

পর্যটকরা যখন রাঙামাটি আসেন তখন তারা যাতায়তের জন্য বেশ ফুরফুরে অনুভব করেন কারন এ শহরে নাই কোন যানজট। তবে আস্তে আস্তে রাঙামাটির সে সুনাম হারানোর পথে। রাঙামাটি বিভিন্ন রাস্তায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিকভাবে চললেও বনরূপার চার রাস্তার মোড়ে গাড়ি প্রায় নিয়মিত ভাবেই থামতে হয় এবং প্রায় সময় যানজট লেগেই থাকে এ স্থানটিতে। রাঙামাটির প্রাণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত স্থানীয় ও পর্যটকদের কাছে বনরূপা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে বনরূপা বাজার বা সমতা ঘাট এলাকা আরেকদিকে ফরেস্ট রোড। প্রতিদিন এই মোড়ে গাড়ির জট লেগেই থাকে তার জন্য অবশ্য নানা কারণকে দায়ী করছেন স্থানীয় পথচারী ও যাত্রীরা। অনেকে মনে করেন ট্রাফিক আইন না মেনে যত্রতত্র গাড়ি রাখার কারনে অহেতুক যানজট তৈরি হয় বিশেষ করে সিএনজি চালকরা যাত্রী উঠা নামানোর জন্য এ ব্যস্ততম সড়কে দাঁড়ানোর কারণে কৃত্রিম জট তৈরি হয়, অনেক সময় রাস্তার পাশে না দাঁড়িয়ে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠেনো নামানো করা, অন্যদিকে পুলিশ বক্সের পাশে গাড়ির জন্য রাঙামাটি পৌরসভার নির্মিত গাড়ির স্ট্যান্ডে সিএসজি না রেখে রাস্তায় রাখার কারণেও যানজট হয় অবশ্য রাঙামাটির প্রাণ কেন্দ্র বনরূপায় মানুষের চাপ বেশি থাকার কারণেও জট হয় বলে মনে করেন অনেকে।

সাপ্তাহিক হাটের প্রায় পুরোটাদিন এ মোড়ে যানজট লেগেই থাকে। এক্ষেত্রে সিএনজি চালকদের ট্রাফিক আইন না মানা ও যাত্রী বেশি নেয়ার প্রবণতার কারণেও জট হয় বলে মনে করেন।

বনরূপার মোড়ের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬ থেকে ৭জন ট্রাফিক পুলিশ সদস্য নিয়মিত নিয়োজিত থাকে আছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স। তারপরও নিয়মিত যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য অবশ্য অনেকে দোষ দিচ্ছেন ট্রাফিক যানজট নিরসনের চেয়ে বাইরের নাম্বার প্লেট আছে তেমন সিএনজি, ট্রাক, মিনিবাস গাড়ির দিকেই নজর থাকে। এতেই ট্রাফিক পুলিশের লাভ বলে মনে করেন অনেকে।

স্থানীয় শুভাশিস চাকমা বলেন, বনরূপা বাজারে ঢুকতে আর বের হতেই অনেক কষ্ট তার ওপর বনরূপার মোড়ে সব সময় গাড়ির ঝটলা পাবেন। ট্রাফিক আছে তারপরও যানজট থাকবে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ট্রাফিক সদস্যদের অনেককে দেখি উল্টাপাল্টা গাড়ি রাখছে যাত্রী তুলছে নামাচ্ছে সেদিকে নজর না দিয়ে ওনারা নজর রাখে বাহিরের নাম্বার আছে তেমন গাড়ির দিকে।

রাঙামাটি পৌরসভার নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এম জিসান বখতেয়ার বলেন, বনরূপার যানজটটা খুবই দুঃখজনক। যানজটমুক্ত শহর হিসেবে যে সুনাম আছে তা অক্ষুন্ন রাখতে হবে এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।

রাঙামাটি ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো: ইসমাইল বলেন, আমাদের দায়িত্বে কোন অবহেলা নাই আমরা চেষ্টা করছি যানজট নিরসনের জন্য। গাড়ির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে তাই কিছুটা জট হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − seven =

Back to top button