ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

মেয়ে নিয়ে বিরোধে দফায় দফায় সংঘর্ষে ছাত্রলীগ !

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সরকারী ডিগ্রি কলেজে মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগের বিরোধ এখন প্রকাশ্য সংঘর্ষে রুপ নিয়েছে। গত দুইদিনে সংঘর্ষ হয়েছে ৫ দফায়, আর তা ছড়িয়েছে নিজ নিজ গ্রামে। আর এসব ঘটনায় এলাকা বিবেচনায় নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের অধিকাংশরাই এখন দুইভাগে বিভিক্ত হয়ে রয়েছে মারমুখি অবস্থায়। অপরদিকে উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা দাবী করেছেন, ঘটনার সাথে জড়িতরা কেহ ছাত্রলীগের কমিটিতে নেই; তারা নিজেদের ছাত্রলগি দাবী করে অপকর্মে জড়িত রয়েছে।

সর্বশেষ গতকাল (মঙ্গলবার) দুপুরে একই সংঘর্ষে কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং ছাত্রলীগকর্মী সাদিকুর রহমান জুয়েলের বাম চোয়াল ভেঙ্গে যাওয়ায় তাঁকে স্থানান্তর করা হয়েছে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
ছাত্রলীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমরানের নামে শনিবার ইভটিজিং মামলা হয় দীঘিনালা থানায়। নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্যক্ত করার ঘটনায় এ মামলা হলে ইমরানকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ। এর দুই দিন পর সোমবার প্রথম বর্ষের আরেক ছাত্রলীগের সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সোহাগের সাথে আরেক ছাত্রীকে নিয়ে বাকবিতন্ডা থেকে মারামারি সৃষ্টি হয় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগকর্মী শফিকুলের। এক পর্যায়ে সোহাগকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে দাবী সোহাগের। এর জের ধরে একই দিন কলেজ ছুটির পর বেতছড়ি এলাকায় বাড়ি যাওয়ার পথে মধ্যবেতছড়িতে সোহাগসহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা শফিকুলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধোর করে। তখন শফিকুলসহ কয়েকজন আহত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় পরদিন মঙ্গলবার আবার কলেজে গেলে সোহাগ এবং তার সহযোগীদের ওপর চড়াও হয় শফিকুলসহ তার সহযোগীরা। আবারো একই কায়দায় কলেজ থেকে ফিরার পথে কালাচাঁদ মহাজন পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধোর করা হয় আব্দুল্লাহ ও মামুনসহ কয়েকজনকে। এসময় গুরুতর আহত হয় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাদিকুর রহমান জুয়েল। জুয়েলের বাম পাশের চোয়াল ভেঙ্গে যায়।

দন্ত চিকিৎসক মো. সেলিম জানান, জুয়েলের চোয়াল ভেঙ্গে গুরুতর আহত অবস্থায় ঝূঁকির মধ্যে রয়েছে। জেলা সদরেও তাঁর চিকিৎসা সম্ভব নয়; তাই জুয়েলেকে দ্রুত চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীঘিনালা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন জানান, মেয়ে সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে কলেজ ছাত্রলীগের ছেলেদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে বলে তিনি জেনেছেন। বিষয়টি উপজেলা শাখার ছাত্রলীগ কমিটিকেও জানানো হয়েছে,এখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নিবেন।

অপরদিকে উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. মাহবুব আলম জানান, ঘটনার সাথে জড়িতরা ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গালেও তাদের কেহ ছাত্রলীগের অনুমোদিত কোন কমিটিতে নেই। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম চন্দ্র দেব জানান, ইভটিজিং এর মামলার কারণে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পরের কোন ঘটনা কোন পক্ষ্য পুলিশকে জানায়নি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button