ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

মেয়ের বাল্য বিয়ে ,অভিমানে মায়ের আত্মহত্যা !

নিজের নাবালিকা মেয়ের সাথে ভাগিনা লাবলা মিয়ার (২২) বিয়ে মেনে নিতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে জামেলা বেগম (৩৫) নামের এক মা। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বগাচত্বর ইউনিয়নের বৈরাগীবাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার রাতে গোপনে ৭ম শ্রেণি পড়–য়া মেয়ের সাথে তারই খালাতো ভাই লাবলা মিয়ার বিয়ে দেন জামাল উদ্দীন। এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ে নিয়ে স্বামী স্ত্রীর কলহ চলছিলো দুদিন যাবৎ। শুক্রবার সকালে নববধুকে নিয়ে কর্মস্থল ঢাকায় চলে যান লাবলা মিয়া। এরপর দুপুরে জামেলা বেগম ঘরে রাখা ফসলের বিষ খেয়ে অসুস্থ হলে স্বজনরা উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামেলা বেগমকে মৃত ঘোষনা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফকরুল ইসলাম বলেন, ‘মুমুর্ষূ অবস্থায় দুপুর ২ টার দিকে বিষপান করা জামেলা বেগমকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়িতে রেফার করা হয়। রোগীর স্বজনরা খাগড়াছড়ি না নিয়ে স্থানীয় বেসরকারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হলে আবারো আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসলে তার মৃত্যু হয়। এরপর রোগীর স্বজনরা আমাদের উপর ক্ষুব্ধ হলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। মৃতদেহ এখনো ( সন্ধ্যা ৭টা) হাসপাতালে পড়ে আছে স্বজনদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

বগাচত্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম সেন্টু জানান, ‘ মেয়ের বাল্য বিয়ে নিয়ে অমত ছিলেন মা জামেলা বেগম। এ নিয়ে স্বামী জামাল উদ্দীনের সাথে পারিবারিক কলহের কারণে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন জামেলা বেগম।’

বাল্যবিয়ের সহায়তাকারী স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ ঘটনায় লংগদু থানা পুলিশের দুজন কর্মকর্তাসহ একটি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। অথচ লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার সামন্ত বলছেন এ বিষয়ে তিনি শুধু শুনেছেন। পরিবারের পক্ষ হতে কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − 7 =

Back to top button