ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

মৃত্যুর মিছিলে ফের অশান্ত পাহাড়

আঞ্চলিক রাজনীতির দ্বন্দ্ব ও ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) সহসভাপতি শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে হত্যার ২৪ পেরোতোই লাশ হলেন আরও ৫ জন। শুক্রবার নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদান করতে রওনা হন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক-এর আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ আরও ১১-১২ জন সহকর্মী।

শুক্রবার দুপুরে নানিয়ারচর এলাকার ক্যাংড়াছড়ি-বেতছড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক-এর আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরফে বর্মাসহ ৫ জন। এ ঘটনায় আরও ৭জনকে খাগড়াছড়ি হাসপাতাল নেয়া হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা পরিষদের সামনে দিনের উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমাকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় তার সহকারী ও উপজেলা জনসংহতি সমিতির নেতা রুপম চাকমাও আহত হন। শক্তিমানের মৃত্যুর ঘটনায় ইউপিডিএফকে দায়ী করে বিবৃতি দেয় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা)।

আঞ্চলিকদলের এই নেতা হত্যার পর তার দাহাক্রিয়া অনুষ্ঠানে রওনা দেন গত বছরের শেষের দিকে প্রতিষ্ঠিত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এর আহবায়ক তপন জ্যোতি চাকমা ওরেফে বর্মাসহ কয়েকজন রাজনৈতিক সহকর্মী। অনুষ্ঠানে যোগদানের পথে মাইক্রোবাস চালকসহ নিহত হন তারা ৫ জন।

১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিকে কেন্দ্র সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি ভেঙে প্রসীত খীসা নেতৃত্বাধীন ইউনাইঢেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ঘঠিত হয়। এরপর ২০১০ সালে রাজনৈনিক বিরোধে আবারো ভাঙন দেয় যায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির। এসময় সুধাসিন্দু খীসা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতিকে (এমএনলারমা) নামে গঠিত হয়। এতে যোগ দেন শক্তিমান চাকমাও। তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন।

গেল বছরের নভেম্বরে খাগড়াছড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন দলের আর্বিভাব করেন তপন জ্যোতি চাকমা ওরেফে বর্মা। তার নেতৃত্বে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক গঠন করা হয়। এ নিয়ে চারটি সংগঠনের ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতে প্রতিনিয়ত ঝরছে রাজনৈতিক কর্মীদের নাম। সব নিয়ে পার্বত্য রাজনীতি আবারো অশান্ত হয়ে উঠেছে।

পাহাড় থেকে এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দাবি জানিয়ে আসছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, ‘এখনই সময় পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। শক্তিমান চাকমা আমাদের কেউ নয়। আমরা চাই পাহাড়ে যেন অস্ত্রের ঝনঝনানি না থাকে। সশন্ত্র সংগঠনগুলো প্রতিনিয়ত মায়ের বুক খালি করছে।’

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (এমএনলারমা) তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, গতকালকে শক্তিমান চাকমা ও আজকের ৫ জন নিহতের ঘটনা ইউপিডিএফই ঘটিয়েছে। আর আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ। এখন আর এসব কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুপের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরণ চাকমা বলেন, গত দুইদিনের ঘটনার সাথে আমাদের কোনও সম্পৃক্ততা নেই। একটি মহল পার্বত্য চট্টগ্রামকে অশান্ত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। আমাদের কাজতো মানুষ মারা না। ইউপিডিএফ মানুষ হত্যার রাজনীতি করেনা।

রাঙামাটির স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহ-সভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেন, পাহাড়ে তো সমতলের চেয়ে ভিন্ন ব্যাপার-স্যাপার আছে। সরকারের উচিত অচিরেই পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন করা। পার্বত্য চুক্তিকে মূলার মতো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যার কারণে বিভিন্নজন বিভিন্ন দাবি নিয়ে নতুন দল গঠন করছে। তাই সরকারকে চুক্তি বাস্তবায়ন করে সুযোগবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। আমরা চাই অচিরেই যেন পার্বত্য জেলা পরিষদ গুলো আঞ্চলিক পরিষদের ক্ষমতায়নে থাকে।

রাঙামাটির পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যার পর আরো কয়েকজনের লাশ পড়লো। আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button