নীড় পাতা / ফিচার / ক্যাম্পাস ঘুড়ি / মুগ্ধতার দিনে বিষাদের সুর
parbatyachattagram

মুগ্ধতার দিনে বিষাদের সুর

প্রতিদিনই কলেজে এসে দেখা মিলতো যে চেনামুখগুলোর, ক্লাসে সময় কাটতো ঘন্টার পর ঘন্টা আর ক্লাস শেষে মাঠে বা ক্যান্টিনে কথা হতো অবিরাম। সেই প্রিয় চেনামুখগুলোর সাথে আর প্রতিদিন দেখা হবে না; কথাও হবেনা ঘন্টার পর ঘন্টা। দেখতে দেখতে যেনো চোখের পলকে চারটি বছর কেটেই গেলো। প্রাণের ক্যাম্পাস আর প্রিয় ক্লাস রুমে কাটানো মুহুর্তগুলো চাইলেও যে ভুলতে পারবেনা কখনো। কিন্তু জগতের অঘোম নিয়ম নতুনদের জায়গা করে দিতে প্রিয় সেসব ব্যাঞ্চ ছেড়ে দিতে হবে। সময় ও জীবনের প্রয়োজনে নতুন ঠিকানায় পাড়ি দিতে হবে তাদেরকেও। আর তাইতো দীর্ঘদিনের বন্ধু আর প্রিয় শিক্ষকদের নিয়ে ক্যাম্পাসেই আয়োজন করে সমাপনী দিনের বর্ণাঢ্য আয়োজন। মুহুর্তটাকে রঙিন করে তুলতে টি-শার্টের গায়ে লিখে দেয় আবেগময় বুলি-‘হাজারো হিসাবের ভীড়ে আমাদের সোনালী গল্প’। আর প্রত্যেকের টি-শার্টের গায়ে বন্ধুরাও ভালবাসার স্মৃতিকথা লিখে দেয়। একে অপরের গায়ে রঙ ছিটিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ-উল্লাসে কাটে তাদের সারাটি দিন। রাঙামাটি সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের অনার্সের শিক্ষার্থীদের সমাপনী দিনেই ছিল এসব বর্নিল আয়োজন।

দিনের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বের করে বর্ণাঢ্য র‌্যালী। তাদের সাথে যোগ দেন কলেজের শিক্ষকগণও। প্রিয় ক্যাম্পাসে হাতে হাত ধরে আরেকবার হাঁটে তারা। র‌্যালী শেষে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে করে বৃক্ষরোপন। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ মঈন উদ্দিন। শিক্ষার্থী মৌসুমী ও আনু রাখাইনের উপস্থাপনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার কবির, ইংরেজি বিভাগের আবুল হাশেম, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, আশিকুজ্জামান প্রমুখ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কাজল চক্রবর্ত্তী ও নাসরিন আকতার।

আলোচনা সভা শেষে শিক্ষকদের নিয়ে কেক কাটে তারা। প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করে বিগত চারটি বছরের স্বরণীয় মুহুর্তগুলোর স্থিরচিত্র। এরপর সুমির নাচ আর সম্মিলিত কন্ঠে গাওয়া গানের তালে তালে আরেকবার উল্লাসে ফেটে পড়ে সকলে। দিনটিকে স্বরণীয় করতে টিনা, অর্নব চাকমা, পাপিয়া, ওয়ালিদ, স্বপন ভান্তে, সোহেল রানা, শান্তা বড়ুয়া, নারগিছ, মুক্তা আর বাপ্পিদের প্রচেষ্টারও যেনো কমতি ছিল না। তাইতো আগেরদিনেই মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়ে তুলেছে প্রিয় ক্লাসরুমটি। ক্যাম্পাস জুড়ে আনন্দে নেচে গেয়ে আর একজন আরেকজনের গায়ে রঙ ছিটিয়ে প্রানবন্ত করে তুলে পুরো আয়োজন। সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার আগেই শেষ করে দিনের সকল আয়োজন। বিদায়ের বেলায় আবেগতাড়িত হয়ে জড়িয়ে ধরে একে অপরকে। বিদায় নিতে না চাইলেও যে বিদায় নিতে হবে। সময় যে ফুরিয়ে এলো। নতুন দিনের সূর্য হাতছানি দিয়ে যে তাদের ডাকছে। আবারো দেখা হবে কারণে-অকারণে অনলাইনে-অফলাইনে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রামগড় চা বাগানের ভোগ দখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ

বংশ পরস্পরায় শ্রমিকদের ভোগদখলীয় জমি কেড়ে নেওয়ার হুমকির মুখে রামগড় চা বাগানের পঞ্চায়েত নেতৃবৃন্দ ও …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × three =