করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

মুখর লঞ্চঘাটে সুনসান মৌনতা

প্রতিদিন কাকডাকা ভোর হতেই হাজারো মানুষের পদভারে মুখর হতো যে লঞ্চঘাট,সেই লঞ্চঘাটে কেউই নেই এখন ! সুনসান মৃতপুরি যেনো ! কোভিড-১৯ এর প্রভাবে যেনো একেবারেই এলোমেলো পার্বত্য শহর রাঙামাটির সবচে ব্যস্ততম ঘাটটি। অথচ এই ঘাট থেকেই প্রতিদিন অন্তত ৩০ টি লঞ্চ ছেড়ে যেতো জেলা শহর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় আবার উপজেলা থেকেও আসতো এসব লঞ্চ যাত্রী নিয়ে। যাত্রী, কুলি,লঞ্চ কর্মচারি শ্রমিক,হকারের পদচারণায় দিনভর মুখর সেই ঘাটে এখন কোথাও কেউ নেই !
রাঙামাটি জেলা সদরের সাথে ১০উপজেলার ছয়টি তেই যোগাযোগের মাধ্যম নৌপথ। কোভিট ১৯ করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রোধে সরকারী সাধারণ ছুটিতে জনগণ এক স্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর হতে না পাড়ার জন্য সারাদেশে যাত্রীবাহী নৌ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে সবসময় জনসমাগমে গমগম করা রাঙামাটির রিজার্ভ বাজারে অবস্থিত লঞ্চঘাটটিতে এখন শুধুই সুনশান নীরবতা।
গত দুইদিন সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চঘাটটিতে উপজেলা থেকে কোন লোকজন আসছেন না। যাও দুই একজনের দেখা পাওয়া যায়,তারাও শুধু মাত্র বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত বোট চালক। এর বাইরে শহরের অদুরে যেসব সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে তাতে বসবাস করা কয়েকজন, তাদেরও দ্রæত জরুরী খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে ফিরতে দেখা যায় নিজ নিজ গৃহের পথ ধরে।
অন্যবছর গুলোকে এই সময় চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিজু, সাংগ্রাই, বৈশাবি সহ নানা উৎসব পালনের জন্য উপজেলাগুলোতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মালামাল যেতো নৌ-পথে লঞ্চ, বোটে করে।
কিন্তু করোনার প্রকোপে এই বছর সে আনাগোনার ছিঁটে ফোটাও নেই লঞ্চঘাটটিতে। তার সাথে সাথে জেলা সদরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ে যেমন ভাটা পড়েছে, তেমনি বেকার হয়ে পড়েছে তিন শতাধিক লঞ্চ চালক ও শ্রমিক। শুধু তাই নয় নৌ-পথে চলাচল করা বোট মালিক শ্রমিকরাও পড়েছে বিপাকে।
লংগদুর মালবাহী বোট শ্রমিক মো. রফিক জানান, আমরা শুধুমাত্র মালামালগুলো নিয়ে যাচ্ছি বোটে করে। যাতে উপজেলার মানুষের খাদ্যভাব না হয়। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা কোন যাত্রী পরিবহন করছি না।
রিজার্ভবাজারে কাপ্তাই লেকের ধারে বসে থাকা বোট শ্রমিক সোহেল জানান, এখন সব বোট চলাচলও বন্ধ কখন খুলবে তাও নিশ্চিত হয়ে বলতে পারছি না। আমার একমাত্র আয়ের পথটি বন্ধ। প্রশাসনের কিছু সাহায্য পেয়েছি। তা দিয়ে আপাতত চলছে। বিশ^ থেকে এই মহামারির দ্রæত বিদায় হোক এটাই কাম্য। যাতে করে আমরা সবাই আগের মত কাজে ফিরতে পারি।
শুধু শহরের ব্যস্ততম লঞ্চঘাট রিজার্ভবাজারই নয়,করোনা’র প্রভাবে পুরোই বদলে গেছে রাঙামাটির পরিবহনখাত। শহরের একমাত্র যান অটোরিক্সাও নেই সড়কে,বন্ধ বাস লঞ্চসহ ব্যক্তিগত গাড়ীও। খুব বাধ্য না হলে মোটরসাইকেল আরোহিরাও বের হচ্ছেন না আসা থেকে। এক ভাইরাস কতভাবেই না বদলে দিচ্ছে মানুষের জীবন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button