খোলা জানালাব্রেকিংলিড

মা

“উফ মা ,তুমি কিচ্ছু বুঝোনা।বুঝবেনা এসব তুমি!”
প্রতিউত্তরে মায়ের কিছু বলার থাকে না,মা ধরেই নেই আসলেই হতো আমি কিছু বুঝিনা!সন্তানেরাতো বড় হয়েছে এদিক ওদিক যায় এটা সেটা দেখে শুনে জানে য়ার এইযে ফোনের মধ্যেই কত কি এসব আর আমাদের যামানায় কই ছিলো!আমরা আর কিইবা জানবো!তার চেয়ে আমি বরং যাই অবেলার চালটা চুলোয় দেই।ছেলেটা আবার বেশী গরম ভাত খেতে পারেনা।ও ফিরতে ফিরতে ভাত টা না হয় আবার ঠান্ডা হবেনা।
মা মলিন চোখে ধীর পায়ে রুম থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে আনমনে ভাবে এতসব।
মেয়েটার বান্ধুবির জন্মদিন ।সেই পিচ্চি বেলা থেকে বড় হয়েছে দুজনই একসাথে।একসাথে বাড়ীর উঠোনে খেলা স্কুলে ভর্তি হওয়া একসাথে ফেরা ।সেই বাচ্চাবেলার বান্ধুবী।মেয়েকে নাতো আর করতে পারিনা।রাতে ওখানেই থেকে যাবে বললো।মফস্বলের ছোট্ট শহর মেয়েটাকে নিয়ে মায়ের ভয় একটু বেশি।মেয়েটা চোখে কাজল পড়েনা কিসব রঙ্গিন রঙ্গে জড়ায় চোখ।মায়ের পুরনো শাড়িটা জড়িয়েছে মেয়ে,শখের বসে।এই শাড়ির গল্প ত্রয়ী জানে,বাবা বেতন পেয়ে মায়ের জন্য কিনে নিয়ে এসেছিলো,সে সময়কার কাতান।আজকাল নাকি মায়ের পুরনো শাড়ি পড়ারও কিসব ট্রেন্ড চলে।মায়ের খুব শখ ছিলো এই শাড়ি পরে চোখ ভর্তি কাজল পরে বাবার সাথে একদিন ঘুরতে বেড়ুবে।বাবার ব্যস্ততা আর মায়ের ঘর সংসার সময় সুযোগ হয়নি কখনো!সন্তানদের রেখে একা একা কি আর বের হওয়া যায়।পারিবারিক অনুষ্ঠানে শাড়িটা পড়া হয়েছিল এক কি দুবার কিন্তু ওই চোখ ভর্তি কাজল আর পরা হয়নি।লোকে কি বলবে,সন্তানেরাও বড় হচ্ছে।ঘরভর্তি এত মানুষ ব্যস্ততা আপ্যয়নের ফাঁকে কোনমতে শাড়িটা জড়িয়েছিল গায়ে,ওইটুকুই। আর ওতকিছু করার সময় কই!এসব গল্প মেয়ের খুব জানা,মায়ের মুখেই।মায়ের শখের শাড়ি কিনবা বাবার বেতন পেয়েই শখে কিনে আনা প্রথম শাড়ী।প্রথমের আবেদন ভিন্নই হয়,সে এবেলা বেলা হোক কিনবা মায়ের বেলা।
মেয়েটা বলে রেখেছিলো।শাড়িটা পড়বে একদিন।বান্ধুবীর জন্মদিনেই শখ হলো।আমার কি আর এখন, আমার যা কিছু সবতো মেয়েই।মেয়ে একা শাড়ি পড়তে শেখেনি,কি দরকার আমি আছিতো মেয়ের জন্য।মেয়ে সন্ধ্যেয় বেরুবে মা জানে মেয়েকে শাড়ি পড়াতে হবে মা আগে এসেই রুমে বসে আছে।শাড়ি পরিয়ে দিয়ে চেয়ার টেনে মা বসেছে ,মেয়ের তৈরি হচ্ছে।কিসব জানি মাখে ওরা মুখে।কত কি।মেয়েটাকে বেশ সুন্দরও লাগে।মেয়ে বাবার গায়ের শ্যামফর্সা বর্ণ পেয়েছে।সাজতে পছন্দও করে খুব।আমাদের সময়তো সেই কাঁঠাল পাতায় কেরোসিন বাতি পুড়িয়ে বোনা কাজল আর তিব্বত স্নো।এইতেই বেলা শেষ।মেয়েটা সব পরে কিন্তু কাজল পড়ে না।ভালোলাগেনা তার।অথচ মেয়েটা চোখ ভর্তি করে কাজল পড়লে মেয়েটাকে অসম্ভব সুন্দর লাগবে আমি জানি।মেয়ে পছন্দ না করলে আমিতো আর জোর করতে পারিনা,আমার বেলা আর ওর বেলা কি আর এক হলো।
কমলা রঙের কাতানে মেয়েটকে কি সুন্দর দেখাচ্ছে।বলেই বসলাম,চোখে একটু ভর্তি করে তোকে কালো কাজল পরিয়ে দেই?
মেয়ে এমন বাঁকা চোখে তাকালো।মা-কাতান আবার রাতের প্রোগ্রাম শুধু কালো কাজল পড়লে আমাকে কেমন ব্যকডেটেড লাগবে জানো!মায়ের মনেহলো আরেকবার বলি,শোন চোখ ভর্তি কালো কাজলে তোকে বেশ মানাবে ভালো দেখাবে আমি বলছিতো।
উফ মা ! তুমি কিচ্ছু বুঝোনা।বুঝবেনা এসব তুমি!যাওতো দেরী হচ্ছে আমার আমি চোখে শ্যাডো টা দিয়ে নেই।বের হবো………
#একাই যাবি?সন্ধ্যে হয়ে এলোতো।
মাআআআ!একা কেন যাবো।তোমাকে বলেছিলাম না আরো দুইটা ফ্রেন্ড আছে ওরা আমাকে পিক করবে।
ওহ হ্যা বলেছিলিতো,ভুলে গিয়েছিলাম।
আজকাল তুমি সবকিছু ভুলে যাও ,মা!!
আচ্ছা গেলাম।রাতে ফিরবোনা বলেছিলাম,মনে আছে নাকি তাও ভুলে গেছ?
না নাহ সে কথা মনে আছে।আচ্ছা সাবধানে যা।

#
রণ,ছেলেটা কবি সাহিত্যিক টাইপ কিসব লিখে সারাদিন।আড্ডায় বসেও লিখেই যাচ্ছে।কি হবে এত লিখে কে জানে!জিজ্ঞেস করলাম কি লিখিসরে এত?
-কালকের জন্য একটা ছোট গল্প লেখার চেষ্টা করছি অনেকদিন ধরে ।আসলে বিষটা এত বিস্তৃত এটাকে ছোট গল্প কি করে বানাই!
-কালকের জন্য!কালতো রবিবার ,কালই দেয়ার কি আছে পরে দিস আপাতত বন্ধুদের আড্ডায় মন দে।
-কি বলিস!নাহ নাহ আমি কালই দিতে চাই ,এটা আমার মায়ের জন্য সারপ্রাইজ গিফট।জানিসতো আমার মা আমার লিখা পড়তে খুব পছন্দ করে,মূলত আমার এত লিখালিখির চেষ্টা সব মায়ের জন্যই।হাই পাওয়ারের চশমা চোখে,পত্রিকার অক্ষর পড়তেও কষ্ট হয়ে যায়।তবুও অধীর আগ্রহে থাকে কখন আমার লিখা আসবে ,পড়বে।সারাদিনের সাংসারিক ব্যস্ততা থেকে ঠিকই সময় বের করে নেয়।মায়ের এই এত এত আগ্রহটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা জানিস।পত্রিকায় আমার নাম দেখে মায়ের চোখের প্রশান্তি আনন্দ এরচেয়ে বড় সুন্দরতা আমি আজ অব্দি কিছু দেখিনি।লেখালেখি আমাকে কি দিবে কতদূর নিয়ে যাবে আমি জানিনা,আমি শুধু জানি আমার মায়ের প্রশান্তি আমার মায়ের আনন্দ আমার লেখা।জীবনের এই বয়সে এসে আমি অন্তত মাকে একটা প্রশান্তি দিতে পারছি,এটাই অনেক কিছু আমার জন্য,নতুবা মায়ের জন্য কিইবা করতে পেরেছি আর।অথচ মানুষটা তার আস্ত জীবনটাই দিয়ে গেলো আমাদের মানুষ করতে।
এইযে মায়ের প্রেরণায় আমি ছুটি লিখি,অথচ আজ অব্দি মায়ের জন্য লিখিনি কিছুই!কালকের এই সুযোগটা আমি হারাতে চাইনা।তোরা আড্ডা দে আমাকে লিখাটা এক ঘন্টার মধ্যে পাঠাতে হবে ,নয়তো আবার কালকের পত্রিকায় ধরবে না।মাকে সারপ্রাইজ দেয়ার এই সুযোগ আমি হারাতে চাইনা।এমনিতে সারাদিন ভর লিখছি ডিলেট করছি অনেক সময় গেলো,যাই লিখি যেভাবে লিখি কম মনেহচ্ছিলো!তা তোর কি প্ল্যান?মায়ের জন্য ঘটা করে মনে রেখে একটা দিনইতো পাই একটু ভিন্নভাবে প্রকাশ করতে।
-আমার প্ল্যান!আমার প্ল্যান হবে কেন?কাল কি?আমিতো ভাবলাম আন্টির জন্মদিন বুঝি।
-কাল মা দিবসরে বোকা।এমনিতে না হয় জানিসই না বুঝলাম।কিন্তু সারাদিন যে ফেসবুকে পড়ে থাকিস সেখানেতো শ’য়ে শ’য়ে মা দিবসের বিজ্ঞাপন ঘুরে তাও চোখে পড়েনা নাকি তোর!
ত্রয়ী খানিকটা লজ্জা পেলো!আসলেইতো তার চোখে পড়েনি,কিনবা তার নিজেস্ব গ্রুপ পেইজের ভীড়ে ওসব আসলে হারিয়েই যায়।
হঠাৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো সে আড্ডা থেকে।মন ফিরে গেছে ফেলে আসা বিকেলে,মা তো কেবল চেয়েছিলো আমি একটুখানি কাজল পড়ি।এই রণ ছেলেটা মেধাবী ছাত্র গত বছর স্কলারশীপটা ছেড়ে দিয়ে এই ছোট্ট মফস্বলেই পড়ে আছে মায়ের সাথে থাকবে বলে আর এইযে লেখালিখিটা কেবল মায়ের প্রশান্তির জন্যই।আমার মা’তো কেবল আমার চোখে কাজল টুকুই দেখতে চেয়েছিলো,কি জানি হয়তো আমার মাঝে নিজের অপূর্ন শখ খুঁজছিলো।ঘোর কাটলো বেজে উঠা সেলফোনের শব্দে।আর কে!মা।পৌঁছে জানাতে বলেছিলো,ভুলে গেছি বেমালুম।অথচ মা হয়তো ভুলেনি কোনদিনই আমি ঠিকঠাক পৌঁছালাম কিনা জানতে ফোন করা।অথচ মা প্রতিনিয়ত কত কি ভুলে যায়।
বান্ধুবীর জন্মদিনের কেক কেটেই তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে পড়েছে ত্রয়ী।আজ তার অনেক কাজ ,ঘড়ির কাটায় দশটা ছুঁইছুঁই ।এই মফস্বলে অনেক রাত এটা,ক’টা দোকান খোলা পাওয়া যায় কে জানে!কিন্তু আমার কিছু জিনিস চাই চাই।বন্ধুরা সাথে যেতে চেয়েছিলো,নাহ আজ কাউকে সাথে নিবোনা।আজ সব আমি একা করবো।
একটা সিএনজি ঠিক করে পুরো শহর হন্ন হয়ে এই মুহুর্তে সে খুঁজে বেড়াচ্ছে কাজল একটা কালো কাজল,যেটা চোখে খুব গাড় কালো রঙ্গে জড়াবে।আর এক গোছা বেলী।মায়ের ফুল খুব পছন্দ।ফুল কিনতে যেয়ে মনে হলো মায়ের ফুল পছন্দ জানি কিন্তু কোন ফুল মায়ের প্রিয় তাতো জানা হয়নি কখনো!মায়ের কাছে শুনেছি মায়ের খুব দীঘল কালো চুল ছিলো,আমার নানী সবসময় ঘরে তৈরি করা নারিকেল তেল নিয়ম করে মায়ের মাথায় দিয়ে দিতেন।আমি তেল দিতে চাইনা বলে কত কি বলে শুনাতো মা।বয়সের ভাড়ে মায়ের সে দীঘল চুল আগের মত দীঘল নেই যদিও তাও যা আছে ,মাশআল্লাহ।আচ্ছা বাবা কি কখনো মাকে বেলি কিনে দিয়েছিলো।চুলে পড়তে ,সেটাও জানিনা।তবে আমি নিয়ে গেলে মা অবশ্যই পড়বে আমি জানি।ফুলটা পেতেও কষ্ট হলো,দোকানের একটা সাঁটার দেয়া বাকি লোকটাকে অনেক বলে কয়ে একটা বেলীর মালা পাওয়া গেলো।কাজল পাচ্ছিলাম না।শহরের একদম শেষ মাথায় একটা ছোট্ট কসমিটেকসের দোকানে একটা বাটির কাজল পাওয়া গেলো।ছোট্ট বক্সের ভেতর কাজল,দোকানী জানালো এটা নাকি আংগুল দিয়ে লাগাতে হয়।ছোট্ট বাচ্চাদের কপালে টিপ পড়ায় মূলত আজকাল এটা দিয়ে।এটা কিভাবে পড়বো তাতো জানা নেই,তবুও আজ আমি চেষ্টা করবোই।এটার গল্প শুনেছিলাম মায়ের কাছে।এমন আংগুল দিয়ে কাজল পড়ার গল্প।সে কাজল বেশীরভাগ সময় শেষ হত আমার কপালে টিপ গুজেই।আমাকে চব্বিশ ঘন্টা কালো কাজলের টিপ পড়িয়ে রাখতো মা কারো নজর যেন না লাগে।
কাজল হলো ফুলও হলো,ফিরতে ফিরতে কেকের দোকান পড়লো সামনে।খাবারের দোকান নর্মালি একটু দেরিতেই বন্ধ হয়।তবে কেক পাওয়া যাবে কিনা নিশ্চিত নই।দোকানের শেষ কেকটাই সম্ভবত অপেক্ষা করছিল আমার জন্য।ভালোবাসি মায়ের নিচে ছোট্ট করে স্যারি লিখে নিয়ে টাকাটা দিয়ে বেরিয়ে পড়েছি।ভাগ্যিস গাড়িটা ছাড়িনি,নয়তো এত রাতে এই শহরে গাড়ি পাওয়া মুশকিল।
মা একবারো ফোন করেনি।ভাবছে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি।বন্ধুদের আড্ডায় থাকলে ফোন দিলেই যে বিরক্ত হতাম।অথচ মা যদি জানে তার মেয়ে এই রাত বিরাতে শহর চষে বেড়াচ্ছে মা নিজেই ঘর থেকে বের হয়ে আমার কাছে চলে আসতো।মায়েরা এত বোকা।ঘড়ির কাটায় সাড়ে এগারো পেরিয়েছি।বাসায় পৌঁছতে পৌঁছতে বারোটা বাজবে।একদম ঠিকঠাক সময়।গাড়িতে বসে কাজল পড়ার চেষ্টা করলো তিথি বেশ কবার।যা হয়েছে তা আর বলাবাহূল্য।বাসার গলিতে নেমে দুমিনিট হেটে বাসায় পৌছাবে ত্রয়ী।সে হিসেবে পৌছে গেছে পাঁচ মিনিট আগেই।তিনমিনিট সময় কাজলটা আরেকটু ঘষে মেজে ঠিক করার চেষ্টা করলো সে,নাহ এ তার সাধ্যে নেই।অথচ মায়ের কি সুন্দর সুন্দর কাজল পড়া ছবি দেখেছিল সে।
ঠিক বারোটায় কলিং বাজালো সে।মা এসে দরজা খুললো।মা অবাক,এত রাতে তুই তোর না ওখানেই থাকার কথা?কার সাথে এলি?একা এলি কেন?ওরা তোকে নামিয়ে দিয়ে যাইনি কেন?ওখানে কোন সমস্যা হয়েছে?ঠিক আছিসতো তুই? রাজ্যের প্রশ্ন মায়ের।এত প্রশ্নের ভীরে মা খেয়ালই করেনি তার মেয়ে আজ কাজল পরেছে!তার চিন্তা মেয়ে ঠিক আছে কিনা।
সব প্রশ্ন তুড়ি মেরে আমি প্রশ্ন করে বসলাম-মা তুমি ঘুমাও নি কেন এখনো?জানিনা ঘুম আসছিলোনা।বাসাটা খালি খালি লাগছিলো।মনে হচ্ছিলো তুই চলে আসবি বুঝি।মায়েরা কি করে সব আগে আগে বুঝে যায়!
হাতে কেকের প্যাকেট দেখে মা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করছে কিরে ওবাসা থেকে খেয়েও এসছি নিয়েও এসছিস নাকি!এসব কি!আমি হাসলাম।আগে আমায় ভেতরে আসতে দাও মা।
টেবিলে কেকের প্যাকেট রেখে মাকে খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো তিথি।ত্রয়ীর খুব কান্না পেয়ে গেলো আর সাথে মায়েরও চোখে জল।মা তখনো প্রশ্ন করে যাচ্ছে “ত্রয়ী,মা আমার কি হয়েছে তোর”
ত্রয়ী মায়ের মুখ নিজের মুখের সামনে ধরে বললো মা দেখো আমায়।চোখের জলে কাজল একাকার।মা-সে কি এভাবে কাজল পড়েছিস কেন তুই!কেদে কেটে লেপ্টে কি করেছিস চেহারা!
যা মুখ ধুয়ে আয়।
ত্রয়ী-মা,স্যারি!আমি তোমার জন্য কাজল পড়েছি মা।
মায়ের চোখে জল,এটাকে সম্ভবত আনন্দের জল বলে ওইযে রণ বলছিলো।
ধুর পাগলী আমার জন্য কাজল পরবি কেন তোর ভালো লাগলে পড়বি না লাগলে পড়বি না।
মা,এইটুকতো করতেই পারি আমি,তাইনা।
হয়েছে যা এবার মুখে ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নে।
না মা এখন তুমি কেক কাটবে আমি তোমাকে কেক খাওয়াবো তারপর যাবো।
সেকীরে কেক কেন কাটবো।
এমনিই কাটবে আমার শখ হলো তাই।
মায়ের জেদ, ঠিকাছে কাটবো তুই আগে মুখ ধুয়ে আয় তোকে কাজল পড়িয়ে দেই তারপর কাটি।
ত্রয়ী রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে এলো।মুখে কিচ্ছু মাখেনি কিচ্ছু না।মা ওর পিছু পিছু এসে কাজল চেয়ে নিল।কাজলের বক্স দেখে মা অবাক এটা কই পেলি তুই!
পেয়েছি মা।মাকে এখন বলা যাবেনা কিছুই ,টেনশনে মা কেকই কাটবেনা।
মা কি সুন্দর বক্স থেকে আংগুলে কাজল ছুয়ে আমার চোখে লাগিয়ে দিলো কয়েক সেকেন্ডেই!কাজল লাগিয়ে কপালে আলতো চুমু একে দিল।
আয়নায় নিজেকে দেখছি,আশ্চর্য আমি। আমার দামী মেকাপের ভীড়েও আমায় এত সুন্দর কখন লেগেছে বলে মনে পড়ছে না।মায়েরাই কি সবচেয়ে ভালো বুঝে আমাদের আসলে কি সে ভালো লাগে সবচেয়ে বেশী!
আমায়তো কাজল পড়ালে এবার তোমায় আমি একটা জিনিস পড়াই।মাকে ধরে ড্রেসিং টেবিলের চেয়ারে বসিয়ে মায়ের মাথা থেকে শাড়ির আচল সড়িয়ে মায়ের চিরাচরিত খোপায় বেলী গুজে দিলো ত্রয়ী।মায়ের চোখের জল দেখছে ত্রয়ী আয়নায়।সেকি মা কাঁদছো কেন?
আমার মেয়ের প্রথম কাজল দিবসেই আমার চুলে প্রথম প্রিয় ফুল বেলী এলো বলে……
মায়ের জন্য কেক কাটাটা আজই প্রথম হবে সে আমি জানতাম সেজন্যই মনে করে কেকটা আনা ,কিন্তু বেলীর মালা এই প্রথম এবং মায়ের প্রিয় ফুল বেলী সে আমার প্রথম জানা!
খোপায় বেলী গোজা মা আমার আনা কেক কাটছে।গতমাসেই জয়েন করেছিলাম চাকরীটায়।নিজের ছোটখাট চাকরীর স্বল্প আয়ে মায়ের জন্য কেনা।মা হাসছে কিন্তু মায়ের চোখে জল।সে জলও যেন হাসছে,আমার আস্ত জীবনে এই প্রথম আমি আমার চোখের সামনে আস্ত স্বর্গ দেখছি।নিজেকে এত নির্ভার এত সুখী এর আগে কখনো মনেহয়নি আমার। মা কে কেক খাইয়ে দিয়ে মাকে মাতৃত্ব দিবসের শুভেচ্ছা জানালাম।মায়ের বিনিময় চাওয়া “তুই খুব সুখী হ”
আচ্ছা মা গুলো কখনো নিজের জন্য কিছু চায়না নাকি!
ক্লান্তি নয় অদ্ভুত প্রশান্তিতে ঘুম জেকে বসেছে চোখে।
#
মায়ের ডাকে ঘুম ভাংলো সকালে।একটা সুন্দর অন্য সকাল।পত্রিকা পড়ার খুব একটা অভ্যেস না থাকলেও আজ নাস্তা করতে করতেই পত্রিকাটা হাতে নিলাম।রণ লিখে এই পত্রিকায়,আজ রণের লিখা আসার কথা।মা কে নিয়ে রণের লেখা।
পৃষ্ঠা উল্টাতেই পেয়ে গেলাম।
“মা”
……………আমাদের পায়ের জোর মজবুত করতে করতে যে হাড়ে ক্ষয় তৈরী হতে থাকে।আমাদের সুন্দর উজ্জ্বল চকচকে চামড়ার নির্মানে যে চামড়া কুচকে আসে।আমাদের মেধা বুদ্ধিতে শান দিতে দিতে একটু একটু করে যার স্মরনশক্তি কমে আসে।আমাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির সৃষ্টিতে যে চোখে আলো কমে আসে ।আমাদের জনয রাত জাগতে জাগতে যাদের ওটাই নিয়ম হয়ে যায়।সমস্ত ক্লান্ত দূর করে আমাদের সমস্ত বিষাদে আমাদের যে আগলে রাখে ,আমাদের সমস্থ বেদনার স্বস্তি যে পাঁজরে,বেলাশেষে বুড়িয়ে যাওয়া সে পাঁজরে আমরা অন্তত খুঁটি হয়ে বাঁচি,এইটুকুইতো।মায়েরা হয়তো ওইটুকুও চায় না,মায়েরা কিছুই চায়না।আমরাতো পারি …………………ভালো থাকুক ভালোবাসায় থাকুক পৃথিবীর সব মায়েরা।।”

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close