করোনাভাইরাস আপডেটবান্দরবানব্রেকিংলিড

মানব সেবায় পাহাড়ের বীর ‘বীর বাহাদুর’

মানব সেবায় পাহাড়ের বীর। আর্তমানবতার সঙ্গে পার্বত্য জনপদের জননন্দিত যে নেতার নামটি অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে, তিনি বান্দরবানের কৃতি সন্তান,ষষ্ঠ বারের মত নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং।

আওয়ামীলীগ মনোনীত সংসদ সদস্য হলেও ব্যক্তি ইমেজের কারণে দলমত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ সকলের-ই পছন্দের এবং সবমহলের গ্রহণযোগ্য একজন ব্যক্তি। মানবপ্রেমি মানুষটির হাত ধরেই সম্প্রীতির জেলা বান্দরবান এর খ্যাতি অর্জন।

করোনা ভাইরাসের মহামারি দু:সময়েও সংক্রমনের ভয় উপেক্ষা করে কর্মহীন, শ্রমজীবী, অসহায়, গরীব দুস্থ মানুষের সাহার্য্যে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং সরকারের বরাদ্দকৃত ত্রাণ সামগ্রী পাপ্য ব্যক্তিদের হাতে হাতে পৌছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যমতে, ইতিমধ্যে পাহাড়ের বীর খ্যাত জননন্দিত এ নেতা শুধুমাত্র বান্দরবান জেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ৫ হাজার পরিবার’কে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য ১২০টি পিপি, এন৯৫ মাস্ক এবং ইনফ্রারেট ফোরহেড টার্চ থার্মোমিটার দিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থার মাধ্যমে দিয়েছেন আরও ২০ হাজার মানুষকে খাদ্য সামগ্রী। সরকারী ভাবে ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এক হাজার দুইশ ৪৭ মেট্রিকটন খাদ্যশস্য, নগদ ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকা, তিন হাজার শিশুকে ১৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা শিশু খাদ্য সরবরাহ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য, ৫০ লক্ষ টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫০০ টাকা করে পাবেন জেলার সাতটি উপজেলার ৪৫ হাজার ৮৬৬ জন কর্মহীন মানুষ, দশ টাকা দামে চাউল পাচ্ছেন ৫০ হাজার পরিবার, বান্দরবান পৌরসভায় দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে ৭ হাজার ৫০ পরিবারকে ত্রাণ, প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ৫ হাজার ৭শ পরিবারে ত্রান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে লামা পৌরসভায় ৯২ মেট্টিকটন চাল, বীর বাহাদুর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৮ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করা হয়েছে।
মানবাধিকার নেত্রী রাজকন্যা ডনাই প্রু নেলি বলেন, বীর দাদা মানুষের কল্যানে কাজ করেন। ত্রিশটি বছর ধরে চেষ্টা করছেন মানব সেবার। তিনিই আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি নিজের জায়গায় সফল। কিন্তু আমরা যারা সারাক্ষণ তার কাজেকর্মে সম্পৃক্ত থাকি, সমাজ-রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছি তারা কতটা মানবিক হতে পেরেছি, কতটা সততার সহিত মানুষের কল্যাণে কাজ করছি। এখানে বোধয় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। বীর বাহাদুরের আন্তরিকতার কোনো কমতি নেই। কিন্তু আমরা দাদাকে সঠিকভাবে মানুষের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রয়োজনের কথাটি অবগত করছিনা। সব মানুষ সরাসরি দাদা পর্যন্ত পৌঁছাতেও পারছেনা। আশপাশের মানুষগুলো তৈরি করা একটি প্রতিবন্ধকতা এখনো রয়ে গেছে। সমন্বয়ের অভাব রয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাজেকর্মে। এই প্রতিবন্ধকতাটি দাদা’কেই দূর করতে হবে। সারাক্ষণ তার কাজেকর্মে সম্পৃক্ত থাকা এবং সমাজ-রাষ্ট্রের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা দলীয় মানুষগুলোর কাজে আরেকটু তদারকি দরকার। তাহলে আমাদের জেলাটি আরও সম্মৃদ্ধ, স্বয়ং সম্পূর্ণ হয়ে উঠবে দ্রুত।


সাবেক ছাত্রনেতা ফেরদৌস হায়দার রুশো বলেন, সংকটকালীন মুহুর্তে মানুষের পাশে দাড়ানো প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। মানবতার টানে যে কোনো দুর্যোগে ছুটে যান এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখেছি একজন বীর বাহাদুর’কে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানব সেবায় বীর এবং বীরের পুত্র দুজনই কাজ করছেন। তবে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সরকারী ত্রাণ-সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য হচ্ছে। দলমত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রকৃত দাবিদার মানুষের কাছেই যাতে সরকারী সহযোগীতা পৌঁছায় সেদিকে নজর দিতে হবে। বিভিন্ন দল, পেশার মানুষের সমন্বয়ে তালিকা করে ত্রাণ বন্টন করা হলে প্রকৃত মানুষেরা বঞ্চিত হবেনা। দূর হবে বৈষম্য।


শিশু সংগঠক ও সাংস্কৃতিক কর্মী মোমেন চৌধুরী বলেন, মানবতার সেবায় নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বীর বাহাদুর। শুধু করোনা নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দূর্ঘটনায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক বিরলে দৃষ্টান্ত, এই মানুষটি। বীরের মত ছুটে যান যে কোনো সংকটকালীন সময়ে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষের কল্যাণেও আন্তরিক। তার কাছে আমাদের সবার-ই অনেককিছু শেখার আছে। বর্তমান সময়ে সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনেকে কষ্টে আছেন। কিন্তু লজ্জায় চাইতে পারছেনা, তাদের সাহায্যে বীর দা’কে এগিয়ে আসার আহবান জানাবো।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, ‘ভুলত্রুটির উর্ধে কেউই নয়। আমি চেষ্টা করি দলমত, জাতি-ধর্ম, বর্ণ সকলের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে। আমি পার্বত্য চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান তিন জেলায় আমার কাছে সমান গুরুত্বের। তবে মন্ত্রণালয়ের বাহিরে নিজ নির্বাচনী এলাকা এবং নিজের জেলা বান্দরবান নিয়ে আমার আলাদা চিন্তা-ভাবনা পরিকল্পনা থাকে মাথায় মধ্যে। কতটা উন্নয়ন করতে পেরেছি, এখনো অসম্পন্ন কাজ কি কি আছে? এগুলো নিয়ে আমি সবসময় ভাবি।’


তিনি আরও বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা আমি পছন্দ করি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিভিন্ন দায়িত্বশীল লোকজনদের আমি গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দিতে বলি। যাতে তাদের মাধ্যমে আরও কিছু কাজ করার তথ্য পায়। আমার একজনের পক্ষে সব অসাধ্য সাধন করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সকলের সম্মলিত প্রয়াস। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগীতায় আমার জেলাকে অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, কৃষি সবক্ষেত্রে আরও বেশি এগিয়ে নিতে চাই।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
Close