রাঙামাটি

‘মানবিকতা অর্জনে আমরা পিছিয়ে আছি’- বিজয়া পুনর্মিলনীতে দীপংকর

নিজস্ব প্রতিবেদক
খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, আমরা সকলেই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ হয়েছি, কিন্তু মানুষ হতে পারিনি। মানুষ হওয়ার জন্য যে গুণাবলী সেগুলো আমরা অর্জন করতে পারেনি। অথচ সব ধর্মের মূল কথা হলো আগে মানুষ হও, মানবিকতা অর্জন কর। কিন্তু আমরা সেই চেষ্টা খুবই কম করছি। এক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি। শনিবার সকালে রাঙামাটিতে বিজয়া পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই, সংগ্রাম করেছেন সেই বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সকল মানুষ বর্তমানে সম্প্রীতিতে বসবাস করছে। আওয়ামীলীগ একটি গণতান্ত্রিক সংগঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সব ধরনের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অমলেন্দু হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রণতোষ মল্লিকের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য হাজি মুছা মাতব্বর, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী।

উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব ধর্মের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের উন্নয়নে নানান পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। সম্প্রীতির বাংলাদেশে ঐক্য বিনষ্টকারীদের কোনও প্রশ্রয় দেয়া হবে না।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, রাঙামাটিতে সনাতনীতের যে বিভেদ ছিল সেটা নিরসনে ইতোমধ্যে একটি সমন্বয় কমিটি নামে একটি কমিটি কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদ অনুমোদন দিয়েছে। পরবর্তী কমিটি না হওয়া পর্যন্ত এই কমিটি দায়িত্ব পালন করে যাবেন। বাকি যে কমিটিগুলো রয়েছে সেগুলো পকেটে রাখার কথা বলেছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এসময় বক্তারা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব উদযাপিত হওয়ায় সকলকের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে জেলা সদর ও উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ, মন্দির ও দুর্গোৎসব কমিটির নেতৃবৃন্দ, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, সনাতন যুব পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 + 17 =

Back to top button