খাগড়াছড়িব্রেকিং

মাদক বিরোধী দিবসেও নেই কোন প্রচারণা

খাগড়াছড়ি জেলার ভারত সীমান্তবর্তী রামগড় উপজেলায় মাদকের ব্যবহার ও পাচার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাদক পাচার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও উপজেলা মাদক বিরোধী কমিটির নেই কোন প্রচারণা। দেশব্যাপি ২৬ জুলাই মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত হলেও রামগড় উপজেলায় দিবসটি পালন করা হয়নি। দিবসটি পালন না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রামগড়ে মাদক বন্ধে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রামগড়ে মাদকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি রামগড় উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভায়ও বিষয়টি ওঠে আসে।

রামগড় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি বৈঠকে মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চাওয়া হয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। দিন দিন যেন মাদক বেড়েই চলছে এলাকায়। তিনি মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঠেকাতে এলাকাবাসীদের নিয়ে মাদক প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক একটি জরুরি সভার আহবান জানান।

রামগড় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল কাদের বলেছেন, যে কোন সময়ের তুলনায় বর্তমানে রামগড়ে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার হচ্ছে বেশি। তার কাছে এমনও খবর আছে রামগড় থানা পুলিশের কিছুসংখ্যক সদস্য মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত।

সরেজমিন ঘুরে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রামগড় সীমান্তের বিভিন্ন হাটবাজারে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা, চোলাইমদসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য অবাধে বিক্রি হয়। ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা ফেনসিডিল, ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, গাঁজা এবং দেশি চোলাইমদ এখানে খুবই সহজলভ্য। রামগড় ও এর আশপাশের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রামগড়ের মহামুনি, সোনাইপুল, দারোগাপাড়া, ফেনীরকূল, আনন্দপাড়া, আবাসিক এলাকা, পর্যটন এলাকা, জগন্নাথপাড়া, বল্টুরাম, গর্জনতলী, মাষ্টারপাড়া, চৌধুরিপাড়া, তৈচালা, লালছড়ি, নাকাপা, লামকুপাড়া, খাগড়াবিল ও রামগড়ের পাশ্ববর্তী গার্ডপাড়া, বাংলাবাজার, বাগানবাজার, বাঘমারা, বড়বিল, চিকনছড়া, হেয়াকো, বালুটিলা, আমতলা, কয়লামুখ, জালিয়া পাড়া, প্রভৃতি এলাকায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি।

রামগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি শ্যামল রুদ্র, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন ও কোষাধ্যক্ষ শুভাশীষ দাশ জানান, পরিত্যক্ত বাস টার্মিনাল, স্টেডিয়াম এলাকা, রাইচ টনিক এলাকা, মন্দির ঘাটসহ জগন্নাথ পাড়ার কালা ত্রিপুরা ও তপন বিডিআরের বাড়ির অঘোষিত মদের বার এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, পুলিশ এসব স্থান থেকে মোটা অঙ্কের মাসোহারা পায়।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের পক্ষে একা মাদক বিরোধী অভিযানে সফলতা পাওয়া কঠিন। এ কাজে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনদের আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ খুবই জরুরি। কেননা মাদকসেবী ও পাচারের সঙ্গে স্থানীয়রা জড়িত থাকতে পারে। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারার অভিযোগ তিনি স্বীকার করেননি, তবে এলাকায় মাদক পাচারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে উল্লেখ করেন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: