খেলার মাঠব্রেকিংলিড

মাঠে খেলা নেই, তবু ভাবসাবে পার বছর

মাঠে খেলা খুব বেশি না হলেও ক্রীড়া পাড়ায় কর্তারা মান অভিমানে পার করেছেন ২০১৭ সাল। রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রকাশের বা ভালো খেলার সকল পরিবেশ থাকার পরও খুব ভালো সময় পার করতে পারেনি ক্রীড়াঙ্গন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে হয়নি কোন ক্রিকেট লীগ, হয়নি ফুটবল প্রথম বিভাগ লীগ। আয়োজন হয়নি বড় কোন ফুটবল, ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। বরং ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের জন্য চিঠি দিলেও সেটি শেষ অবদি ২০১৭ সালেও আয়োজন করতে পারেনি।

নিয়ম রক্ষার জন্য বিভিন্ন সময় ক্রিকেট দলকে পাঠানো হতো বিভিন্ন জেলায়। রাঙামাটি অংশগ্রহণও করতো কিন্তু বিশাল ব্যবধানে রাঙামাটি হেরে আসাটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল রাঙামাটি ক্রিকেট। সফলতা বলতে সর্বশেষ অক্টোবরে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ক্রিকেট মৌলভিবাজারে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এটাই একমাত্র সম্বল ক্রিকেট সফলতার। রাঙামাটি ক্রিকেটাররা আশায় থাকে লীগ এবং টি-২০ খেলার জন্য কিন্তু সে আশারও মৃত্যু হয়েছে ২০১৭ সালে কোন ক্রিকেট না হওয়ায়। হতাশা, ক্ষোভ দানা বেঁধেছে খেলোয়াড় ক্রীড়া সংগঠকদের মাঝে।

২০১৬ সালে সর্বশেষ ক্রিকেট লীগ হলেও তা জড়িয়েছে নানাধরনের বিতর্কে। খেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য এবং চ্যাম্পিয়ন, রানার্স আপ দলের প্রতিশ্রুত টাকাও পায়টি ক্লাবগুলো। ধারদেনা করে খেলা চালালেও আশায় ছিল গত বছর টাকা সংগ্রহের জন্য কমিটি করলেও শেষ অবধি টাকা সংগ্রহ হয়নি।

ক্রিকেট নিয়ে কর্তাদের মাথা ব্যথা না থাকলেও পদ নিয়ে টানাপোড়ন ছিল তাদের মাঝে। বিসিবির কাউন্সিলর পদকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট উপ কমিটি তাদের আগে পরিচালিত ক্রিকেট লীগের টাকা পরিশোধ না করেই পদত্যাগ করে সংবাদ সম্মেলন করে। যা বছরের শেষে এসে গ্রহণ করা হয়। পুরো বছরটাই নানা নাটকিয়তায় শেষ হয় ক্রিকেটীয় বছর।

ফুটবলে ব্যাপক আগ্রহ থাকলেও আয়োজন করতে পারেনি প্রথম বিভাগ টুর্নামেন্ট। ফুটবলে সফলতা বলতে দীর্ঘ ১২ বছর পর ২য় বিভাগ ফুটবল লীগ হলেও আলোর মুখ দেখেনি পরবর্তি কোনও টুর্নামেন্টের। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফুটবলাররা। ফুটবল খেলোয়াররা মাঠে অনুশীলন ছাড়া তেমন কোনও প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

তবে কিছু ব্যতিক্রম আছে ২০১৭ সালে বেশ এগিয়েছে বক্সিং, জুডু, কারাতে। নিয়মিত অনুশীলনের কারণে বেশ পরিচিতি পায় এ ইভেন্টগুলো। জসোসি চাকমার একান্ত চেষ্টায় আলোর মুখ দেখছে জুডু কারাতে। বছরের শেষদিকে অল্প সময়ের মধ্যে যুব গেমস ২০১৮ আয়োজন করতে পারাটাকে অনেক বড় সফলতা হিসেবে মনে করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্তারা।

অনেক খেলোয়াড় আক্ষেপ করে বলেন, ২০১৭ সাল খেলাধুলার জন্য এক হতাশার বছর ছিল। এমন হতাশায় আমরা থাকতেও চাই না চাই নিয়মিত আয়োজন হবে খেলা।

এদিকে কেমন ছিল ক্রীড়াঙ্গনে ২০১৭ জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বলেন, সফলতা ব্যর্থতা মিলেই কেটেছে এ বছর। সবাই মিলে আরো সচেষ্ট হলে ক্রীড়াঙ্গন আরো অনেক ভালো সময় পার করতে পারতাম।

এদিক নতুনের কেতন উড়িয়ে ২০১৮ সাল ক্রীড়াঙ্গনে কোনও হতাশা থাকবে না এবং ক্রীড়া নৈপুণ্যে মেতে থাকবে মাঠ এমন প্রত্যাশা করেছেন খেলোয়াড়, ক্রীড়া সংগঠকরা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button