ব্রেকিংরাঙামাটি

‘মাটি চাপা পড়ে মরে গেলেও কোথাও যাবো না’

‘আমার স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ আশ্রয় কেন্দ্র হচ্ছে এই মাটি। আমি মাটি চাপা পড়ে মরে গেলেও এখান থেকে যাবো না। গেলেও কোথায় যাবো স্বামীর সম্পদ ছেড়ে।’ পাহাড় ধসের পরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস নিয়ে একথা বলেন নতুন পাড়ার বাসিন্দা খাদিজা বেগম। শনিবার সকালে তাঁর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একথা বলেন।

শনিবার সকালে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সরে যেতে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। রাঙামাটি শহরের শিমুলতলী, নতুন পাড়া, মনতলা, রাঙ্গাপানি এলাকা পরিদর্শন করে সতর্কতামূলক সাইন বোর্ড স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ। পাহাড় ধসের আগাম প্রস্তুতি হিসাবে এ প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রচারণাকালে আরো উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রচারণাকালে কথা হয় শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা হাবিব উল্লার সাথে। তিনি বলেন, আমার জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে কেনা এই ভিটা। গত পাহাড় ধসে আমার বাড়ির অনেক ক্ষতি হয়েছে, প্রায় এক মাস আশ্রয় কেন্দ্রে ছিলাম। কিন্তু আশ্রায় কেন্দ্রে থেকে ফিরে আবারো আগের জায়গায় বসত করে বউ, ছেলে নিয়ে বাস করছি। জানি! এবারও পাহাড় ধস হলে আমাদের ক্ষতি হবে এমনকি মাটি চাপা পরে মারাও যেতে পারি। কিন্তু এসব ছেড়ে কোথায় যাবো?

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া পাহাড় ধসের ক্ষয়ক্ষতি কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসরত মানুষদেরকে সচেতন করছি এবং সচেতনতার জন্য সাইন বোর্ড স্থাপন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধস হয়। এতে ১২০ জন মানুষ মারা যায় এবং জেলা জুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

  1. উল্লেখিত এলাকার সকলেই সেনা, প্রসাশন আর পুলিশের সহযোগিতায় ঐসব স্থানগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থান করে প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষন করছে। এরা কেউ উল্লেখিত এলাকা তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা না। সুতরাং তাদের নিয়ে কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রচারে কোনো লাভ হবে না। পরিবেশ বাঁচাতে হলে স্থানীয় প্রসাশন, পুলিশ আর সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা জরুরী। এই তিন প্রতিস্থানের সুমতি ছাড়া পার্বত্যাঞ্চালের প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে চিন্তা করাটাও মহাপাপ।

Leave a Reply

Back to top button
%d bloggers like this: