খাগড়াছড়ি

মহালছড়ির জলেভাসা জমিতে বোরো ধান উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায়

মিল্টন চাকমা, মহালছড়ি
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়েনি তাতে জলেভাসা জমিতে বোরো ধান উৎপাদন ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। প্রতিবছর এ সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে বোরো চাষের জন্য কৃষকদের জমি তৈরির প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। কিন্তু এ বছর কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি না পাওয়ায় জলেভাসা ২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বোরো চাষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেচের প্রয়োজন। বর্তমানে যেভাবে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করেছে চাষের মাঝামাঝি সময় এলে সেচ দেওয়ার মতো পানি পাওয়া যাবেনা বলে মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা। এই এলাকার চাষীরা বেশীর ভাগে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন ওপর নির্ভরশীল।  জ¦ালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাবে। অনেক কৃষকই অতিরিক্ত দামের কারণে পর্যাপ্ত সেচ দিতে পারবে না। এ কারণে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।

সিঙ্গিনালা মহামুনি পাড়া গ্রামের এক কৃষক থুইলাঅং মারমা বলেন, এখানকার লোকেরা এক ফসলা জমিতে বোরো চাষের ওপর নির্ভর করে পুরো বছরের ফসল উৎপাদন করে থাকে। যেভাবে এখানকার খাল-বিল, নদী-নালার পানি শুকাতে শুরু করেছে আর কৃষি পণ্যের দাম যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে চাষাবাদ করা নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছি। প্রতি বছর ৫ একরের অধিক জমি চাষাবাদ করে যা উৎপাদন হয় তা থেকে পুরো বছরের খোরাক জমা রেখে বাড়তি ফসল বিক্রি করে থাকি। কিন্তু এ বছর এত জমি চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না বলে জানান তিনি।

কাপ্তাই পাড়া গ্রামের আরেক কৃষক সাথোয়াই মারমাও একইভাবে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারে বেশি জমি চাষ করা যাবে না। কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত কমে যাওয়া আর কৃষি পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকের জমি অনাবাদে থেকে যাবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মহালছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল জব্বার জানান, প্রাকৃতিক সমস্যা দেখা দিলে সাধারণত কিছুই করার থাকে না। সেচ দিতে না পারলে বোরো ধান চাষে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা অনুযায়ী কোন জমি যাতে পতিত না থাকে সেজন্য কৃষকদের রবি শষ্য উৎপাদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তৈল জাতীয় শষ্য উৎপাদনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সংশ্লিষ্ট উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাগণ কৃষকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।  প্রণোদনা হিসেবে ২’শ জন কৃষককে সরিষা বীজ ও সার , ১’শ জন কৃষককে সুর্যমূখী বীজ ও সার এবং ২০জন কৃষককে ভুট্টার বীজ ও সার  দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nine − seven =

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button