নীড় পাতা / ফিচার / খোলা জানালা / মহররম মাসের করণীয় ও বর্জনীয়

মহররম মাসের করণীয় ও বর্জনীয়

মহররম হিজরী সালের প্রথম মাস। বছর শেষে অপর একটি নতুন মাসের সূচনা হয় এ মাস থেকে । এই মাস মহান আল্লাহ পাকের কাছে এবং জগতের সমস্ত মুমিন মুসলমান নরনারীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ফজিলত ওয়ালা মাস। এই মাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূণূ ঘটনার ইতিহাস আছে। আর তা বিশেষতঃ মহররমের দশ তারিখ বা আশুরার তারিখ পবিত্র মহররম মাসে মহান আল্লাহ পাক আরশ, কুরসী, কলম, আসমান, জমিন, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, জান্নাত, জাহান্নাম, পাহাড়, পর্বত, সাগর, লাওহে, মাহফুজ যাবতীয় সৃষ্ট জীবের রুহ পয়দা, সমস্ত দুনিয়া এই দিনে সৃষ্টি করেছেন। এই দিনেই শুক্রবারে ই¯্রাফিল (আঃ) এর সিঙ্গার ফুৎকারে সমস্ত পৃথিবী ধ্বংস হয়ে মহাপ্রলয় বা কিয়ামত হবে। আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও বিষয়াবলীর জন্য অন্যান্য মাসের তুলনায় এই মাস এবং অন্যন্য দিবসের তুলনায় এই আশুরার দিবসের গুরুত্ব সমাধিক। সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব মানুষ এবং মুসলমান হিসেবে আমাদের কিছু দায়িত্ব পালন এবং করনীয় আর কিছু বর্জনীয় আছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন ফরজ নামাজের পর সর্বশ্রেষ্ট নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ আর রমজান মাসের রোজার পর শ্রেষ্ঠ রোজা হল মহররম মাসের রোজা। (মুসলিম) যে ব্যক্তি আশুরার রোজা রাখে, সে ষাট বছর দিনে রোজা রাখার এবং রাতে ইবাদত করার সওয়াব পায়।(তাবরানী)

রাসূল (সাঃ) বলেন তোমরা আশুরার রোজা রেখো। এতে ইহুদীগণের বিরোধিতা করো। তা এভাবে হোক যে, তোমরা আশুরার সঙ্গে আগের অথবা পরের দিনে রোজা রেখো। যে ব্যক্তি আশুরার তারিখে নিজের পরিবারের খাওয়া দাওয়া খাতে অন্য সময়ের তুলনায় অধিক ব্যয় করবে, আল্লাহ তায়ালা সারা বছর তাকে অধিক রিজিক দান করবেন। রাসূল (সাঃ) আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি আশুরার দিনে রোজা রাখে সে কখনও দোজখের আগুনে জ্বলবে না। কোন মুমিন ব্যক্তি যদি সারা জগত পরিমান স্বর্ণ ও আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে তথাপি সে আশুরার দিনে ইবাদত করার সমান ছওয়াব পাবে না।যে ব্যক্তি এই দিনে রোজা রাখে তার জন্য বেহেশতে আটটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। যে কোন দরজা দিয়ে সে বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে । হযরত শিবলূ (রাঃ) বলেন, রাসূল (সাঃ) এর কলিজার টুকরা হযরত হোসাইন (রাঃ) মহররমের দশই তারিখে কারবালায় শহীদ হন। এই হৃদয়বিদারক মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে আহলে বাইতের তথা নবী করিম (সাঃ) এর পরিবারবর্গের প্রতি ভালবাসার নিদর্শন স্বরূপ তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে আমি আশুরার তারিখে আল্লাহর ওয়াস্তে দুসালামে চারি রাকআত নফল নামাজ পড়লাম। প্রত্যেক রাকআতে আলহামদুলিল্লাহ-র পর পনের বার সূরা ইখলাছ পড়লাম। নামাজের পর শহীদানে কারবালার নামে এর ছওয়াব বখশিয়ে দিলাম। সেই রাতেই আমি হযরত হোসেন (রাঃ) কে স্বপ্নে দেখলাম। তিনি আমাকে বললেন, হে শিবলী! যে ছওয়াব তুমি আমাদের নামে বখশিয়ে দিয়েছ, আমরা তা পেয়েছি এবং নবী পরিবারের প্রতি তোমার ভালবাসার জন্য আমরা তোমাকে মোবারকবাদ দিচ্ছি এবং এই সুসংবাদ জানাচ্ছি যে, কিয়ামতের দিন তোমার মর্যাদা অধিক উন্নত হওয়ার জন্য আমরা আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করব। এই সাথে তোমাকে আরও একটি কথা বলে দিচ্ছি যে, যে কোন মুমিন ব্যক্তি আমাদের নামে কোনও ইবাদতের ছওয়াব বখশিয়ে দেবে, তার জন্য ও আমরা আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবো। যে ব্যক্তি ঈমান ও একীনের সাথে নি¤œলিখিত দোয়া পড়ে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং তারনামে আজাব মুক্তির ফরমান জারী করেন। দোয়াটি এই ঃ পরম করুণাময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বমহান আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কেহ উপাস্য নাই। সারা জাহানের সৃষ্টিকর্তা, আল্লাহ ব্যতীত আর কেহই মাবুদ নাই। ইয়া আল্লাহ! যে সকল লোককে তুমি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করার ফলে সত্যের সন্ধান দিয়েছ, তোমার দিকে আকৃষ্ট হওয়ার ফলে যাদেরকে তুমি স্বীয় নেয়ামত দান করেছ এবং তোমার উপর ভরসা করার ফলে যাদেরকে তুমি প্রাচুর্য দান করেছ এবং তোমার নৈকট্য দান করেছ, আমাকেও তাদের দলভুক্ত করে নাও। ইয়া আল্লাহ! জীবিকা নির্বাহের ব্যাপারে তুমি আমাকে ব্যাপকভাবে সাহায্য কর এবং তোমার মুমিন বান্দাগণের অন্তরে আমার প্রতি ভালবাসা জন্মিয়ে দাও। ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার দরবারে ঈমান, রিজিক এবং দ্বীন দুনিয়ার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল প্রার্থনা করছি। হে মহামহিম! আমার প্রার্থনা কবুল কর। নবী করিম (সাঃ) বলেন, আশুরার দিনে যে ব্যক্তি রোজা রাখে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার জন্য সারা বছরের রোজা এবং রাত জাগরণের (নফল ইবাদতের) নেকী লিখে রাখবেন। যদি কোন ব্যক্তি মহররম মাসে একদিন রোজা রাখে তবে তার জন্য প্রত্যেক দিনের বিনিময়ে ত্রিশ দিনের নেকী লিখা হয়।

মহররম মাসে আমাদের করণীয় হল : এই মাসে সাধ্যানুযায়ী অধিক সংখ্যক রোজা রাখা, বেশী পরিমানে তাওবা ও ইসতিগফার করা, এই মাসে তাওবা কবুলের সমধিক আশা করা যায়। আশুরা দিনসহ লাগাতার কমপক্ষে দুইদিন রোজা রাখা। আশুরার দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশী খরচ করা। হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাছ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি আশুরার রাতে ভোর হওয়ার কিছু আগে চার রাকআত নামাজ পড়বে, প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতেহার পর আয়াতুল কুরছী একবার ও সূরা ইখলাছ তিনবার পাঠ করবে এবং নামাজ শেষ করে একশত বার সূরা ইখলাছ পাঠ করবে সে ব্যক্তি বেশুমার ছওয়াবের অধিকারী হবে।, তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং বেহেশতে সে সমস্ত নেয়ামতের অংশ লাভ করবে। তোহফায়ে ইয়ামন নামক কিতাবে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি আশুরার রজনীতে চার রাকআত নামাজ পড়বে এবং প্রত্যেক রাকআতে সূরা ইখলাছ পাচঁশতবার পাঠ করিবে, তার উপর আল্লাহর রহমত অবর্তীণ হবে।

মহররম মাসে আমাদের বর্জনীয় : মহররম ও আশুরাকে কেন্দ্র করে সমাজে বহু কুপ্রথা ও বিদআতের প্রচলন লক্ষ্য করা যায়। ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে এগুলো অনেক ক্ষেত্রে শিরকের পর্যায়েও গিয়ে পৌছে এসব থেকে নিজে সাবধান থাকাএবং অপরকে বাচিঁয়ে রাখার চেষ্টা করা আমাদের সকলের অপরিহার্য কর্তব্য।এসব গর্হিত কুপ্রথা এবং বিদআত সমূহের নমুনা নিন্মে বর্ণনা করা হলো:
তাজিয়াঃ তাজিয়া নানাবিধ ফাসেকী ও মুসরেকী চিন্তাধারার ফসল । কোন কোন জাহেলের বিশ্বাস, হযরত হোসাইন (রাঃ) এতে সমাসীন হয়ে থাকেন। তাই তারা তাজিয়ার পাদদেশে নযর-নিয়াজ দিয়ে তাকে। গায়রুল্লাহর নামে উৎসর্গ করার দরুন এসব নযর নিয়াজ পেশ করা শিরকী কাজ। আর তা খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম কাজ। তাজিয়ার সামনে করজোড়ে দাড়ানো, এর দিকে পিঠ না ফিরানো, এত নানা ধরনের ব্যানার টাঙ্গানো, তাজিয়া দেখতে যাওয়াকে জিয়ারত বলে আখ্যায়িত করা। এই সব গর্হিত আচরণ এক প্রকার বাজে, রং তামাশা এবং শিরকের অর্ন্তভুক্ত। পবিত্র কুরআন শরীফে আছে , তোমরা কি নিজেদের গড়া বস্তুর পূজা কর!
ঢাক ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজানো : হাদীস শরীফে এটি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে। কাজটি একদিকে যেমন শরীয়তক বিরোধী তেমনি তা বিবেক বিরোধী ও বটে। আর শোকাহত অবস্থায় ঢাক ঢোল পিঠিয়ে কি ধরনের শোক প্রকাশ করা হয় তা সহজেই বোধগম্য।

আশুরার দিনে আহাজারী করা অথবা জারী পিটানো : মহররম উপলক্ষে মিছিল করে অথবা তথাকথিত মোকাম বাড়িতে “হায় হোসেন, হায় হোসেন” করে বুক চাপড়িয়ে মাতমের যে দৃশ্য সৃষ্টি করা হয় , তাই মহররমের সবচেয়ে আকর্ষনীয় এবং দর্শকমন্ডলী মন ভুলানো ও মন গলানোর দৃশ্য। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি গোনাহ। আবু দাউদ শরীফে হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সাঃ) বিলাপ ও মাতমকারীদের এবং যারা ভক্তি বা আগ্রহ সহকারে এই মাতম শুনে তাদের উপর লানত করেছেন।

মর্সিয়া শোকগাথা পাঠ : ইবনে মাজা শরীফে বর্ণিত আছে, রাসূল (সাঃ) মার্সিয়া পাঠ করতে নিষেধ করেছেন।

বানোয়াট হাদীস বর্ণনা : আশুরা উপলক্ষে বানোয়াট ও জাল হাদীস বর্ণনার হিড়িক পড়ে যায়। রাসূল (সাঃ) এই কাজটিকে কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন।

আশুরা উপলক্ষে শোক পালন : সাজসজ্জা হতে বিরত থেকে যে শোক পালন ইসরামী শরীয়তে তার কোন প্রমাণ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা স্ত্রী চার মাস দশ দিন এবং বিধবা গর্ভবতী সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত শোক পালন করবে। অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের জন্য তিন দিন পর্যন্ত শোক পালনের অনুমতি দেওয়া আছে। রাসূল (সাঃ) এর অন্যতমা পতœী উম্মে হাবীবা (রাঃ) তার পিতা আবু সুফিযানের মৃত্যুর পর তৃতীয় দিনে ভালো ভালো পোষাক পরে খুব করে সাজলেন । আর শরীরে সুগন্ধি ও মাখলেন । অনেকে তো মাসের পর মাস বিলাপ করতে থাকে। অথচ পিতার মৃত্যুর তৃতীয় দিনেই হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) কে এভাবে হাসিখুশির চিহ্ন স্বরূপ উঃকৃষ্ট পোষাক পরতে দেখে সকলে অবাক হলেন। তিনি তখন বললেন সাজবার এবং সুগন্ধি মাখার আমার কোন প্রয়োজন ছিল না। তবে আমি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, স্বামী ব্যতিত কারও মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করতে নাই। এই জন্যই আমি এই বেশ ধারণ করেছি। যেন আমার মধ্যে শোকের কোন চিহ্ন প্রকাশ না পায়। উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে হাবীবা (রাঃ) এর এই ঘটনার মর্মানুযায়ী আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে, কারবালার ঘটনা যদি রাসূল (সাঃ) এর জীবদ্দশায় ঘটত শহীদানে কারবালার তিন দিনের বেশী সময় শোক করার অনুমতি পাওয়া যেত না। অতএব চৌদ্দশত পর বছর আশুরা উপলক্ষে শরীয়ত গর্হিত পন্থায় শোক পালন নিঃসন্দেহে হারাম।

শোকের পোষাক : আশুরা উপলক্ষে বিশেষ ধরনের বা রঙ্গের পোষাক পরে শোক প্রকাশ করা হয়। রাসূল (সাঃ) একদা এক জানাযায় গিয়ে দেখলেন, লোকজন শোক পালনের জন্য বিভিন্ন ধরনের পোষাক পরিধান করেছে। তখন তিনি খুব অসন্তুষ্ট হয়ে বললেন , তোমরা কি জাহেলী কাজ শুরু করেছ?না জাহেলী প্রথার অনুকরণ করছো? আমার ইচ্ছে হচ্ছিল তোমাদের জন্য বদদোয়া করি, যেন তোমাদের চেহেরা বিকৃত হয়ে যায়। একথা শোনার সাথে সাথে সবাই নিজ নিজ পোষাক খুলে ফেলে তাওবা করল। (ইবনে মাজা শরীফ)
অতএব শোক প্রকাশের জন্য কোন বিশেষ পোষাক পরিধান অথবা বিশেষ ধরনের বেশ ধারন করা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নিষেধ ও হারাম।

বাচ্চাদের ভিখারী বানানো : আপন বাচ্চাদের কেউ কেউ হযরত হোসাইন (রাঃ) এর ভিখারী সাজিয়ে ভিক্ষা করায়। তাদের বিশ্বাস এ কাজ করলে বাচ্চাদের দীর্ঘায়ু হয়। এরূপ ভ্রান্ত আকীদা ও ভিত্তিহীন বিষয় সুস্পষ্টভাবে শিরকের অর্ন্তভুক্ত।

মহররমের খিচুড়ী : হযরত হোসাইন (রাঃ) এর রুহে ছওয়াব বখশানোর উদ্দ্যেশে এই দিন খিচুড়ি রান্না করে আত্মীয় স্বজন ও গরীব মিসকিনদের মাঝে বিলানো হয়। সাধারণ মানুষ যেহেতু এটাকে বিভিন্ন কুসংস্কারের সাথে জড়িয়ে ফেলেছে তাই কুপ্রথা অনুসারে তা পালন করা নিষেধ।

শরবত পান করানো : রাফেজীদের অনুকরণে এই কাজ করা হয়্ লোক মনে করেন কারবালার শহীদগণ যেহেতু পিপাসার্ত অবস্থায় শাহাদাঃ বরণ করেছেন, অতএব তাদের এই পিপাসা নিবারণ করার জন্য শরবত পান করানো উচিত। আশুরার তারিখে মানুষকে শরবত পান করালে শহীদগণের সেই পিপাসা নিবারন হবে। এই রূপ ভ’ল আকীদায় শরবত পান করালে গুণাহ হবে। তবে শুধু ছওয়াবের নিয়তে কাউকে শরবত পান করালে এবং সেই ছওয়াব শহীদানের রুহে বখশিয়ে দিলে কোন ক্ষতি নেই ।
বদ আকীদা : কেউ কেউ মহররম মাসে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সেই সন্তানকে অশুভ বলে মনে করে। কিছু কিছু লোক মহররম মাসকে শোকের মাস ভেবে এতে ছেলেমেয়েদের বিবাহ দেওয়াকে অমঙ্গলজনক মনে করে। এটি একটি অবাস্তব এবং অন্যায় বিশ্বাস। কোন কোন স্থানে মহররম উপলক্ষে ঘরের ছাদ কিংবা কোন উচু স্থান হতে জনতার দিকে রুটি ইত্যাদি খাদ্য দ্রব্য নিক্ষেপ করা হয়। আর নিচের সমবেত জনতা হুড়াহুড়ি ও কাড়াকড়ি করে যা ধরতে পারে তা খায় আর বাকী অংশ হুড়াহুড়ির মাঝে পায়ের তলায় পিষ্ট হয়। হাদীস শরীফে রিজিকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের হুকুম প্রদান করা হয়েছে । আর যে ব্যক্তি রিজিকের অবমাননা করে তার রিজিক ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে সর্তকবাণী উচ্চারিত হয়েছে।

চেহলাম উদযাপন : দশই মহররমের চল্লিশ দিন পর চেহলাম উদযাপন করা হয়। সেদিনও যাবতীয় বিদআত ও বেশরা কাজের পুনরাবৃত্তি করা হয়। কাজেই এ সমস্ত কিছুই বর্জন করা কর্তব্য। মহররম ও আশুরাকে উপলক্ষ করে বর্ণিত নিয়মগুলি ছাড়াও শরীয়ত বিগর্হিত আরও বিভিন্ন ধরনে কুপ্রথা, অন্যায়, অপরাধ, সামাজিক অনাচার এবং অবর্ণনীয় কু-কীর্তির সূত্রপাত ঘটানো হয়। শিয়া সম্প্রদায় কর্তৃক সৃষ্ঠ এসব অপকর্মের সাথে ইসলামী শরীয়তের কোন সর্ম্পক নেই। প্রকৃত মুসলমান এহেন কাজে কিছুই কিছুতেই শরীক হতে পারে না এবং এইরূপ কার্যকলাপে কোন ধরনের সাহায্য-সহযোগিতাও করতে পারেন না । বহু সরল প্রাণ মুসলমানকেও অজ্ঞতার কারণে এগুলোতে শরীক হতে দেখা যায়। এসব অন্যায় অপরাধ এবং শিরক বিদআতের মত পাপাচারে লিপ্ত হবেন না এবং অপরকেও এসব থেকে বারণ করুন।
পরম করুনাময় আল্লাহ তায়ালা যেন, আমাদের সরল সঠিক পথে চলার তওফিক দান করেন, আমিন

আরো দেখুন

বঙ্গবন্ধু ফুটবলে রাঙামাটির চ্যাম্পিয়ন লংগদু

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট …

One comment

  1. এরকম একটা লেখার অপেক্ষায় ছিলাম…

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − four =