পার্বত্য পুরাণলিড

মংছেনচীং : পাহাড়ের কিংবদন্তী ছিলেন তিনি

পার্বত্যাঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ে গবেষনামূলক সাহিত্য চর্চার স্বীকৃতিস্বরূপ একুশে পদক লাভ করেছিলেন লেখক-গবেষক মংছেনচীং মংছিন্। ২০১৬ সালে তিনি এই পদক লাভ করেন। ১৯৬১ সালের ১৬জুলাই কক্সবাজারের রাইখানপাড়ায় জন্মগ্রহন করেন মংছিন। ১৯৭৭সালে মুহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়া বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ১৯৭৯ সালে কক্সবাজার কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন তিনি। তাঁর বড় ভাই উছোছিং ছিলেন তৎসময়কার কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সভাপতি এবং ‘হক কথা’ নামক পত্রিকার সম্পাদনা করতেন। বড় ভাইয়ের দেখাদেখি লেখালেখির প্রতি তাঁর মনে জোক ঝেঁকে বসে। বড় ভাইয়ের পত্রিকায় কবিতা ছাপানোর মাধ্যমেই লেখলেখির সূচনা। ১৯৭২ সাল থেকেই তিনি লেখালেখি শুরু করেন। তিনি বিভিন্ন কবিতার পাশাপাশি রাখাইন কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে লেখালেখি শুরু করেন। সমসাময়িক বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা আর ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হতে থাকে।

দৈনিক গিরিদর্পণ সম্পাদক ও প্রকাশক এ কে এম মকছুদ আহমেদের মাধ্যমে পরিচিত হন রাঙামাটির মেয়ে লেখিকা শোভা ত্রিপুরার সাথে। স্বল্প সময়ের পরিচয়েই দুজনের মধ্যে হৃদ্যতা গড়ে উঠে। এরপর এ কে এম মকছুদ আহমেদই দুই লেখককে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন। ১৯৮৪ সালে শোভা ত্রিপুরাকে বিয়ে করার পর আরো জোরালো হয় তাঁর সাহিত্য চর্চা। সাহিত্য চর্চায় তাঁর স্ত্রীসহ দুই মেয়েও তাঁকে যথেষ্ট সহযোগিতা করতেন।

১৯৮৯ সালে তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই ‘বাংলাদেশের রাখাইন পরিচিতি’। এরপর ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয় দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘রাখাইন ইতিবৃত্ত’। এরপর থেকে বেশ কয়েকটি বই পরপর প্রকাশিত হতে থাকে। ২০০০ সালে একুশে বইমেলায় তাঁর প্রকাশিত চতুর্থ গ্রন্থ ‘রাখাইন-বাংলা কথোপকথন’ ও ‘রাখাইন ইতিবৃত্ত’ পাঠক সমাজে বেশ সমাদৃত হয়েছে। তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ ‘রাখাইন চা ক্রাং (রাখাইন গান)’। তাঁর ১৭টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। তম্মধ্যে ১৪টি বাংলায় এবং ৩টি রাখাইন ভাষায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও স্বজাতির উপর গবেষনাধর্মী লেখালেখির জন্য সরকার ২০১৬ সালে তাঁকে একুশে পদকের জন্য মনোনীত করেন। ২০১৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ওসমানী মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন তিনি। একুশে পদক পাওয়ার আগেও স্বজাতির কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে লেখালেখির ও গবেষনার জন্য তাঁকে দেশী-বিদেশী নানা সংগঠন-সংস্থার পক্ষ থেকেও সম্মাননা দেয়া হয়েছিলো।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 − eight =

Back to top button