বান্দরবান

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় বান্দরবান ছেড়ে যাচ্ছে পর্যটকেরা

বান্দরবান প্রতিনিধি
ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় বান্দরবান ছেড়ে যাচ্ছে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সন্ত্রাসী বিরোধী যৌথ বাহিনীর সাড়াশি অভিযানে পর্যটকদের নিরাপত্তায় রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলায় দর্শণীয় স্থানগুলো ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকেই ভ্রমণে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।
প্রশাসন ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানায়, রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলায় পর্যটকবাহী সবধরণের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। উপজেলা সড়কগুলোর প্রবেশমুখে যানবাহন থামিয়ে দেয়ায় নীলগিরি ও থানচি উপজেলা ভ্রমণেও যেতে পারছেনা বেড়াতে আসা পর্যটকেরা। এতে বিপাকে পড়েছে ভ্রমণে আসা শতশত পর্যটক। তবে উপজেলা গুলোতে অবস্থানরত পর্যটকেরা ইতিমধ্যে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা ছেড়ে চলে গেছে। এদিকে পৌর শহরের বাহিরের কোনো পর্যটন স্পটে ভ্রমণে যেতে না পারায় বান্দরবান জেলা শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে অবস্থানরত পর্যটকেরাও বান্দরবান ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞায় রোয়াংছড়ি উপজেলার দেবতাকুম, শীলবান্ধা ঝর্ণা, শিপ্পি পাহাড়, রুমা উপজেলার রহস্যময় বগা লেক, রাইক্ষ্যংপুকুর লেক, ক্যাওক্রাডং, তাজিংডং, জাদীপাই ঝর্ণা, তিনাপ সাইতার, রিজুক ঝর্ণা’সহ আশপাশের দর্শণীয় স্থানগুলোতে সাময়িকভাবে ভ্রমণ করতে পারবেনা পর্যটকরা।
হোটেল হিলটনের ম্যানেজার আক্কাস উদ্দিন বলেন, রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার খবরে অনেকে অগ্রীম বুকিং বাতিল করেছে। হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকদের দুটি গাড়ী মঙ্গলবার সকালে নীলগিরিও যেতে দেয়া হয়নি। বান্দরবান পৌর শহরের বাহিরের কোনো পর্যটন স্পটে ভ্রমণে যেতে না পারায় পর্যটকরা বান্দরবান ছেড়ে যাচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে বেড়াতে আসা পর্যটক এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ট্যুরিস্ট গাড়ীর চালক মোহাম্মদ হাসান বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক ট্যুরিস্ট গাড়ীগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সকালে কয়েকটি গাড়ী নীলগিরি যাবার পথে মিলনছড়ি পুলিশ চেকপোস্টে আটকে দেয়া হয়। সবগুলো সড়কে চেকপোস্ট থাকায় পৌর শহরের বাহিরে কোনো স্পটেই পর্যটকদের নিয়ে গাড়ীগুলো যেতে পারছেনা।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বান্দরবান জেলার রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী রাঙামাটির বড়তলি, বিলাইছড়ি, সাইজাম পাড়া’সহ আশপাশের পাহাড়ী এলাকাগুলোতে সশস্ত্র সস্ত্রাসী গোষ্ঠী কুকি চিন ন্যাসনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) আস্তানায় জঙ্গী প্রশিক্ষণের তথ্যের ভিত্তিরতে যৌথ বাহিনী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ১২ অক্টোবর থেকে জঙ্গী ও সন্ত্রাস বিরোধী একটানা সাড়াশি অভিযান চলছে। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বেশক’জন’কে আটক করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। হতাহতের ঘটনাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। তবে নিরাপত্তা দায়িত্ব সূত্র থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, যৌথ বাহিনীর সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে সীমান্তবর্তী দূর্গমাঞ্চল গুলোতে।  তাই পর্যককদের নিরাপত্তায় রুমা ও রোয়াংছড়ি দুটি উপজেলায় পর্যটকদের ভ্রমণে সাময়িক নিষেধ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বলবৎ থাকবে। তবে রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা বাজার স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × four =

Back to top button