রাঙামাটিলিড

ভ্যাকসিনের জন্য নিবন্ধিত মাত্র ৩২৭৯ লংগদুবাসি !

আগ্রহ নেই সাধারণ মানুষের

লংগদু প্রতিনিধি
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সামগ্রিক রাজনীতি কিংবা অর্থনীতি,ভোটের রাজনীতি,সবকিছুতেই মোটাদাগে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা লংগদু। পুনবার্সিত বাঙালি অধ্যুষিত এই উপজেলার মানুষ সচেতনতায় এখনও যে ঢের পিছিয়ে,তারই প্রমাণ মিলল করনো ভ্যাকসিন নিবন্ধনে। ৩৮৮.৪৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলার জনসংখ্যা ৮৪ হাজার ৪৭৭ জন। অথচ গতকাল পর্যন্ত এই উপজেলায় কোভিড টিকা নেয়ার জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন মাত্র ৩২৭৯ জন,যা জনসংখ্যার মোট হারের তুলনায় নিতান্তই সামান্য।

অথচ কোভিড-১৯ মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনার অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়েই গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও গত ফেব্রুয়ারি মাসের ৭ তারিখ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই করোনা ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা গ্রহণ করার আগ্রহ নেই বললেই চলে।

লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত মোট নিবন্ধনের সংখ্যা ৩২৭৯ জন। যার মধ্যে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ২৫০৭ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করেছেন ১১৫৭ জন। গত বছর করোনার প্রথম ধাপে নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন ১৩৩ জন ব্যক্তি। যাদের মধ্যে ২৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। করোনার লক্ষণ নিয়ে কেউ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা অরবিন্দ চাকমা বলেন, ভ্যাকসিন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ভুল ধারনা রয়েছে। ফলে অনেকেই এখনো নিবন্ধন করেননি। অনেকে আবার নিবন্ধন করেও ভ্যাকসিন নেয়নি। ভ্যাকসিন নিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। করোনা হলেও রোগীকে দুর্বল করতে পারবে না। আক্রান্তদের মৃত্যু ঝুঁকি নাই।

তিনি আরো বলেন, লংগদু উপজেলায় নিবন্ধনের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এখন পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের বড় একটা অংশ সরকারী চাকুরীজীবী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক এবং স্বাস্থ্যকর্মী। সাধারণ মানুষ নাই বললেই চলে। নিবন্ধন করে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। করোনা মহামারি সহজে বিলুপ্ত হবেনা। তাই ভ্যাকসিন নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখার বিকল্প নাই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button