করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ভালো নেই ব্যাচেলররা

পড়ালেখার কারণেই বিগত প্রায় চার বছর ধরে পার্বত্য শহর রাঙামাটিতেই ব্যাচেলর হিসেবে থাকছেন অক্ষয় বড়ুয়া। নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পরপরই সঙ্গে থাকা রুমমেটটা বাড়ি চলে গেলেও রাঙামাটিতেই আটকে গেছেন তিনি। এখন প্রায় একমাস ধরেই ঘরবন্দি হয়ে ব্যাচেলর জীবনযাপন করছেন। একই অবস্থা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপায় বসবাসরত আক্তার হোসেনেরও। তিনিও এই সময়টাতে ঘরবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন অতিক্লান্ত করছেন।

আলাপকালে অক্ষয় বড়ুয়া জানিয়েছেন, প্রায় চার বছর ধরেই রাঙামাটিতে পড়ালেখার কারণেই ব্যাচেলর হিসেবে থাকতে হচ্ছে। করোনার প্রভাবে সরকার সাধারণ ছুটি দিলেও আমার বাড়ি যাওয়া হয়নি। তবে সঙ্গে থাকা রুমমেটরা সকলেই বাড়ি চলে গেছেন। এখন সারাদিন বাসায় একা একা ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। আগে যেখানে অবসরের সময়টা বন্ধুদের সঙ্গে থাকাতাম, এখন পুরোপুরি অবসরে থেকেও খুবই বিষন্ন লাগছে।

অক্ষয় বলেন, লকডাউনের দিন যত বাড়ছে, আমাদের মত ব্যাচেলরদেরও কষ্টও যত বাড়ছে। হাতে থাকা টাকাপয়সাও সব ফুরিয়ে যাচ্ছে। এখন যে অবস্থা সব মানুষেরই একই দশা। চাইলেই কারো কাছ থেকে ধার পাওয়াও সম্ভব হবেনা। এমনিতেই আমার যে অবস্থা না পারছি কারো কাছ থেকে সাহায্য নিতে, না পারছি কারোর প্রতি সাহার্য্যের হাত বাড়িয়ে দিতে।

আক্তার হোসেনেও কথার সুরও একই রকম। আক্তার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনেই একদম রুমথেকে বের হচ্ছিনা। বিগত প্রায় একমাস ধরেই এমনই আছি। অথচ আগে কলেজ, টিউশনিসহ অন্যান্য কাজে দিনের বেশির ভাগ সময়ই বাহিরে থাকতে হতো। এখন দিনরাত ২৪ ঘন্টাই বাসায় বন্দি। একদিকে যেমনি বাসায় বন্দি থেকে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছি। অন্যদিকে চিন্তা করছি সামনের দিন নিয়েও। এভাবে চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের মত ব্যাচেলর শিক্ষার্থীরা কিভাবে পেট চালাবে সেটাই এখন বড় ভাববার বিষয়।

ইন্টারনেট থেকে নেয়া ছবি

শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় বসবাসরত জান্নাতুল জারা (ছদ্মনাম) জানিয়েছেন, এক সময় ভাবতাম, কবে একটু শান্তি পাব। স্কুল কলেজে যেতে হবে না, টিউশনিতে যেতে হবে না। বাসায় বসে বসেই দিন কাটাব। অথচ এখনই সেই সময়টা পেয়েও একদমই ভালো লাগছে না। এখন মনে হচ্ছে সেই ব্যস্ত সময়গুলোই ভালো ছিলো। কলেজ যেতাম, শিক্ষার্থী পড়াতাম। ব্যস্ত থাকলেও সময়টা কেটে যেত। এখন টানা অলস জীবনযাপন করতে একেবারেই অতীষ্ট লাগছে।

শুধু অক্ষয়-আক্তার-জারা’রাই নয়; জেলা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাচেলর জীবনযাপন করা শিক্ষাথী, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও একই হাল। এক দিকে যেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে পড়ায় বাসায় অলস সময় কাটাচ্ছেন; তেমনি বন্ধ হয়েছে টিউশনিও। এতে করে শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের একমাত্র আয়-রোজগারের পথটিও এখন বন্ধ। অন্যদিকে চাকরিজীবীরাও ছুটিতে কর্মক্ষম হয়ে আছেন। অথচ সকালে ঘুম থেকে উঠার পরপরই যাদের কর্মব্যস্ত হয়ে পড়তে হত, এখন তারাই সবচেয়ে বেশি অলস জীবনযাপন করছেন।

জেলা শহরের বিজয়নগর এলাকায় বসবাসরত রবিন চাকমা জানিয়েছেন, অবসর সময়ের মধ্যেও যে যন্ত্রণা অনুভব হয়, সেটা কেউ না বুঝলেও আমাদের ব্যাচেলররা বেশ ভালোই অনুভব করছে। এখন বারবারই মনে হচ্ছে সেই কর্মব্যস্ত সময়গুলোই ভালো ছিলো। এখন এতটা অবসরে আছি যে, এমন অবসর আর কখনোই চাইনা। সৃষ্টিকর্তার কাছে আকুল আবেদন করি, এই সময়টা যেন খুব তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। আজ শুধু বাংলাদেশের মানুষই নয়, গোটা দুনিয়ার কয়েক কোটি মানুষ ঘরবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবন অতিক্লান্ত করছেন।

পৌরসভা এলাকার বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, ছোটখাটো একটা চাকরি করতাম। প্রায় একমাস ধরেই ঘরে বসে আছি। বন্ধের সময় মালিক বেতন দিয়েছেন ঠিকই। কিন্তু এখনকার বেতন তো আর দিবেন না। তাই সামনের দিনগুলি নিয়ে খুব চিন্তা হয়না। লকডাউনের সময় যত বাড়ছে চিন্তাও তত বাড়ছে।

এদিকে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, ‘জেলা প্রশাসের পক্ষ থেকে বিপাকে পড়া মানুষের মাঝে সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। আমাদের কাছে এখন যেসব ফোন ও এসএসএম আসছে, আমরা সেসব ঠিকানায় কুইক রেসপন্স টিমের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছি।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button