নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / ভরসার নাম ‘দীপংকর দাদা’

ভরসার নাম ‘দীপংকর দাদা’

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশে নানান আলোচনা চলছে। দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্যে মনোনয়ন নিতে ব্যস্ত দলের অনেক নেতারা। দেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ থেকেও নির্বাচনের মনোনয়ন নিতে ব্যস্ত অনেকে। তবে রাঙামাটি আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দেখতে চায় সংগঠনটির রাঙামাটি জেলার সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে।

দীপংকর তালুকদারের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৯৫২ সালের ১২ ডিসেম্বর রাঙামাটিতে জন্মগ্রহণ করেন এ নেতা। তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক (সম্মাান) ডিগ্রি অর্জন করেন।

দীপংকর তালুকদার ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনীতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশকে বুকে ধারণ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ করে যাচ্ছেন। উনসত্তর ও সাতাশির গণঅভ্যূত্থানে অংশগ্রহণ করে তিনি দুইবার কারাবরণ করেন। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

ছাত্র জীবনে তিনি ১৯৭২-৭৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের ছাত্র সংসদের সদস্য এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-৭৪ সালে তিনি ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ইংরেজি বিভাগীয় সমিতির প্রচার সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৮৬ সালে তিনি রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ ও ২০০২ সালে তিনি পরপর দুইবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এখনো পর্যন্ত তিনি দলটির নেতাকর্মীদের সমর্থনে সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন। তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে রাঙামাটির ২৯৯ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন।

তিনি ১৯৯১ সালে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ১৯৯৬ সালের বাংলাদেশ শিক্ষা কমিটি, সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ও জাতীয় সংসদ হাউস কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদনে রয়েছে তাঁর বিশেষ অবদান।

২০০৯ সালের তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিযুক্ত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলগের সভাপতি পদে রয়েছেন।

তবে তিনি সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস সমর্থীত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের কাছে পরাজিত হন।

নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে কাকে দেখতে চায় নেতাকর্মীরা?
রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন বলেন, দীপংকর তালুকদারের কোন বিকল্প নেই। তিনি নেতাকর্মীদের সাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করে থাকেন। গতবার অবৈধ অস্ত্রধারীরা তাকে যেভাবে পরাজিত করেছে আমরা সে কথা মনে রেখে এবার জনগণকে সাথে নিয়ে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে প্রতিরোধ করে তাকে বিজয় করে আনবো।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। দেশের নানান ক্ষেত্রে ছাত্রলীগের রয়েছে বিশেষ অবদান। তাই আমরা সারা দেশের মত রাঙামাটিতেও ওয়ার্ড থেকে জেলা পর্যন্ত এক হয়ে সক্রিয় অবস্থানে রয়েছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।
রাঙামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শাওয়াল উদ্দীন বলেন, আমাদের অভিভাবক দীপংকর তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে আমরা দেখতে চাই। তার কোন বিকল্প নেই, অন্য কারোর কথা আমরা ভাবতে পারিনা। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমরা মেনে নিবো না।

তিনি আরো বলেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ বর্তমানে সংগঠনের একটি বিশেষ অংশে স্থান করে আছে। কারণ আমরা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করে একটি শক্তি গঠন করেছি। আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা এখন থেকে মানুষের ঘরে ঘরে ভোট চাইতে যাচ্ছি। গতবারের কথা মনে রেখে আমরা এবার সচেতন আছি। যে কোন মূল্যে আমরা অন্যায় শক্তিকে পরাজিত করে দাদাকে জয় করে আনবো।

রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ আক্তার বলেন, দীপংকর তালুকদার রাঙামাটিতে পাহাড়ি-বাঙালীর মধ্যে সেতু বন্ধন হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার বিকল্প কোন কেউ হতে পারে না। তিনি হচ্ছেন আমাদের অভিভাবক। তাই আগামী নির্বাচনে তিনি হবেন আমাদের প্রার্থী। আর আমরা তার নেতৃত্বে এবং নির্দেশে নির্বাচনে কাজ করে যাবো।

তিনি আরো বলেন, দীপংকর তালুকদারের নির্দেশে কৃষকলীগ বর্তমানে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। পার্বত্য জেলার মৎস্য চাষি, ধান চাষি, সবজি চাষি থেকে শুরু করে সকল চাষিরা প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সারা দেশের মত এখানেও পেয়েছে। পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। তাই কৃষকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল বাঁধাকে প্রতিরোধ করে আওয়ামীলীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে বিজয় করে আনবে।

রাঙামাটি জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল বলেন, দীপংকর তালুকদার আমাদের ভরসা। তিনি একমাত্র নেতা যিনি পাহাড়ি-বাঙালীকে একসাথে নিয়ে শান্তি সম্প্রতির বন্ধনে কাজ করে যাচ্ছেন। গতবার যে ৫৩টি কেন্দ্রে একটি দল পেশিশক্তি দেখিয়ে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছিলো। আমরা এবার তা আর হতে দিবো না। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ মাঠে ছিলো, বর্তমানে আছে এবং সামনেও থাকবে। যে কোন অন্যায় শক্তি সামনে এনে আমরা তা পরাজিত করে ছাড়বো।

রাঙামাটি জেলা যুবমহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি রোকেয়া আক্তার বলেন, নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বলতে আমরা দীপংকর তালুকদারকে ছাড়া অন্য আর কাউকে ভাবি না। সারা দেশে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার যেভাবে উন্নয়ন করে যাচ্ছে এতে করে আগামী নির্বাচনে আমরা আশাবাদী যে আমরাই জয় হবো। ২৯৯ আসনে আওয়ামীলীগের সমর্থীত প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে আমরা জয়যুক্ত করে আনবো বলেও আশা রাখি। এরজন্য বর্তমানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

রাঙামাটি জেলা মহিলালীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত সাংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেন, আমরা দীপংকর তালুকদারকেই চাই। তাকে ছাড়া অন্য আর কেউ নেই। আমরা পার্বত্য জেলা রাঙামাটি উন্নয়নে এতসব কাজ করেছি, মাঠে মাঠে এত দৌঁড়ালাম, মানুষ ঘরে ঘরে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছিয়ে দিলাম। আশা করি এরা আমাদের এ কাজের কথা মনে রেখে নির্বাচনে আমাদের দলকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, আমাদের প্রার্থী হচ্ছে দীপংকর তালুকদার। বিকল্প কোন প্রার্থী নেই। আমাদের বর্তমান অবস্থান ভালো। পার্বত্য জেলায় যে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা আশা করি সরকার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করবে এবং জনগণ বর্তমানে অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে সচেতন হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদেরকে রুখে দিয়ে জনগণই দীপংকর তালুকদারকে জয়যুক্ত করবে।

জয়ের ব্যাপারে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ দীপংকর তালুকদার
জয়ের ব্যাপারে ‘অত্যন্ত আশাবাদী’ মন্তব্য করে দীপংকর তালুকদার বলছেন, ২০১৪ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে রাঙামাটির ২০১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টি কেন্দ্রে জনসংহতি সমিতি অস্ত্রের মুখে জোর করে ৯৬ থেকে ৯৯ শতাংশ ভোট নিয়েছে। বাকি ১৪৮টি কেন্দ্রে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। কিন্তু ওই ৫৩টি কেন্দ্রের ‘ভোট ডাকাতি’ ফলাফল পরিবর্তন করে দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এবার যদি তারা এই ভোট ডাকাতি করতে না পারে, নির্বাচন কমিশন যদি এটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে আমিই নির্বাচিত হব। কারণ ঊষাতন তালুকদার নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরে একটি ইটও স্থাপন করতে পারেননি কোথাও। বিপরীতে আমি সেই নির্বাচনে পরাজয়ের পরও জনগণের পাশেই ছিলাম, আছিও।

আরো দেখুন

পর্যটকবাহী বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১

বান্দরবানে একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের হেলপার রাজু (৩৪) …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × 1 =