নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / আলোকিত পাহাড় / ব্যতিক্রমী শিক্ষা কর্মকর্তা মানস মুকুল চাকমা
parbatyachattagram

ব্যতিক্রমী শিক্ষা কর্মকর্তা মানস মুকুল চাকমা

রাঙামাটি জেলার একটি উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানে কর্ণধার তিনি। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হবার পরও শুধু অফিসে বসে থেকে দিন পার করেন না। তিনি তাঁর কাজ শতভাগ করার প্রত্যয় নিয়েই ছুটে চলেন উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

কাউখালি উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মানস মুকুল চাকমা কাউখালি সদরে বসেই তার সকল দায়িত্ব পালন সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রাথমিকের মান উন্নয়নের ছুটে চলেন উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্ত, হোক তা যতই দুর্গম। কখনও ফটিকছড়ি বা নাভাঙ্গা যতই দুর্গম হউক হঠাৎ করে কোন স্কুলকে কিছু না বলেই চলে যান স্কুল ভিজিটে। দেখেন শিক্ষকরা কিভাবে ক্লাস নেয় কেউ ফাঁকি দিচ্ছে কিনা তাও তদারকি করেন। স্কুলের ছাত্রদের বিভিন্ন সময়ে স্কুলে নিয়মিতই ক্লাস নেন তিনি। ছাত্রদের সাথে হাসিখুশি মুখ নিয়ে আনন্দ করে শিক্ষা দেয়। শিক্ষকদের প্রতিও তিনি বেশ আনন্তরিক শিক্ষকদের যেকোন সমস্যা খুব দ্রতই সমাধান করার চেষ্টা করেন তিনি। উপজেলা অফিসেরর কর্মচারীদের সাথেও বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখেন।

উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের সরকারি বরাদ্দের বাইরেও তিনি নিজে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদকে অনুরোধ করে স্কুলে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণের ব্যস্থা করেন। উপজেলার শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে মানস মুকুল চাকমা। শিক্ষকদের নিয়মিত সভার বাইরে যে কোন জরুরি প্রয়োজনে সভা করে সমস্যা সমাধান ও পাঠদান যাতে যথাযথভাবে হয় তার নির্দেশনা প্রদান করেন।

সরকারি বরাদ্দ স্লিপের টাকা, মেরামত টাকা, প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষা উপকরণের টাকা উপজেলার ৬৩টি স্কুলে প্রদান করেই তিনি ক্ষান্ত হন নাই। সবকিছুই যথাযথভাবে ব্যয় হচ্ছে কিনা তা ভালোভাবেই মনিটরিং করেন। সরকারি টাকার অপচয় বা অনিয়ম যাতে না হয় সেদিকটি বেশ ভালোভাবেই তদারকি করেন।

স্থানীয় ছাত্রের অভিবাবক অনন্ত চাকমা বলেন, শিক্ষা অফিসারকে দেখেছি স্কুলে প্রায় সময় আসতে মাঝে মাঝে ক্লাসও নেয় অনেক ভালে লাগে। উনি আসলে শিক্ষকরাও খুব সচেতন থাকে।

প্রাথমিক শিক্ষক বীরসেন চাকমা বলেন, আমরাও দু’বছর ধরে দেখছি তিনি খুবই ভাল মানুষ এবং শিক্ষকদেরও তাঁর প্রতি কোন অভিযোগ এখনও পর্যন্ত কেউ করে নাই। শিক্ষকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়েই কাজ করেন।

কাউখালি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর হোসেন বলেন, একজন তরুণ অফিসার হিসেবে তিনি খুব ভাল। আমরা শিক্ষকরা উনার অধিনস্ত হলেও তার ব্যবহারে সেটি বুঝার উপায় নাই, তিনি খুবই আন্তরিক এবং নিয়মিত স্কুলে পরিদর্শনে যান আমাদের কোন ভুল হলে তিনি বুঝিয়ে দেন।

মানস মুকুল চাকমা বলেন, আমি চেষ্টা করছি প্রাথমিকের ছাত্রদের মানসম্মত শিক্ষা দানের জন্য, আমার উপজেলার শিক্ষকরাও বেশ আন্তরিক। অনান্য উপজেলা সাথে তুলনা করলে বেশ ভাল অবস্থানে আছে কাউখালি। তবে তিনি সমস্যার কথাও জানান। তিনি আরো বলেন, ডেপুটেশন কালচারটা আমাদের জন্য খুব খারাপ এর জন্য শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রতিটি স্কুলে পাঠদানে সমতা আনা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। আমি যতদিন চাকরী করব, ততদিন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাব ভালো কিছু করার জন্য।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী ও বরকলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে কাউখালি উপজেলায় কর্মরত আছেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

অস্ত্রের মুখে রুমায় ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ 

বান্দরবানের রুমায় অস্ত্রের মুখে ৬ গ্রামবাসীকে অপহরণ করেছে সন্ত্রাসীরা।  রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে পুলিশ …

Leave a Reply