করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বেপরোয়া এই যুবকদের রুখবে কে ?

নিয়ম না মেনে মোটর শো,পর্যটন কমপ্লেক্সে ঝুঁকিপূর্ণ আড্ডা!

করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণকালীন সময়ে রাঙামাটির সকল পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকসহ ঝুলন্ত সেতুর প্রবেশের গেইট। এই সুযোগে যে কেউ চাইলে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারে সেতুতে। অরক্ষিত ও অসচেতনভাবে পর্যটকসহ স্থানীয়দের আসার কারণে রাঙামাটিতে করোনার ঝুঁকি বাড়ছে অনেকগুন।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বিকালে অসংখ্য মোটর-সাইকেল নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এমনকি রাঙামাটির আশেপাশের জেলা থেকেও অনেকে বেড়াতে আসছেন। অনেকে আবার অন্য ছোট গাড়ি নিয়েও আসে। মোটর-সাইকেলে করে আসা পর্যটক ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও মাস্ক ব্যবহার করা তেমনটা লক্ষ্য করা যায়নি। সেতু বা পর্যটন এলাকায় এমন আড্ডায় নেই কোনো বিধি-নিষেধ, নেই কোনো ধরনের মনিটরিংও। পর্যটন কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন ধরনের মাথা ঘামান না বললেই চলে। পর্যটন এলাকায় বা সেতুতে প্রবেশে কর্তৃপক্ষ কেউ কোন পর্যটককে নিষেধও করছেন না। প্রতিদিন অসংখ্য যুবক নিজেদের মত করে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে এ পর্যটন এলাকায়।

সরেজমিন আরও দেখা যায়, পর্যটন সেতুর প্রবেশ মুখেই অনেকগুলো মোটর-সাইকেল পার্কিং করা আছে। পর্যটন এলাকার ভিতরে এবং সেতুর উপর অনেক তরুণ ছেলেদের বিকালে আড্ডা দিতে দেখা যায়। হৈইহুল­রে মেতে থাকছে তারা। গান ও বিভিন্ন মজা করে সময় পার করছে। তারা নিজেরা মানছে না কোন ধরনের শারিরিক দূরত্ব। একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরেও আড্ডা ও গান গাইতে দেখা গেছে। তাদের প্রায় কারোই মুখে মাস্ক ছিল না। এমন অরক্ষিত ও অসেচতন আড্ডা করোনার ঝুঁকি আরও অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, মূলত ১ জুন থেকে মুল গেইট খুলে দেয়াতে পর্যটনে প্রবেশে স্থানীয় ও তরুণ পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। ঝুলন্ত সেতুতে এমন আড্ডায় ব্যস্ত যুবকদের নিষেধ করার মত কেউ নেই। এমনকি সেতুতে প্রবেশ করতেও তাদের কোন বিপত্তি পোহাতে হয় না। যে কেউ পর্যটন আসলে যেতে পারে ঝুলন্ত সেতুতে, প্রবেশের জন্য নিতে হয় না কোন টিকিটও।

মাস্ক ব্যবহার করছেন না আমিন হোসেন নামে এমন একজন বলেন, এমনিতে মাস্ক ব্যবহার করছি না। তাছাড়া আমাদের কারো করোনা নেই।

সুমন নামে আরেকজন বলেন, আমাদের কিছু হবে না। এ সময়ে পর্যটনে কেন আসছেন জানতে চাইলে উত্তরে বলেন, পর্যটনে ঢুকতে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয় নাই। তাছাড়া আমরা যখন প্রবেশ করেছি তখনতো কেউ আমাদের নিষেধ করেনি।

এদিকে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক পর্যটনের কমপ্লেক্সের এক কর্মচারী বলেন, গেইট খুলে দেয়াতে তো আমাদের বা পর্যটনের কোন লাভ হচ্ছে না। বরং করোনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। আমরাও আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়লাম। আর তাছাড়া কেন গেইট খুলে দিল সেটাইতো বুঝতে পারছি না।

স্থানীয় আবুল কালাম নামের এক ডায়াবেটিক রোগী বলেন, আমি ডায়াবেটিকের কারণে প্রায় সময় এদিকে এসে হাঁটাহাটি করি কিন্তু এখন যে পরিমান গাড়ি আসে তাতে এই পথে হাঁটাটা অনেক দূরহ হয়ে গেছে। সেতুর পরে যেহেতু পাড়া আছে তাই পর্যটনে যারা চাকরি করে তারাতো জানেই কারা সেই পাড়ায় থাকে। তারা ছাড়া অন্যদের সেতুতে কেন ঢুকতে দেয় আমি বুঝি না। দ্রুত পর্যটনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ করা উচিত।

পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া বলেন, আমরাও জানি কিছু এলাকার ছেলে-পেলে এসে আড্ডা দেয়। তাদের আমরা নিষেধ করতে পারি না, কারণ নিষেধ করলে তারা আমাদের উপর চড়াও হয়। অন্যদিকে মূল গেইট বন্ধ থাকার কথা ছিল কিন্তু এলাকাবাসীর কিছু মোটর-সাইকেল আছে, তার জন্য বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। ভিতরের দিকে মদেরও আড্ডা হয় সেটা জানি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button