রাঙামাটিলিড

বেইন ঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাজবন বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
বেইনঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির রাজবন বিহারে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ৪৯ তম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। রাঙামাটির রাজবিহারের চীবর দান উৎসবই পার্বত্যাঞ্চলে বৌদ্ধদের বৃহত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব। এই উৎসবে দেশ বিদেশের লাখো পুণ্যার্থী অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় বেইনঘর উদ্বোধন করেন। এসময় চরকায় তুলা থেকে সুতা কেটে উদ্বোধন করেন চাকমা রানী য়েন য়েন। ধর্মীয় আনুষ্ঠাকিতা সম্পন্ন করেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী।

উদ্বোধনের পর চাকমা সার্কেল চিফ ব্যারিস্টার দেবাশীয় রায় বলেন, মানবমুক্তি ও কল্যাণে প্রতিবছর রাজবন বিহার আড়ম্বরপূর্ণভাবে কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করা হচ্ছে। করোনার কারণে গত দুই বছর আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও এই বছর উৎসাব উদ্দীপনায় আবারো কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে বুদ্ধ পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে এই দিনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয় দেব-মানবের তথা সকল প্রাণীর হিতার্থে ধর্মদেশনা। ধর্মদেশনায় উপস্থিত থাকবেন রাজবন বিহারের আবাসিক প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার মহাস্থবির। দুপুরে গৌতম বুদ্ধ ও বনভান্তের প্রতিকৃতিতে চীবর দান করা হবে।

তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে সবচেয়ে আড়ম্বরপূর্ণভাবে রাঙামাটি রাজবন বিহারে প্রতিবছর এ দানোৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিকে উৎসব উপলক্ষে রাজবন বিহার এলাকায় বিশাল মেলা বসেছে। মেলা প্রাঙ্গণে সহ¯্রাধিক স্টলে সারাদেশ থেকে কুটির ও হস্তশিল্পের পণ্যের পসরা নিয়ে লোকজন এ মেলায় অংশ নিয়েছে। এছাড়া নাগরদোলাসহ বিভিন্ন খেলা, যাদু প্রদর্শনী, ধর্মীয় পালাকীর্তনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় মহাউপাসিকা বিশাখা ২৪ঘন্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা এবং সুতা রঙ করে কাপড় বুনে তা সেলাই করে চীবর (ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্র) দান করে এই কঠিন চীবরদানের সূচনা করেন প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। এই পদ্ধতিতে দান করলে কায়িক, বাচনিক মানসিকভাবে অধিক পরিশ্রম হয় এবং অধিকতর পূণ্যলাভ হয় বলে বৌদ্ধ শাস্ত্রে উল্লেখ আছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু সাধনানন্দ মহাস্থবির (বনভান্তে)রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার তিনটিলা বন বিহারের দায়ক-দায়িকাদের দিয়ে এই কঠিন চীবর দানোৎসবের পুনঃপ্রবর্তন করান।

রাঙামাটি রাজবন বিহারে সর্বপ্রথম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। সেই থেকে প্রত্যেক বছর রাঙামাটি রাজবন বিহারসহ তিন পার্বত্য জেলার রাজবন বিহারের শাখাসমূহে বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে কঠিন চীবর দানোৎসব সম্পাদন করা হয়ে থাকে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × one =

Back to top button