ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বৃষ্টি হলেই মানুষ বাড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে

গত শনিবার থেকে রাঙামাটিতে টানা বর্ষণের ফলে জনজীবনে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের শঙ্কায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলা শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের ভিড় ছিল। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে গেছে। তবে অনেকে এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই রয়ে গেছেন অনেকেই। ভারী বৃষ্টিপাত হলে রাতে উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

রাঙামাটি শহরের পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরতদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুপুর ও রাতে খাবার দেওয়া হচ্ছে। এদিকে সকাল থেকে জেলা শহরে বৃষ্টিপাত না হলেও বিকেলের পর থেকে হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তাই এখন পাহাড়ের বসবাসরতদের বৃষ্টিতেই ভয়। কারণ বৃষ্টি হলেই পাহাড়ধসের শঙ্কা বাড়ে। শুক্রবার শহরের বিএডিসি ভবন আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে কথা হয় কয়েকজনের সাথে। তারা জানিয়েছেন, আবার বৃষ্টি হতে পারে সেই আশঙ্কায় বাড়িতে যাচ্ছেন না। তবে কেউ কেউ বৃষ্টি কমলে বাড়ি চলে যাবেন বলে জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনের উপস্থিতি কিছুটা কমেছে। এখনো হাজারো অধিক মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। যেহেতু বিকেল থেকে বৃষ্টিপাত হচ্ছে সেহেতু রাতে মানুষের উপস্থিতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারনে জেলার দুর্গম বাঘাইছড়ি উপজেলায় নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে গৃহবন্দী হয়ে আছেন কয়েক হাজার মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার কিছুটা পানি কমেছে উপজেলার প্লাবিত এলাকায়। তবে শুক্রবার সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হলেও দুপুর থেকে বাঘাইছড়িতে সুষমধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ও পাহাড়ি ঢলে পানির উচ্চতা আরও বেড়েছে।

উপজেলার ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া মানুষ এখনো আশ্রয়কেন্দ্রেই অবস্থান করছেন। শুক্রবার সকালে বাঘাইছড়ির প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এসময় তিনি এলাকাবাসী খোঁজখবর নেন এবং প্লাবিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ টাকা বিতরণ করেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও জরুরি ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে। আমরা যতটুকু সম্ভব জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো এবং মেডিক্যাল টিম কাজ করছে আশা করে বৃষ্টি না হলে বড় ধরনের বন্যা থেকে আমরা রক্ষা পাবো।’

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহসান হাবিব জিতু জানান, সকাল থেকে বৃষ্টিপাত না হলেও দুপুরের পর থেকে আবার টানা বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে যদি বৃষ্টি থাকে তাহলে আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়া আশঙ্কা রয়েছে। সর্বশেষ তালিকা অনুযায়ি আমরা ৩২৭ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আরও অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে না এসে আত্মীয় বাড়িতে ওঠেছে। সেই সংখ্যা আমাদের জানা নেই। ইউএনও জানান, খাবার পানির সংকট মোকাবেলায় প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার পানি বিশুদ্ধ করণ ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন বিতরণ করা হয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button