ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বৃষ্টি বেড়েছে পাহাড়ে

গত সোমবার থেকে রাঙামাটিতে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণের ফলে মঙ্গলবার সকালে শহরের বিভিন্নস্থানে পাহাড় ধসে নিহত হয়েছেন ১১২ জন। মঙ্গলবার সকাল পাঁচটা থেকে শুরু হওয়া এই ধসের ঘটনায় বিস্মিত হয়ে পড়েছেন রাঙামাটির মানুষ। রাঙামাটির ১৪৫ টি স্থানে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রাঙামাটি চট্টগ্রাম সড়কেই অন্তত: ৩৭ টি স্থানে ধ্বসে পড়েছে পাহাড়।

আবহাওয়া ও পরিবেশবিদরা বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত,অপরিকল্পিত আবাসন, নির্বিচারে বৃক্ষকর্তন,পাহাড়ের মাটিকাটার কারণেই এই পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে।

রাঙামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ রাঙামাটি’র নির্বাহী প্রধান হেফাজত উল বারি সবুজ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি বেলে দোআঁশ প্রকৃতির। এই ধরণের মাটির আঠালো গুনাবলি নেই। এ ধরণের মাটি শুকনো অবস্থায় কঠিন থাকে আবার পানির সংস্পর্শে খুব নরম হয়ে যায়। এ মাটির ধারণ ক্ষমতা কম। ফলে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ে ধ্বস নেমেছে।’

রাঙামাটির প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তারা আগে কখনই দেখেননি। রাঙামাটির প্রবীন সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, আমার জীবদ্দশায় এমন ঘটনা দেখতে হবে ভাবিনি। এটা ঠিক যে,রাঙামাটিতে অপরিকল্পিত বসত নির্মাণ বেড়েছে,বাড়ছে পাহাড় কাটা,বৃক্ষ উজাড়ও। আবার বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তনের বাইরে নয় রাঙামাটিও। ফলে এর প্রভাবতো পড়ছেই। কিন্তু সবচে বড় শংকা হলো রাঙামাটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া বৃষ্টিপাত। যা নতুন শংকার কারণ হতে পারে।’

একই কথা বলছেন পরিবেশ কর্মীরাও। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়াটা শংকার কারণই বলছেন তারা। রাঙামাটি জেলার গত ১০ বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে,২০০৭ সালের ১০ থেকে ১৫ জুন রঙামাটি জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিলো ১০৫ থেকে ১২০ মিলিমিটার। ২০০৮ সালের একই সময় গড় বৃষ্টিপাত ছিলো মাত্র ১০ থেকে ১৪ মিলিমিটার। পরের বছরগুলোর মধ্যে গত বৃষ্টিপাত প্রায় একই রকম থাকলেও ২০১৬ সালের একই সময়ে এসেই বৃষ্টিপাত বাড়ে অস্বাভাবিক হারে। এসময় গত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৪৩ মিলিমিটার। এবছর ঠিক একই সময়ে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪৩ মিলিমিটার। অথচ মাত্রই শুরু হলো আষাঢ় মাস। ফলে ভয় আর শংকা কাজ করছেই সবার মাঝে।
গত ১০ বছরে রাঙামাটির বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে ১০৫-১২০ মিমি,২০০৮ সালে ২০.৫-১৪ মিমি, ২০০৯ সালে ০০ মিমি,২০১০ সালে ৭৪-১০৫ মিমি,২০১১ সালে ২.৫ -১৮ মিমি,২০১২ সালে ০০ মিমি,২০১৩ সলে ১২.৫-১৩ মিমি,২০১৪ সালে ০০ মিমি,২০১৫ সালে ৩৬-৬০ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধুই ২০১৬ এবং ২০১৭ সাল। এই দুই বছরে এই জেলায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৪৩ মিমি। গত ১০ বছর ধরে বছরের এই সময়টায় বৃষ্টিপাতের এই চিত্রই যেনো বহু প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

১টি কমেন্ট

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: