অরণ্যসুন্দরী

বুকিং না দিয়েই সাজেকে গিয়ে বিপাকে কয়েক’শ পর্যটক !

রুম না পাওয়ায় অনেককেই থাকতে হচ্ছে বারান্দায় বা গাড়িতে

জিয়াউল জিয়া

সারা বছর পর্যটকদের ভীড় লেগেই থাকে মেঘের উপত্যকা রাঙমাটির সাজেক ভ্যালিতে।  ছুটির দিনগুলোতে এখানে উপচে পড়ে পর্যটকরা।

তবে এবার আগে রুম বুকিং না করেই সাজেক গিয়ে বিপাকে পড়েছেন পর্যটকরা। অনেককেই থাকতে হচ্ছে গাড়িতে, রিসোর্টের বারান্দায় বা খোলা আকাশের নিচে।

সাজেক হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সুবর্ণ দেব বর্মন জানান, যারা পরিকল্পনা ছাড়া সাজেকে এসেছেন, তারাই বিপাকে পড়েছেন। আমাদের কটেজ আছে ১১২টি। রিসোর্টগুলোতে প্রায় ৪ হাজার পর্যটক থাকতে পারে। সাজেকে আজ ৩ শতাধিকের বেশি গাড়ি প্রবেশ করেছে। ২০০ গাড়ি আসলে প্রায় ৪ হাজার পর্যটক হয়ে যায়। তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কি পরিমান পর্যটক সাজেকে অবস্থান করছেন। তিনি আরও জানান, আমরা অনেকে রাতে থাকার জন্য আশে পাশে বাসা বাড়িতে ব্যবস্থা করে দিয়েছে। তিনি পর্যটকদের উদ্যেশ্যে বলেন রুম বুকিং ছাড়া কেউ যেন সাজেক বাড়েতা না আসনে।

কটেজ রির্সোট ছাড়াও সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘরেও থাকছেন পর্যটকরা।

সাজেকে বেড়াতে যাওয়া মঈন উদ্দিন বলেন, আমি গতকাল এসেছি। আগেও অনেকবার এসেছি। এতো মানুষ  আগে কখনো দেখিনি। গতকালও অনেক লোকজন রুম না পেয়ে আশেপাশে পাড়ায় বিভিন্ন বাসা বাড়িতে  অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছে। ছুটির কারনে লোকজনের চাপ অনেক। সেই সুযোগে অনেক রিসোর্ট ভাড়া ও খাবারের দামও কিছুটা বেশি মনে হয়েছে।

সাজেকে বেড়াতে গিয়ে বিপাকে পড়া পর্যটক পিকু দাশ জানান, আমার ১০-১২ জন বন্ধু মিলে হঠাৎ প্লান করে সাজেক এসেছি বেড়াতে। কিন্তু কোন রিসোর্টে রুম পাইনি। বাধ্য হয়ে গাড়িতে থাকতে হবে।  এক রাত আড্ডা দিয়ে সময় কাটিয়ে দিব।

সাজেকে মেঘাদ্রি ইকো রিসোর্ট এর ম্যানেজার বাদল দাশ জানিয়েছেন, শুক্র-শনিবার প্রচুর পর্যটক হয় সব সময়। এর সাথে সরকারি কোন বন্ধ থাকলে পর্যটকের পরিমান আরও বেড়ে যায়। ৫ তারিখ থেকে প্রচুর চাপ যাচ্ছে। রাতে অনেকে রুম খুঁজতে আসে। কিন্তু কোন রুম খালি নাই। আমাদের ৫ তারিখ থেখে ৯ তারিখ পর্যন্ত রুমগুলো ২ মাস আগের বুকিং।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুমানা আক্তার জানান, রুম সংকটের বিষয়টি শুনেছি। তবে যারা আগে রুম বুকিং করে সাজেক গিয়েছে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই পর্যটকদেরও জেনে শুনে আসা উচিত। তাহলে এই সমস্যায় পড়তে হবে না।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twenty − 11 =

Back to top button