পাহাড়ের সচলচিত্রব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাত বার্ষিকী আজ

আজ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর শাহাদাত বার্ষিকী। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ২০ এপ্রিল রাঙামাটির নানিয়ারচরের বুড়িঘাটে শত্রুবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীর দর্পে লড়াই করে শহিদ হয়েছিলেন তিনি। তাঁর বীরত্বের কারণে সেদিন ৮০ জন সহযোদ্ধার প্রান রক্ষা হয়েছিল আর পরাস্ত হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী। এই যুদ্ধে শত্রুবাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত এবং তাদের বহনকারী বোট বিধস্ত হয়েছিল। আর পিঁছু হঁটতে বাধ্য হয়েছিল শত্রুবাহিনী। দেশ স্বাধীন হওয়ার বাংলাদেশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বীরত্বপূর্ণ ভুমিকার জন্য মুন্সী আব্দুর রউফকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভুষিত করেন। তাকে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাটে একটি টিলার ওপর সমাহিত করা হয়।

মুন্সি আব্দুর রউফ ১৯৪৩ সালের ১ মে ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলা (পূর্বে বোয়ালমারি উপজেলার অন্তর্গত) সালামতপুরে (বর্তমান নাম রউফ নগর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুন্সি মেহেদি হাসান ছিলেন স্থানীয় মসজিদের  ইমাম এবং মাতা মুকিদুন্নেসা। তার ডাকনাম ছিলো রব। তার দুই বোনের নাম ছিল জোহরা এবং হাজেরা।

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের সমাধি পার্বত্য জেলা রাঙামাটির নানিয়ার চরে অবস্থিত। তার অপরিসীম বীরত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্ব্বোচ সম্মান বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত করে। বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সি আব্দুর রউফকে অনরারি ল্যান্স নায়েক পদে মরণোত্তর পদোন্নতি প্রদান করে।

২০১৪-এ পিলখানায় বাংলাদেশ রাইফেলস কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজ । তার স্মৃতিতে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি এলাকায় সেনা ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ECB-16) একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে। মানিকছড়ি, মুসলিম পাড়া, মহালছড়ি,খাগড়াছড়িতে এর একটি উচ্চ বিদ্যালয় তার নামে রাখা হয়েছে। সিলেটের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম তার নামে রাখা হয়েছে। ফরিদপুর জেলার একটি কলেজ তার নামে রাখা হয়েছে, যেটি সরকারিকরণ করা হয়েছে। রাঙামাটি শহরের বিজিবি সেক্টর এলাকায় তার নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও আছে। শহরের রিজার্ভবাজারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে আছে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্কোয়ার।

২০১৮ সাল থেকে এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও আড়ম্বরপূর্ণভাবে আয়োজন করে আসছে রাঙামাটির সামাজিক সংগঠন বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন। চলতি বছরও করোনা সংক্রমনের কারনে সকল আয়োজন স্থগিত করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোক্তা ও পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল জানান, দিনটি পালনের জন্য বিগত বছরের মত এ বছরও শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল এবং ২০ এপ্রিলের আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমনের কারনে সকল প্রস্তুতি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে এই অনুষ্ঠাসমূহ আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।  বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের শাহাদাত বার্ষিকী, জন্মবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন এবং শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতেই বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বলেও জানান  মি: সোহেল।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button