নীড় পাতা / ব্রেকিং / বীনায় বাজে জীবনের সুর……….

বীনায় বাজে জীবনের সুর……….

ছোট্ট প্রাঙ্গন ঘরের এমাথায় ওমাথায় ছুটছে তিড়িংবিড়িং।পেছনে থেকে চিৎকার করছে মা।শীত বাইরে জ্যাকেটা পড়ে ফেল।কে শুনে কার কথা।সে ব্যস্ত ছুটে।ঘরের সামনের দরজা দিয়ে বের হয় ঢুকে পেছনের দরজা দিয়ে।তিড়িংবিড়িং চলছেই।ক্লান্ত হয়ে মা বীনা দায়িত্ব ছেড়ে দিলো ক্লাশ এইট পড়ুয়া মাধুরীর উপর।বীনার বোনের মেয়ে।
বীনা বীনার তিনবছরের ছেলে স্বামী আর বোনের মেয়ে এই হলো বীনার সংসার।বছর পাঁচেক আগে বিয়ে আর তার তিন বছর পর এই বাজার ভিটায় সংসার।দু রুমের মাটির কুটির।সামনের কামরার এক অংশে দোকান।ঘরে বানানো নাস্তায় রুজি রোজগার।বীনার বর শ্যামল আগে গাড়ি চালালেও এপাড়ায় আসার পর রোজগারের গাড়ি হয়ে যায় মাছ।সকালে মাছ ধরে ঘাট থেকেই তুলে দেয় ব্যাপারীর হাতে।আয় রোজগার এই নিয়েই সংসার।
সারাদিনের সূর্য্য তেজদীপ্ত আলোর আঁচ শেষে সন্ধ্যায় হাজির হিম আবেশ।মাটির কুটিরে শীতের আঁচ খানিকটা কম তবে আধিপত্য জলবাতাসের।লেক থেকে ভেসে আসছে হীম হাওয়া।ঘরের মাঝে টিম টিম একটাই আলো,সোলারের।বিদ্যুৎ নেই এই পাড়ায়।ঘরে ফেরেনি এখনো কর্তা।ফিরবে খানিক বাদেই।সকালে বের হয়ে মাছের বিকিকিনি শেষে দুপুরে ঘরে ফিরে গিন্নির সাথে নেমে পড়ে রসুই ঘরে।দোকানের জন্য বিকেলের নাস্তা পেয়াজু ছোলা মিষ্টিগোল্লা বানিয়ে বের হয়ে পড়ে আবার।দোকানীর বেশে হাজির হয়ে যায় কর্তী বীনা।বিকেল সন্ধ্যা জুড়ে ঘরের সদর দরজা উন্মুক্ত থাকে ক্রেতা ক্লান্ত পথিকদের জন্য উষ্ণ আসর জমাতে।বেলা পড়ে সন্ধ্যা ডুবি ডুবি।চা টেবিলে দিয়েই দোকান ঘরের কামরায় লাগোয়া চৌকির উপর ব্যতিব্যস্ত দোকানী গিন্নি বীনা।রাতের খাবারের রান্নার প্রস্তুতি।দোকানের পাটাতন নামিয়েই দোকানী গিন্নি নামবে ঘরকন্যার বেশে।উনুনে আগুন।
ঘরের সদর দরজা খোলা রেখে নেমে যাচ্ছে দোকানের বাকি পাটাতন।ঘরের একমাত্র আলোয় বই খুলবে ঘরের পড়ুয়ারা।বীনার বোনের মেয়ে বরাদম হাই স্কুলের ছাত্রী মাধুরী আর ছোট্ট প্রাঙ্গন যায় এলাকার পাড়াকেন্দ্রে।হাতে খড়ি গত বছর থেকেই।সামনের বছর থেকে যাবে স্কুলে এমনটাই ইচ্ছে মায়ের।সংসার যেমন তেমন ছেলে মেয়ের পড়াশোনা থামানো চলবেনা।এই কারণেই এই বাড়িতেই বেড়ে
কি আছে এই সংসারে!দু রুমের মাটির কুটির।সদর রুমে একটাই টিমটিম আলো।দিনে আনে দিনে খায় সংসার।
কাজের অবসরে ঘরকন্যার সাথে উনুনে রান্নাবান্না আর খুঁনসুটিতে ব্যাস্ত শ্যামল-বীনা দম্পতি!মুচকি হাসি বীনার মুখে,’মাঝে মাঝে রান্না করেতো,ভালোই লাগে’।।
সময় গড়াচ্ছে।ব্যস্ত হয়ে উঠলো বীনা।কর্তা ফেরার আগেই রান্না শেষ করতে হবে।চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে উঠবো আমিও।শীত বাড়ছে।ফিরবো,ফিরতে হবে।
ছোট্ট সংসারের একরাশ পূর্নতা সাথে নিয়ে হিম হাওয়া গা জড়িয়ে ঘরে ফেরা।চোখে লেগে আছে মিষ্টি মেয়ে বীনার ভালোবাসা,বীনার ছোট্ট সংসার……….আহ জীবন আহ ভালোথাকা।সুখ কি কেউ কাউকে দেয়!সুখ খুজে নিতে হয়,যত্নে সাজিয়ে রাখতে হয়………….

আরো দেখুন

উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা পরিষদের সমঝোতা স্মারক সই

পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় টেকসই সামাজিক সেবা প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × three =