পাহাড়ের অর্থনীতিলিড

বিশ্বের সবচে দামী আম ‘সূর্য ডিম’ পাহাড়ে !

চাষ হচ্ছে খাগড়াছড়িতে

অপু দত্ত,খাগড়াছড়ি

ছবি : অন্তর্জাল থেকে নেয়া

পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়া অনেক রকম ফল চাষের জন্য উপযোগী। সারাদেশ ব্যাপি রয়েছে এখানকার উর্বর মাটিতে চাষ হওয়া কৃষিপণ্যের চাহিদা। নতুন নতুন কৃষিজাত উদ্ভাবন যেমন সমৃদ্ধ করছে কৃষিখাতকে তেমনি পাহাড়ের মাটিতে বিদেশী ফল চাষ করে নতুন আশার আলো সঞ্চার করছে।

খাগড়াছড়িতে চাষ হওয়া সূর্যডিম

তেমনি কৃষিতে নতুন চমক ‘সূর্যডিম’ জাতের আম। এটিকে বিশে^র সবচেয়ে দাবী আম বলা হচ্ছে। জাপানের এই আমটি খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার ধুমনি ঘাটের কাটামোড়া এলাকায় কৃষক হ্লাসিং মং এর বাগানে চাষ করেছেন। জাপানে আমটিকে ‘তাইয়ো নো তামাগো’ বলা হয়। আবার জাপানের মিয়াজাকিতে উৎপন্ন হয় বলে মিয়াজাকি আম বলা হয়। এছাড়া বিশশ্ববাজারে এটি ‘রেড ম্যাংঙ্গো’ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানাচ্ছে, ২০১৫ সালের নিজের প্রায় ৩৫ একর পাহাড়ী জায়গায় স্থানীয় কয়েক প্রজাতির আমের চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ভারত থেকে সূর্যডিম জাতের ২০টি চারা আনেন। বর্তমানে তাঁর বাগানে ১২০টি ছোট বড় সূর্যডিম জাতের আমের গাছ রয়েছে। যার অর্ধেক গাছে ফলন এসেছে। অনেকটা লাল বর্ণের আমটিকে ‘রেড ম্যাঙ্গো’ বলা হয়।

কৃষক হ্লাসিংম মারমা বলেন, শখের বসে অল্প কয়েকটি সূর্যডিম গাছের চারা সংগ্রহ করি। পাহাড়ের মাটি ও আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে পারায় পরবর্তীতে চারার সংখ্যা বৃদ্ধি করি। এখন প্রত্যেকটি গাছে ১০/১২ কেজি করে ফেলন হয়েছে। বর্তমানে প্রতিকেজি ৬০০ টাকা করে পাইকারি বিক্রি করছেন বলেও জানান তিনি।

উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে এটি জাপানি আম। নাম ‘তাইয়ো নো তামাগো’। এটি জাপানের মিয়াজাকিতে উৎপন্ন হয় বলে এই আমকে ‘মিয়াজাকি’ নামেও ডাকে। এপ্রিলের এই আমের আকার, আকৃতি, রং, মিষ্টতা, স্বাদ নির্নয় করে আম নির্বাচন করা হয়। এই আম ৩৫০ গ্রাম ওজনের অধিক নয়। এই আমের স্বাদ অন্য আমের চেয়ে ১৫গুণ। ২০১৯ সালে দেশটিতে একজোড়া আম সাড়ে ৩হাজার ডলারে বিক্রির রেকর্ড রয়েছে।

হ্লাসিং মং এর বাগানে দেশী বিদেশী, প্রচলিত ও অপ্রচলিত মিলে মোট ১৭০ প্রজাতির গাছ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা: মুন্সী রশীদ আহমেদ জানাচ্ছেন, দেশে প্রচলিত আমের তুলনায় এই আমের দাম অনেক বেশি। এটি নিঃসন্দেহে ভালো খবর যে জাপানিজ এই আমটি পাহাড়ের মাটির সাথে মানিয়ে নিতে পরেছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করা গেলে কৃষক লাভবান হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button