পাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়াপাহাড়ের রাজনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বিভক্ত বিএনপি,একাট্টা আওয়ামীলীগ,নিশ্চুপ জেএসএস

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নানান সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে পার্বত্য রাঙামাটির রাজনীতি। এখনো পর্যন্ত নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যদিয়ে চলছে ভোটের আলাপ। তবে, এক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। একদিকে বিভক্তির সুর বিএনপিতে; অন্যদিকে এখনো পর্যন্ত নিজেদের অবস্থার জানান দেয়নি জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।

এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির একক প্রার্থী দীপংকর তালুকদার। তিনি এর আগে ৫ বার দলের পক্ষে একাই মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য। এর আগে ২০০৭ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল দীর্ঘ ২৩ বছরে তিনি ৫ টি নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেন। তিনবার তিনি নির্বাচিত হলেও গত ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ান এবং বিগত ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেএসএস’র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদারের কাছে তিনি পরাজিত হন। তাই এবার আবারও আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য মরিয়া জেলা আওয়ামী লীগ।

একদিকে, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান মনোনয়ন পত্র নিয়ে ভোটের মাঠে হঠাৎ উপস্থিত। যার কাছে ২০০১ সালে হেরেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর। অন্যদিকে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যার কাছে এ আসনটি হারিয়েছে সেই জেএসএস নির্বাচনে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটি এখনও ধোঁয়াসাই রয়ে গেছে। তাই এই নিয়ে এ জেলার নির্বাচন নানান সমীকরণের বাঁকে।

রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, আমাদের একক প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। এছাড়া আমাদের বিকল্প কোনও প্রার্থী নেই। তিনি বলেন, একদলের মৌসুমী পাঁখি আর অন্যদল গত পাঁচ বছর পার্বত্য জেলা রাঙামাটির জন্য কিছুই করতে পারেনি। অন্যদিকে আমরা রাঙামাটিতে ক্ষমতায় না থাকার পরেও মাঠে-ঘাটে ছিলাম। উন্নয়ন কর্মকান্ডে সব সময় লেগে ছিলাম। তাই রাঙামাটিবাসী আমাদেরকে ভোট দিয়ে জয় করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

এদিকে, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছে নয় জন। তারা হলেন-সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান, কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, উপজাতি বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনীষ দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি হাজী শাহ আলম, সহ-সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম ভূট্টো, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম পনির, কাপ্তাই উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন, বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক মেয়র আলমগীর হোসেন।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির দীর্ঘ দিনের গ্রুপিং মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের পর থেকে নানান তর্ক-বিতর্ক এবং তাদের আলোচনা-সমালোচনার মাধ্যমে আবারও প্রকাশ পেয়েছে। গত সোমবার দুপুরে রাঙামাটি রিপোর্টাস ইউনিটি কার্যালয়ে বিএনপির এক অংশ দীপেন দেওয়ানের অনুসারীরা সংবাদ সম্মেলন করে দীর্ঘ দিন পরে দলে ফিরে আসা সাবেক পার্বত্য উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ানকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবি জানান। এসময় তারা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি দীপেন দেওয়ানকে মনোনয়ন দেয়ার জন্য দাবি জানান কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছে। না হয় গণহারে পদত্যাগ করার হুমকি দেন।

একই দিন সন্ধ্যায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দিবে তাকে সকল নেতাকর্মীরা মেনে নিবে এবং তার জন্যে কাজ করবেন।

রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু বলেন, আমি বর্তমানে দলীয় কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি, এখান থেকে যতটুকু খবর নিয়েছি এতে জানতে পারি সোমবার দুপুরে যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের মধ্যে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল কেউ ছিলো না। যদি দীপেন দেওয়ান নিজে উপস্থিত থাকতেন তবে বুঝা যেতে এ সম্পর্কে। তিনি বলেন, জেলা বিএনপির বক্তব্য পরিষ্কার মনোনয়ন প্রত্যাশী নয় জনের মধ্যে দল যাকে মনোনয়ন দিবে জেলা বিএনপি তাঁর জন্যে কাজ করবে।

নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকল মতভেদ ভুলে গিয়ে এ আসনটি আবারও পুনরুদ্ধার করার জন্যে বিএনপির সকলস্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে দলের জন্যে কাজ করেন। ব্যক্তি পছন্দ থাকতে পারে কিন্তু দলের সিদ্ধান্তটাই বড়।

অন্যদিকে, এখনো নিশ্চুপ পাহাড়ের প্রভাবশালী আঞ্চলিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। গত ২০১৪ সালের নির্বাচনে এ দলের প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার প্রায় ২০ হাজার ভোটে পরাজিত করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী দীপংকর তালুকদারকে। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে রাঙামাটি পৌরসভা নির্বচন ছাড়া উপজেলা ও ইউনিয়ন নির্বাচনে জেএসএস তাদের শক্তি দেখিয়ে দিয়েছে। প্রতি নির্বাচনে তাদের প্রায় প্রার্থী জয়লাভ করেছে। তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল কাকে মনোনয়ন দিবে? কে এ দলের পক্ষে কাজ করবে? তারা কি গতবারের মত একক প্রার্থী দিবেন? নাকি তারা অন্য কোন জাতীয় রাজনৈতিক দলকে সর্মথন দিবে। এটাই এখন ভোটের মাঠে ব্যাপক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে এখনো পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান জানান দেয়নি এ আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলটি। দলটির নেতাকর্মীদের সাথে একাধিবার যোগাযোগ করলেও তারা কিছুই মন্তব্য করেননি।

কিন্তু সম্প্রতি সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার বলেন, আমাদের দল একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা ভোটের পক্ষে। তাই নির্বাচনে কে অংশগ্রহণ করবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় নির্বাচনে যাবে, তা আমাদের দলীয় সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

তবে একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) পক্ষে এবারও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ঊষাতন তালুকদার। তবে সংগঠনটির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো অফিসিয়ালি এখনই এই ব্যাপারে মুখ খুলছেন না।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button