নীড় পাতা / পাহাড়ের অর্থনীতি / বিবিধ খাতেই লাগামহীন ব্যয়
parbatyachattagram

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বাজেট অধিবেশন-২০১৯-২০

বিবিধ খাতেই লাগামহীন ব্যয়

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় বিগত বছরের বাজেটে বিবিধ খাতে লাগামহীন ব্যয়ের চিত্র পাওয়া গেছে। ১৭-১৮ অর্থ বছরে বিবিধ খাতে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৭টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করেছে পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর বিপরিতে ১৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ১১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৫৯ লাখ টাকা করা হয়েছে। বাজেটে অধিবেশনেই এই খাতের ব্যয় নিয়েই তাই গুঞ্জন উঠেছে সাংবাদিকদের মধ্যেও।

১৭-১৮ অর্থ বছরে শিক্ষা ও তথ্য প্রযুক্তি খাতে ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৬৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ফলে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি তৎকালীন পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। তার বিপরিতে ৫৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ১১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ১৭-১৮ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ৯ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, কিন্তু ১০৭টি প্রকল্পের মধ্যমে ব্যয় করে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা বরাদ্দকৃত অর্থের থেকে ৫ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করা হয়। একই খাতে ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ ছিল ১৪ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৮৭ প্রকল্পের বিপরীতে ব্যয় হয় ১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ফলে এ বছরে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। পক্ষান্তরে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমান ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

১৭-১৮ অর্থ বছরে ধর্ম খাতে বরাদ্দ ছিল ৮ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তার বিপরীতে ৭৮ প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় করে যা মোট বরাদ্দের প্রায় সমান, ১৮-১৯ অর্থ বছরে এই খাতে বরাদ্দ কমিয়ে রাখা হয় ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, তার বিপরীতে ৭১টি প্রকল্পের মাধ্যমে খরচ করা হয় ৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা বরাদ্দকৃত টাকা থেকে ২ কোটি টাকা বেশি খরচ তরা হয়। ১৯- ২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বরাদ্দের পরিমান ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

সমাজ কল্যাণ ও নারী উন্নয়ন খাতে ১৭-১৮ অর্থ বছবে ৫ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিপরিতে ৬৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ৮ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা বরাদ্দের থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকা বেশি খরচ করা হয়। পক্ষান্তরে ১৮-১৯ অর্থ বছরে ৫ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে ৫৫ টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৬ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় করা হয় যা প্রস্তাবিত বাজেটের থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশি। অপরদিকে এই খাতে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

পূর্ত খাতে ১৭-১৮ তে বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা, এতে ৫৩ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ৯ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা বরাদ্দকৃত টাকা থেকে প্রায় ৩ কোটি বেশি। ১৮-১৯ এ এসে এ খাতে ৭ কোটি ২ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৪৭ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা যা বরাদ্দের থেকে ১ কোটি টাকা বেশি। ১৯-২০ অর্থ বছরে এ খাতে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ৭ কোটি ৮ লাখ টাকা।

১৭-১৮ অর্থ বছরে স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ ও সুপেয় পানি খাতে ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ৪২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ২ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা, ফলে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি তৎকালীন পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৬ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। তার বিপরিতে ৩৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে রবাদ্দ কমিয়ে ৪ কোটি ৭২ লাখ টাকা ধার্য্য করা হয়েছে।

১৭-১৮ অর্থ বছরে কৃষি, মৎস ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ২০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি টাকা, ফলে প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি উক্ত পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ২ কোটি ৭৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। তার বিপরিতে ৩২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে রবাদ্দ কিছুটা বাড়িয়ে ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ (বৃক্ষ রোপন, বনায়ন) খাতে ১৭-১৮ তে বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি টাকা, এতে ২টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা বরাদ্দকৃত টাকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম খরচ করা হয়েছে। ১৮-১৯ এ এসে এ খাতে ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এখানে দেখা যায়, এ খাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে। ১৯-২০ অর্থ বছরে এ খাতে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা।

১৭-১৮ অর্থ বছরে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ২০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। ফলে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বেশি ব্যয় করে উক্ত পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর বিপরিতে ২০টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে রবাদ্দ কিছুটা বাড়িয়ে ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা করা হয়েছে।

পর্যটন খাতে ১৭-১৮ অর্থ বছবে ১ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার টাকার বিপরিতে কোন টাকায় ব্যয় করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পক্ষান্তরে ১৮-১৯ অর্থ বছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখলে এখানেও কোন টাকা খরচ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠাটি। অপরদিকে এই খাতে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।

১৭-১৮ অর্থ বছরে ত্রাণ ও পুণবার্সন খাতে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ১১৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেনি পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর বিপরিতে ৩টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে রবাদ্দ কিছুটা বাড়িয়ে ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা করা হয়েছে।

ভূমি ও হাটবাজার খাতে ১৭-১৮ তে বরাদ্দ ছিল ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, এতে ৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যা বরাদ্দকৃত টাকা থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে। ১৮-১৯ এ এসে এ খাতে ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দের বিপরীতে ৫টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় করা হয় ৯৫ লাখ টাকা। এখানে দেখা যায়, এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ টাকা বেশি খরচ করা হয়েছে। ১৯-২০ অর্থ বছরে এ খাতে প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমান ৫৯ লাখ টাকা।

১৭-১৮ অর্থ বছরে শিশু উন্নয়ন খাতে ৫৫ লাখ ৫৫ হাজার টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে ১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ৩৫ লাখ টাকা। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারেনি পরিষদ। আবার ১৮-১৯ অর্থ বছরে বরাদ্দ রাখা হয় ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর বিপরিতে ১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যয় হয় ৫৪ লাখ টাকা, ফলে দেখা যায় এ অর্থ বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকার কম ব্যয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে ১৯-২০ অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটে এই খাতে রবাদ্দ কিছুটা বাড়িয়ে ৫৯ লাখ টাকা করা হয়েছে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বাঘাইছড়িতে ফের সেনা টহলে গুলি, ১ সন্ত্রাসী নিহত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে আইনশৃংখলাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সুমন চাকমা, সে …

Leave a Reply