অরণ্যসুন্দরীব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বিনোদনের কেন্দ্রস্থল ‘কাচালং সেতু’

স্থানীয়দের কাছে ‘আর্জেন্টিনা ব্রিজ’ হিসেবে পরিচিত এই সেতু

আরমান খান, লংগদু
কভিড-১৯ মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে ঈদ উদযাপন যেন নিজ গৃহেবন্ধী। ঈদ উপলক্ষে মানুষের যাতায়াত কিছুটা স্বাভাবিক হলেও বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঈদের আনন্দ যেন পানসে লাগছে সবার। কিছুটা হাঁফছেড়ে বাঁচতে মানুষ বন্ধু, স্বজন ও পরিবারসহ ছুটে আসছে কাচালং সেতুতে। সেতুটি লংগদু উপজেলার কাপ্তাই হ্রদের কাচালং ও মাইনী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত।

আকাশি আর সাদা রঙের সেতুটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের ভালো লাগার প্রধানকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শীত সব ঋতুতে মানুষের ঢল নামে এ সেতুতে। বিকেল হলেই দক্ষিণের মিষ্টি হাওয়ার অনুভুতি নিতে ছুটের আসে নানা বয়স ও পেশার মানুষ। ঈদের এই সময়ে আরও বেশি মানুষের প্রশান্তির জায়গা করে দিয়েছে কাচালং সেতু। সেতুর ওপরে ভারি যানবাহন চলাচল না থাকায় অনেক স্বস্তি নিয়ে মানুষ এখানে দুদণ্ড সময় কাটাতে পারে।

সেতুতে দাঁড়িয়ে যেমন দখিনা বাতাস উপভোগ করা যায়। তেমনি উপভোগ্য চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ। দূর পাহাড়ের সবুজের সম্ভার আর হ্রদের নীল জলের সৌন্দর্যের সাথে আরও মুগ্ধতা ছড়িয়েছে শ্রাবণের শুভ্র মেঘের ভেলা। প্রকৃতি আর মানুষের তৈরি কংক্রিটের তৈরি সেতুর সৌন্দর্য মিলে মিশে একাকার।

কোরবানি ঈদের ব্যস্ততা শেষে স্নিগ্ধ এক বিকেলে সেতুতে বেড়াতে এসেছে ইমরান-তন্বী দম্পতি। ইমরান পেশায় কলেজ শিক্ষক। কর্মস্থল কক্সবাজার থেকে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছেন গাঁথাছড়ায় শশুরবাড়ীতে। ইমরান বলেন, কোরবানির ব্যস্ততা শেষে গরমের বিকেলে একটু দখিনা হাওয়া খেতে সেতুতে এসেছি। এখানকার প্রকৃতির রুপই মানুষকে টেনে আনে। খুব সুন্দর পরিবেশ এখানে।

ঈদের বিকেলে পরিবার নিয়ে একসঙ্গে বেড়াতে এসেছেন আনসার বাহিনীর চারজন সদস্য। তাদের একজন কামাল উদ্দিন সরকার বলেন, করোনার কারণে স্থানীয় সব বিনোদনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় শিশুদের নিয়ে সবাই মিলে কাচালং সেতুতে বেড়াতে এসেছি। এখানকার পরিবেশটা সুন্দর। চারপাশের বিস্তীর্ণ মাঠ, লেকের জল নৌকার চলাচল, দূরের সবুজ পাহাড়ে মেঘের মিতালী সব কিছুই দারুন উপভোগ্য।

সন্ধ্যা নামলেই সেতুর দুপাশে জ্বলে ওঠে স্ট্রিট লাইটের আলো। সেতুতে যাতায়াত ও সময় কাটানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসন সম্প্রতি এমন আলোর ব্যবস্থা করেছেন। সেতুতে বেড়াতে আসা মানুষের জন্য গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ ঝালমুড়ি, ফুচকার দোকান। এছাড়াও সেতুর পূর্বপ্রান্তে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট।

 

 

 

 

 

 

 

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন বলেন, কাচালং সেতু ঘিরে বিকাল থেকে রাত অবধি চলে মানুষের আড্ডা। সারাদিনের ব্যস্ততা ছেড়ে সবাই একটু হাওয়া খেতে এখানে ছুটে আসে। অনেকেই বেড়াতে এসে বিকেলের নাস্তাটা এখানেই সেরে ফেলেন। বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের চাহিদার কথা ভেবেই আমরা চা, কফি ও বিকেলের নাস্তার আয়োজন করি। দর্শনার্থীদের ভালো সাড়া পাচ্ছি।

সেতুটি আকাশি ও সাদা রঙের হওয়ায় দর্শনার্থীরা তার নাম দিয়েছে ‘আর্জেন্টিনা ব্রিজ’। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৭.৫ মিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মানে ব্যয় হয়েছে ২০ কোটি। তবে গত দুবছর যাবৎ মানুষ চলাচল করলেও এখনো হয়নি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button