রাঙামাটিলিড

বিধি লংঘন করে মনোনয়ন জমা আ.লীগের প্রার্থীদের

আরমান খান, লংগদু ॥
সপ্তম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। হাট বাজার ও গ্রাম মহল্লার চায়ের দোকানে সর্বত্র এখন নির্বাচনী আলোচনার ঝড়। বুধবার এ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এদিন উপজেলার সাত ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত সাতজন চেয়ারম্যান প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

বুধবার সকাল থেকে বিশাল গণজমায়েত ও মিছিল সহকারে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘনের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র জমা দেন তারা। এদিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাইনীমূখ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল আলী তিন শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে মোটরসাইকেলে শোডাউনের মাধ্যমে মিছিল সহকারে মনোনয়ন জমা দিতে আসেন। এ সময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ একাধিক নেতাকর্মী মিছিলে যোগ দেন।

এ ছাড়াও আটারকছড়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী অজয় চাকমা (মিত্র), কালাপাকুজ্যা ইউনিয়নের প্রার্থী মোস্তফা মিয়া, গুলশাখালী ইউনিয়নের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম, বগাচত্বর ইউনিয়নের আবুল বাশারসহ সকলেই গণজমায়েত সহকারে মনোনয়নপত্র জমা দেন। আচরণবিধি নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় পাঁচ জনের অধিক জনবল প্রার্থীর সাথে না থাকার কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু এই বিধান মানেননি একাধিক প্রার্থী। আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও আচরণবিধি লংঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাইনীমূখ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী এরশাদ আলী সরকার মনোনয়নপত্র জমা দেন গত ৯ জানুয়ারি। এ দিন তিনি কয়েকশ কর্মী সমর্থক নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে আসেন। পাশাপাশি তিনিসহ অনেক প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দের আগেই সভা সমাবেশ শুরু করে দিয়েছেন এবং পোস্টার ছাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করছেন। যা আচরণবিধির সম্পূর্ণ লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জমির উদ্দিন বলেন, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে আমরা তিনজন রিটার্নিং কর্মকর্তা জড়িত। অনেক প্রার্থী আচরণবিধি লংঘন করছেন। প্রথমদিকে এ বিষয়গুলোতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চেষ্টা করছি। তবে সমানের দিনগুলোতে প্রশাসন আরো কঠোর ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাইনুল আবেদীন বলেন, আমরা শুনেছি অনেক প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মুখে মাস্ক নাই। বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচণী আচরণবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button