খাগড়াছড়িব্রেকিং

বিদ্যালয়ে না গিয়ে আওয়ামীলীগের সভা মঞ্চে !

নাম তার প্রনতি চাকমা; তিনি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষিকা। বিদ্যালয়ে বরাবরই তিনি অনিয়মিত বলেই অভিযোগ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ও ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে সোমবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আওয়ামীলীগের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা। সে সমাবেশে অতিথিদের মঞ্চেই বসা ছিলেন প্রনতি চাকমা। অথচ এদিনও বিদ্যালয় খোলাই ছিল। এরকম অনেকদিন ধরেই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত  থাকলেও তার রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না। আর এদিন তার মঞ্চে থাকার ঘটনায় বিব্রত স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের হরিনাথ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা প্রনতি চাকমা। সে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ময়মন চাকমা জানান, ইচ্ছে থাকলেও সবকিছু বলা যায়না। তবে প্রধান শিক্ষিকা প্রায় সময় বিদ্যালয়ে অনিয়মিত সেটা সঠিক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ সোমবার তিনি আসবেননা বলে জানিয়েছিলেন। ধরে নেন মৌখিক ছুটি নিয়েছেন।’ প্রধান শিক্ষিকা রবিবারে বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে ময়মন চাকমা বলেন, ‘মনে হয় এসেছিলেন; পরে অসুস্থ বলে চলে যান।’ এর বেশি কিছু তিনিও বলতে চাচ্ছিলেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা প্রনতি চাকমা বলেন, ‘আমি দীঘিনালায় আছি। আমি সিএল (ক্যাজুয়েল লিভ, বা নৈমর্ত্তিক ছুটি) এ আছি। না হলে কি সভায় এসেছি।’

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এডিন চাকমা জানান, তিনি ফাইল খুঁজে দেখেছেন ওই শিক্ষিকা কোন ছুটি নেননি। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণ তিনি শিক্ষিকার কাছে জানতে চাইবেন।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, ছুটি নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দেখেন। আর রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা না; ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথমে ওই শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন।

খাগড়াছড়ি জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরা বলেন,ওই মহিলা মঞ্চে আসায় আমরা বিব্রত,কারণ এটি আমাদের দলীয় কর্মসূচী ছিলো এবং তিনি একজন সরকারি চাকুরিজীবি।

এই বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন, ওই মহিলা আমাদের দলের কেউ কিনা আমি জানিনা, তিনি কিভাবে মঞ্চে উঠলেন সেটাও জানিনা, কেউ উঠে গেলে তো আমরা নামিয়ে দিতে পারিনা ।  আর স্কুল বাদ দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচীতে যদি অংশ নেন তবে এজন্য তার সংশ্লিষ্ট বিভাগ ব্যবস্থা নিবে, আমাদের তো কিছু করার নাই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

ি কমেন্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen − fourteen =

Back to top button