রাঙামাটি

‘বিগত নির্বাচনের ইতিহাস ভুলে যান,ভোট ডাকাতির সুযোগ দেয়া হবে না’

‘আমরা শুনেছি বিগত বছরগুলোতে এখানে অবৈধ অস্ত্র কিংবা ভয় দেখিয়ে ভোট দেয়া বা না দেয়ার হুমকির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বিগত ইতিহাসের নির্বাচনের কথা এবার ভুলে যান। এবার আমরা কঠোর অবস্থানে থাকবো। তাই কেউ অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোট দিতে বা না দেওয়ার জন্য বাধ্য করতে পারবে না। যার ভোট সে দিবে, যাকে খুঁশি তাকে দিবে। আমরা ২০৩টি কেন্দ্রে কোন প্রকার সমস্যা সৃষ্টি করতে কাউকে দিবে না। কেউ যদি ভেবে থাকে কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টি করবে, তাহলে আমরা কঠোর অবস্থানে থেকে ব্যবস্থা নিবো।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, নির্বাচনি এজেন্ট ও মনিটরিং টিমের সদস্যদের সাথে নির্বাচনি আচারণবিধি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এ কে এম মামুনুর রশিদ। বুধবার বিকালে ২৯৯ রাঙামাটি আসনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এ কে এম মামুনুর রশিদ’র সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর, জেলা আনসার ভিডিপির কমান্ডার আব্দুল আওয়াল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম, জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুল লতিফ শেখ সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকতা, বিভিন্ন দলের প্রার্থীর প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সংবাদকর্মীবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে রিটার্নিং অফিসার এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বেশ কিছু অভিযোগ এসেছে তবে তা ছোট-খাটো। নির্বাচনের মত এতবড় একটি কর্মযজ্ঞে এমন ছোট-খাটো দুই একটি অভিযোগ কিংবা ঘটনা ঘটতে পারে। তবে বড় কোন ধরণের ঘটনা যেনো না ঘটে তার জন্য প্রশাসন কঠোর নজর রেখেছে। ২০ ডিসেম্বর থেকে আরো কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছোট এই শহরে সবাই সবার পরিচিত এবং শহরের প্রধান রাস্তা একটি, তাই আমরা যে কোন সময় সভা ও মিছিল করার সময় মুখোমুখি হতে পারি, তাই বলে সংর্ঘষে জড়ানো যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রচারণায় যে আপনাদেরকে অবৈধ, বৈধ কিংবা লাঠির হুমকি দিবে তাকে আমরা পাল্টা হুমকি দিবো। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবো আমরা। পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়াসহ উষ্কানীমূলক কথাবার্তার যে অভিযোগ এসেছে, আমরা আশা করবো তা আগামী দিনগুলোতে আর আসবে না। সকলে সুন্দর মনোভাব ও সহযোগিতামূলক অবস্থানে থেকে ৩০ ডিসেম্বর রাঙামাটিবাসীকে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।’

সভায় পুলিশ সুপার আলমগীর কবীর বলেন, ‘যেটুকু হয়েছে এখানে ফুলস্টপ থাকুক, সামনে যেনো এমন আর না হয়। রাঙামাটির অতীতের নির্বাচন আমরা দেখিনি কিন্তু শুনেছি। তবে এবার অতীতের নির্বাচনের কথা ভুলে যান। যার ভোট সে দিবে অন্য কেউ যেনো না দেয়। তাহলে অবস্থা খারাপ হবে। আশা করবো সকলের সহযোগিতায় আমরা সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পূন্ন করতে পারবো।’

এদিকে মতবিনিময় সভায় বিএনপির সভাপতি হাজী শাহ আলম রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে তাদের কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা সহ পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়ার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। তবে তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে আওয়ামীলীগের জেলার সহ-সভাপতি হাজী কামাল উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমাদের পোস্টার তো ছিঁড়ে পুড়ে ফেলা হয়েছে। তবে আশা করি আগামীতে আমরা সকলে মিলে সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সুষ্ট করার জন্য কাজ করবো।

অন্যদিকে আওয়ামীলীগের জেলার সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর বলেন, বাঘাইছড়ির উলুছড়িতে প্রচারণার সময় আমাদেরকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিলো। এমন হলে নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এছাড়া মত বিনিময় সভায় প্রচারণায় বাধাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন নির্বাচন প্রার্থীদের প্রতিনিধিবৃন্দ।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button