রাঙামাটিলিড

বিকল্প পেশা খুঁজছেন সঞ্চয় বড়ুয়া

ঝুলন দত্ত, কাপ্তাই ॥
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলা এবং চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী বাজার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার। তাঁর পাশে অবস্থিত লিচুবাগান। এই লিচুবাগানের বনগ্রাম এলাকায় গত ২০০৯ সালের অক্টোবর এর ২৩ তারিখ ত্রিরতœ মিউজিক্যাল নামে একটি হারমোনিয়াম দোকান দেন রাউজান উপজেলার উত্তর জয়নগর বড়ুয়া পাড়ার যুবক সঞ্চয় বড়ুয়া। ইতিমধ্যে তিনি রাঙামাটি এবং চট্টগ্রাম শহরে অনেক নামীদামী হারমোনিয়াম দোকানে টিউনিং মাস্টার হিসাবে সুনামের সাথে কাজ করেছেন। তাঁর হাতের তৈরিতে শত শত হারমোনিয়াম দিয়ে ইতিমধ্যে অনেকে মঞ্চ, বেতার এবং টেলিভিশনে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় কথা হয় সঞ্চয় বড়ুয়ার। তিনি জানান, গত ১৬ মাস ধরে এই সেক্টরের অবস্থা করুণ। দেড় বছর আগেও প্রতি মাসে গড়ে ৬টি নতুন হারমোনিয়াম বিক্রি হতো এবং নতুন পুরাতন হারমোনিয়াম মেরামত মিলে মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় হতো, সেই সাথে তাঁর দোকানে গিটার, বাঁশিসহ অন্য মিউজিক্যাল যন্ত্রপাতি বিক্রি হতো। দোকান ভাড়া, সংসার খরচ এবং আনুষাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে তাঁর মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা সঞ্চয় হতো। বেশ ভালোই চলছিল তাঁর জীবন। কিন্তু মহামারী করোনার ফলে যখন সমস্ত সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, সেই থেকে তাঁর এই পেশায় ধ্বংস নামে। এইছাড়া কঠোর লকডাউন এর ফলে এখন দোকান বন্ধ।

তিনি আরোও জানান, মানুষের মনে আনন্দ থাকলে মানুষ গান বাজনা শিখে এবং হারমোনিয়াম, তবলা, গিটার, বাঁশি কিনে। কিন্তু করোনায় প্রতিদিন মৃত্যুর ফলে মানুষের মনে একটি অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে, ফলে এর প্রভাব এই সেক্টরে পড়েছে।

হারমোনিয়াম মাস্টার সঞ্চয় আরোও জানান, সব শ্রেণী পেশার লোকজনকে প্রণোদনা দেওয়া হলেও আমাদেরকে সরকারি বেসরকারিভাবে কোন প্রণোদনা দেওয়া হয় নাই। এই অবস্থা থাকলে বাধ্য হয়ে পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে ভিন্ন পেশায় যাওয়া ছাড়া আর কোন গতি দেখছি না।

সঞ্চয়ের দোকান হতে প্রায়ই হারমোনিয়াম কিনেন কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীত ব্যক্তিত্ব ফনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা জানান, তাঁর নিপুণ হাতের তৈরি হারমোনিয়াম বেশ ভালো মানের। কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রভাবে এই অঞ্চলে নেই কোন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ফলে নতুন নতুন ছাত্র ছাত্রী গান বাজনা শেখার পেছনে আর আগ্রহ হচ্ছে না, ফলে এর প্রভাব মিউজিক্যাল দোকান গুলোর ওপর পড়েছে।

কাপ্তাইয়ের সঙ্গীত শিল্পী রওশন শরীফ তানি জানান, গত দেড় বছরে মন্দা ভাব যাচ্ছে সাংস্কৃতিক সেক্টরে। তাই সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ওপর জড়িত শিল্পী, যন্ত্রী এবং মিউজিক্যাল দোকানগুলোর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের অবস্থা করুণ থেকে করুণতর হচ্ছে।

কাপ্তাই এবং রাঙ্গুনিয়া উপজেলার অনেক কন্ঠ ও যন্ত্র শিল্পী জানান, এইভাবে চলতে থাকলে দিন দিন বন্ধ হয়ে যাবে মিউজিক্যাল দোকানগুলো। তাই এই সেক্টরকে বাঁচাতে সরকারি বেসরকারি প্রণোদনার বিকল্প নেই।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button