ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বাড়ি ফিরতে চান আংশিক ক্ষতিগ্রস্তরা

গত ১৩ জুন প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় হাজার পারিবার, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ হাজার ৩১ টি পরিবার। এর মধ্যে অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্র ছেড়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তার মধ্যে রাঙামাটি সদরে ৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখনো প্রায় এক হাজার চারশত জন অবস্থান করছেন। আশিংক ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখন বাড়ি ফিরতে চান। তাদের দাবি যে পরিমান ক্ষতি হয়েছে সরকার দ্রুত তা মেরামত করে দিলে তারা বাড়ি ফিরবে।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া ষাট বছর বয়সের কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমি চম্পক নগরে বসবাস করতাম। আমার ঘরটির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার দুই মেয়ে দুজনের বিয়ে হয়েছে। আমার স্বামী নাই। আমি এখানে আর থাকতে চাই না। বাড়িতে ফিরতে চাই। সরকার যাতে আমাদের বাড়িতে ফিরার ব্যবস্থা করে দেয়। আমার ঘরটা ঠিক হলে আমি বাড়িতে ফিরে যাবো’।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া ডলি বেগম বলেন, ‘আমার বাড়িটির কিছু অংশ আর রান্না ঘরটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। জেলা প্রশসন থেকে আমাদের আশ্রয় কেন্দ্রে চলে আসতে বলেছিল। না হয় পুলিশ দিয়ে নিয়ে যাবে এই ভয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। কিন্তু আমাদের আর কত দিন এভাবে থাকতে হবে। এভাবে আর থাকতে চাই না। নিজের বাড়িতে ফিরতে চাই। এখানে থাকলে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে। সরকার যদি আমাদের বাড়িটি ঠিক করে দিত তাহলে আমরা বাড়িতে ফিরতে ফিরবো’।

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেয়া হেমায়ত বলেন, ‘আমার বাড়িসহ রান্না ঘরটি পাহাড়ে ধসে সম্পূর্ণ বির্ধস্ত হয়ে যায়। আর কত দিন এখানে এভাবে থাকতে হবে কেউ বলতে পারছে না। আমাদের জন্য সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে কিনা তাও জানি না। বউ বাচ্চা নিয়ে এখানে খুব কষ্টে আছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি দ্রুত আমাদের পূনর্বাসন করুক’।

জিমনেসিয়াম আশ্রয়কেন্দ্রে আবস্থান নেয়া জীবন বসু চাকমা বলেন, ‘জুনের ১৩ তারিখ থেকে এখনো আমরা আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। আমার বাড়ির কোন ক্ষতি হয় নি। পাহাড় ধসে পাশের বাড়িতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এখনো পাহাড়টি। বেশি বৃষ্টি হলে আবারো ভেঙ্গে পড়তে পারে পাহাড়। আমরা দ্রুত পুনর্বাসন চাই। এখানে এভাবে থাকা খুব কষ্টের। দুই বেলা খাবার দেয় কিন্তু দুই বেলা খাবার তো মনের শান্তি দেয় না। নিজের বাড়িতে কম খেলেও শান্তি লাগে যদি সেটি নিরাপদ বাসা হয়।

রাঙামাটি জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাস কর্মকর্তা বিশ্বনাথ মজুমদার বলেন, গত ১৩ জুন পাহাড় ধসে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ছয় হাজার পারিবার, সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বারো হাজার ৩১ টি পরিবার। আমাদের কাছে মজুদ ১৭৪ বান্ডেল টিন আছে। ক্ষতিগস্ত পরিবারদের পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজন তিন হাজার সাতশত বান্ডেল টিন।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, আংশিক যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা তো যেতে পারে। আমরা তো কাউকে যেতে নিষেধ করছি না। যারা ঝুঁকিপূর্ণ তারা যাতে না যায়। সে যদি মনে করে তার বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ না সে যাবে, আমরা তাদের বাধা দিচ্ছি না। সে বাড়ি ফিরলেও ঠিক করে দিব, না গেলেও ঠিক করে দিব সেটার জন্য তো সময় লাগবে। কিছুদিন আগে আকশ্যান এইড কিছু পরিবারকে কিছু টাকা দিয়েছে আর কিছুদিন পর ইউএনডিপি দিবে যারা আগে পেয়েছে তারা এবার পাবে না।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button