ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের

গত ২ জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় এক যুবলীগ নেতাকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনটি গ্রামের ২১২ টি পাহাড়ি পরিবারের বসতঘর ভষ্মিভূত করে দেয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। গত দুইমাস ধরে কার্যত গৃহহীন এই পরিবারগুলো বর্তমানে তিনটিলা বনবিহার, মানিকজোরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও লংগদু সরকারি হাইস্কুল ও লংগদু বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাসে আশ্রয় নিয়ে আছেন। আর কেউ কেউ অস্থায়ী টংঘর নির্মাণ করে অবস্থান নিয়েছেন পুড়ে যাওয়া বসতভিটার পাশেই।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আবুল কালাম শামসুদ্দিন স্বাক্ষরিত এক পত্র, যা লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে, সেই পত্র সূত্রে জানা গেছে, ২১২ টি পরিবারের জন্য ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেমিপাকা ঘর, ১টি রান্নাঘর ও ১টি শৌচাগার এবং ভষ্মিভূত ৮টি দোকানঘর পুনর্নিমাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ জানানোর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাক্কলন প্রনয়ণের জন্য আশ্রয়ন প্রকল্পকে নির্দেশনা দিয়েছে।

ওই পত্রে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ২য় সংশোধিত ডিপিপি-তে পার্বত্য ৩ জেলায় উপজাতি জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ ডিজাইনের ঘর নির্মাণের সংস্থান রয়েছে।

পত্রে প্রতিটি ঘরের প্রাক্কলিত মূল্য আইটিভ্যাটসহ ৫ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে চাহিদা অনুসারে আইটি ভ্যাট (১০%) বাদে ৪ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার বসতগৃহ নির্মাণের প্রাক্কলন ও নক্সা জরুরিভাবে প্রেরণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুরোধ করা হয়।

লংগদু উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পত্রপ্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সোমবার চিঠি আমার হাতে এসেছে। এই বিষয়ে আমরা নক্সা ও প্রাক্কলন তৈরির কাজ করছি। শীঘ্রই এটি পাঠিয়ে দিবো। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পেশায় মোটর সাইকেল চালক নুরুল ইসলাম নয়নকে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। ওইদিন খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নয়নের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ২ জুন নয়নের লাশ লংগদুতে আনার পর একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল তার লাশসহ মিছিল সহকারে উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজার জন্য যাওয়ার পথে তিনটিলা,বাইট্টাপাড়া ও মানিকজোড় গ্রামের পাহাড়ীদের বসতবাড়িতে ব্যাপকভাবে অগ্নিসংযোগ করে। এসময় পাহাড়িদের অন্তত ২১২টি পরিবারের বসত, দোকানসহ ২২৬টি স্থাপনা পুড়ে যায়। ভষ্মীভূত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের একটি পাড়াকেন্দ্রও। এসময় পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে উপজেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক প্রতিনিধিদল।

এই ঘটনায় পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত একজন বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এম এ হালিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম মুরাদসহ এ পর্যন্ত ২৬ জন বাঙালীকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে নয়ন হত্যার ঘটনায় জড়িত জুনেল চাকমা (১৮) ও রনেল চাকমা (৩৩) নামের দুইজনকে আটক করা হয় দীঘিনালা উপজেলা থেকে ১০ জুন । আটকৃকতদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সেখানে মাইনী নদী থেকে উদ্ধার করা হয় নয়নের মোটর সাইকেলটি। আটকের পর আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছে দুই হত্যাকারি।

অগ্নিসংযোগ ও নয়নকে হত্যার ঘটনায় রাঙামাটিতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি পালন করেছিলো পূর্ণ স্বায়ত্ত্বশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত পাহাড়িদের সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এবং বাঙালিভিত্তিক সংগঠন পার্বত্য বাঙালী ছাত্র পরিষদ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: