রাঙামাটিলিড

বাড়তি পর্যটকে হাঁসফাঁস পর্বতকণ্যা সাজেকের

মিশু মল্লিক
শুক্র-শনিবার দুইদিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং রবিবার ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি মিলিয়ে মোট তিনদিনের ছুটিতে পর্যটকে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে মেঘের রাজ্য খ্যাত রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি। ধারণ ক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ পর্যটক সাজেকে প্রবেশ করায় দেখা দিয়েছে রুম সংকট। রুম না পেয়ে স্থানীয় লোকজনের বাড়িতে ভাড়া নিয়ে এবং মসজিদের বারান্দায় রাত কাটিয়েছেন অনেকে। বুধবার পর্যটকদের উপস্থিতির পর শুক্রবার থেকে আবারো পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সাজেক ভ্যালি।

সাজেক রিসোর্ট মালিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার প্রায় ৫ হাজারের মত পর্যটক সাজেকে এসেছেন যদিও সাজেকের ১১২টি কটেজে পর্যটক থাকতে পারে চার হাজারের মত। সাজেকে আসা পর্যটকদের অনেকেরই ছিলোনা আগাম বুকিং। এতে করে রুম না পাওয়ায় অনেক পর্যটক বিকেলেই ফেরত আসেন। যারা থেকে গিয়েছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন কটেজের বারান্দায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে রুম ভাড়া নিয়ে রাত পার করেছেন।

সাজেক জিপ মালিক সমিতির লাইনম্যন ইয়াসিন আরাফাত বলেন, শুক্রবার প্রচুর পর্যটক সাজেকে এসেছিল যাদের অনেকেরই আগাম রুম বুকিং ছিলো না। যারা রুম পাননি এইরকম প্রায় ২০টি পর্যটকবাহী গাড়ি খাগড়াছড়ি ব্যাক করেছে। যারা রুম না পেয়েও থেকে গিয়েছেন এমন কিছু পর্যটক আশেপাশের বাসা-বাড়িগুলোতে রুম ভাড়া নিয়ে থেকেছেন। শনিবার ১৫০এর মত গাড়ি সাজেক এসেছে, যেটা গতকাল ছিল প্রায় ২০০এর বেশি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা পর্যটকদের সংখ্যা মিলিয়ে প্রায় ৪০০০ এর বেশি পর্যটক বর্তমানে সাজেকে আছেন। তবে গাড়িতে বা মসজিদের বারান্দায় রাত কাটানোর মত পরিস্থিতি আজ নেই।

সাজেক শৈল কুঠির রিসোর্টের শেয়ার হোল্ডার তাহাবুদ্দিন তোহা বলেন, বুধবার থেকেই সাজেকে প্রচুর পরিমাণ পর্যটক আসছেন। এই মুহূর্তে কোন রিসোর্টেই রুম খালি নেই। আমাদের রিসোর্টও দুই মাস আগে থেকেই শতভাগ বুকিং হয়ে আছে রবিবার পর্যন্ত।

পর্যটকরা রুম না পেয়ে গাড়িতে রাত কাটানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, যখন খুব বেশি পর্যটকদের চাপ থাকে তখন যেসকল পর্যটক আগাম বুকিং না দিয়ে সাজেক আসেন তাদের রুম পেতে বেগ পেতে হয়। তখন তাদের হয়তো স্থানীয়দের বাসা-বাড়িতে বা গাড়িতে থাকেত হয়। তবে মসজিদের বারান্দায় রাত কাটানো বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

সাজেক হিল ভিউ রিসোর্টের স্বত্ত্বাধিকারী ইন্দ্রজিৎ চাকমা বলেন, ৫ তারিখ থেকে সাজেকে পর্যটক সমাগম ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি। সবগুলো কটেজ মিলিয়ে সাজেকে আড়াই হাজারের বেশি পর্যটক থাকতে পারেন না, কিন্তু এই কদিন পর্যটক সংখ্যা সবসময় ৩ হাজারের উপরে। বাড়তি পর্যটকদের এই চাপ সামাল দেয়া কষ্টকর।
তাই অগ্রিম বুকিং না করে সাজেক না আসার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে সাজেকের অতিরিক্ত পর্যটকের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। সাজেক মর্নিং স্টার রিসোর্টের সত্ত্বাধিকারী মো. রাসেল লিখেন, ‘রুম খালি নাই’, ‘রুম খালি নাই’ বলতে বলতে আমি ক্লান্ত। স্থানীয় সাংবাদিক মো. আকতার হোসেন লিখেছেন, ‘সাজেক এখন বস্তিতে রুপান্তর’।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, আমরা রিসোর্টগুলোকে শক্ত নির্দেশনা দিয়েছি ধারণ ক্ষমতার বাইরে যাতে কোন বুকিং না নেয়, কিন্তু অনেকেই বুকিং না দিয়েই সাজেক চলে আসছেন, তাই তারা থাকার জায়গা পাচ্ছে না। সাজেকে ১০০ এর বেশি রিসোর্ট আছে। আমরা যদি গড়ে ২৫ জন করেও ধরি তাও ২৫০০ এর বেশি পর্যটক থাকতে পারেনা। তাছাড়া সাজেকে পানিরও সমস্যা আছে। কিন্তু ধারণক্ষমতার বেশি পর্যটক চলে আসাতেই এই সমস্যার সৃষ্টি। সাজেকে প্রবেশের বিষয়টা যেহেতু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেখভাল করে তাই আমরা উনাদের অবগত করেছি যাতে অগ্রিম বুকিং না থাকা পর্যটকদের সাজেক প্রবেশে নিরুৎসাহিত করে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =

Back to top button