রাঙামাটি

বারেক অনুসারিদের সংবাদ সম্মেলন,পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার কর্তৃক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের এক নেতাকে পিটুনি দেয়ার অভিযোগ,বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও ‘স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি’ জানানোর দুইদিন পর,অভিযোগটিকেই ‘বানোয়াট’ দাবি করে, উল্টো বারেক সরকারকে অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে রাঙামাটি শহরে সংবাদ সম্মেরন করেছে তার অনুসারি হিসেবে পরিচিত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের কিছু নেতাকর্মী।

রাঙামাটির লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের অন্তকোন্দল নিরসন করে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সকল নেতাকে স্বপদে ফিরিয়ে এনে দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীর একটি অংশ। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি শহরে এসে প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কামাল।

তিনি বলেন, বারেক সরকার ও আব্দুর রহিম চেয়ারম্যানের হাত ধরেই ৯৬ সাল থেকে লংগদুতে ভঙ্গুর আওয়ামীলীগকে আজকের সুদৃঢ় অবস্থানে আনা হয়েছে। বিএনপি থেকে যেসব নেতাকর্মী যোগ দিয়েছে তাদের কয়েকজন আওয়ামীলীগের বিভিন্ন পদবিতে এসে আওয়ামীলীগের পুরোনো নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্ত সৃষ্টি করছে। তাদেরকে অতীতে সরল বিশ্বাসে আব্দুল বারেক সরকার দলে প্রবেশের সুযোগ দিলেও বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবুর ষড়যন্ত্রে বারেক সরকারকে বিভিন্ন সময়ে অপমান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগে জুতা দিয়ে পেটানোর যে অভিযোগ বারেক সরকারের বিরুদ্ধে করা হয়েছে, সেটাও ষড়যন্ত্রের অংশ। তাকে অপমান করতেই বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে অপমান অপদস্থ করা হয়েছে। বারেক সরকার ২০০১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক মো. নাছিমুল গণি, সদস্য নজরুল ইসলাম মন্টু, মো. জামশেদ আলী, ইন্তাজ আলী, মো. ওমর আলী, সরওয়ার গাজী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাজুসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা প্রায় সবাই লংগদুর রাজনীতিতে বারেক সরকারের অনুসারি হিসেবে পরিচিত।

এদিকে এই বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু’র দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের মধ্যে কামালকে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করায় অব্যাহতির জন্য আগেই সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া যারা সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন তাদের অনেকেই বিএনপি থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে যোগদানকৃত। তাই তাদের মুখে বিএনপি থেকে যোগদানকৃতদের বিরুদ্ধে কথা বলা মানায় না। দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে বলে তিনি দাবি করে বাবু বলেন, দলীয় শৃংখলাভঙ্গের অভিযোগেই বারেক সরকারকে জেলা আওয়ামীলীগ অব্যাহতি দিয়েছে, অব্যাহতি পাওয়ার পরও তিনি নিজেকে শোধরাতে পারেননি, আমাদের নেতাকর্মীদের গায়ে হাত তোলার মত জঘন্য কাজও করেছেন। আমরা তার স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছি। কেউই দলীয় শৃংখলার উর্ধে নয়। যে বা যারা দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে দল তাদের সবার বিরুদ্ধেই সারাদেশেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধীতা করায় আওয়ামীলীগ থেকে অব্যাহতি পান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার,রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহিমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী।  এরই মধ্যে গত দুইদিন আগে মাইনীমুখ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিল্লাল হোসেনকে বাকবিতন্ডার জেরে মারধরের অভিযোগ উঠে বারেক সরকারের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল,সমাবেশ ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বারেক সরকারের স্থায়ী বহিষ্কারাদেশের দাবি জানিয়েছে লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগ। এর পরই বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহরে এসে সংবাদ সম্মেলন করল বারেক অনুসারিরা।

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five × 1 =

Back to top button