পাহাড়ের রাজনীতিব্রেকিংরাঙামাটি

বারেকের বক্তব্যের কড়া জবাব বৃষকেতুর

‘দাদা’র সিগন্যাল পেলে আইনগত পদক্ষেপ নিবে জেলা পরিষদ

রাঙামাটির লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল বারেক সরকারের বক্তব্যকে ‘অপরিণামদর্শী’ ‘মিথ্যা’ ও ‘কুরুচিপূর্ণ’ হিসেবে মন্তব্য করে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, বারেক সরকার আওয়ামীলীগের মতো একটি অসাম্প্রদায়িক দল করেও নিজেকে অসাম্প্রদায়িক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজের দুর্নীতি ঢাকতে গিয়ে জেলা পরিষদ সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ যে মন্তব্য করেছেন,তার জবাব দিতেও আমার ঘেন্না হচ্ছে। তিনি শুরু জেলা পরিষদকেই না,জেলা আওয়ামীলীগ সম্পর্কেও বাজে মন্তব্য করেছেন। আওয়ামীলীগ করে,আওয়ামীলীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান হয়ে,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হয়েও যে কেউ এমন জঘণ্য ভাষায় কথা বলতে পারে,তা তার বক্তব্য না পড়লে বুঝতাম না। বিষয়টি আমি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদককে জানিয়েছি। আমাদের অভিভাবক ,দাদা দীপংকর তালুকদার অসুস্থ,সেক্রেটারি তার সাথে কথা বলে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানাবেন। তারপর আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’
বৃষ কেতু চাকমা বলেন,বারেক সরকার জনস্বাস্থ্যের টিউবল দেয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন,উল্টো জেলা পরিষদকে চাপ দিচ্ছেন,অবৈধভাবে টিউবল সরবরাহ করতে,আমরা সেটা করিনি বলেই তার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। নিজে দুর্নীতি করার সুযোগ নষ্ট হওয়ায়,আমাদেরকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে সে মন্তব্য করেছে।’
জেলা আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত জানার পর আইনগত পদক্ষেপ নিবেন জানিয়ে বৃষ কেতু চাকমা আরো বলেন, তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ,সে যেহেতু মুখ খুলে নোংরা কথা বলেছে,আমরাও মুখ খুলব। তার বাসায় যাওয়ার জন্য দুই কোটি টাকার সড়কসহ আরো নানা কাহিনী আছে,সব বলব আমরাও…।’
তিনি বলেন, ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার ক্ষোভ থাকতে পারে,চাওয়া পাওয়া না মেলায় সে যা ইচ্ছা তাই বলতেই পারে,কিন্তু প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ঢালাওভাবে মন্তব্য করার আগে তার ভাবা উচিত ছিলো।’
‘আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেও বারেক সরকার অসাম্প্রদায়িক হতে পারেননি’ মন্তব্য করে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমিতো লংগদুর উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পালন করিনা,করিওনি। আমি শুধু বাঘাইছড়ির বিষয়গুলো দেখি,কই আমার বাঘাইছড়িতে তো কেউ আমাকে সাম্প্রদায়িক বলেনা ! তাহলে লংগদুর বারেক সরকার কিভাবে আমাকে সাম্প্রদায়িক বলে ? এই সাহস সে কোথায় পেলো ? আমরা অবশ্যই আইনগত পদক্ষেপ নিতে চাই। তবে জেলা আওয়ামীলীগ এবং দাদা যা বলবেন,যেভাবে বলবেন,সেভাবেই পদক্ষেপ নিব আমরা। তাই অপেক্ষা করছি।’
‘আমরা অত্যন্ত ক্ষুদ্ধ,মর্মাহত এবং ব্যথিত’ জানিয়ে বৃষ কেতু আরো বলেন, একজন সত্যিকার আওয়ামীলীগ করা ব্যক্তি নিজের দল সম্পর্কে,দলের নেতাদের সম্পর্কে এমন কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতে পারেননা। সে যে দল করে,জেলা পরিষদে যারা আছে,তারাও একই দলের নেতা। সেটা সে ভুলে গেছে।’

লংগদুতে বছরখানেক আগে একটি অনুষ্ঠানে পাশাপাশি বৃষ কেতু চাকমা ও বারেক সরকার, তখন সম্পর্কে হৃদ্যতা ছিলো,ছিলো মাখামাখিও……

এর আগে গত ২৭ নভেম্বর লংগদুতে অনুষ্ঠিত কৃষকলীগের এক সভায় জেলা আওয়ামীলীগ ও পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদ সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন লংগদু উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বারেক সরকার। বিভিন্ন সময় নানান চটুল মন্তব্য,নিজের আত্মীয় ও সন্তানদের দিয়ে পুরো উপজেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা বিতর্কিত এই নেতা সেদিন বলেন-‘ ‘জনগণের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, তারা জনগণের চাওয়া পাওয়ার মূল্যায়ন করে না। কিছু নেতাকর্মীর পকেট ভারী করছে তারা। এটা জেলা পরিষদ না এটা ‘জ্বালা’ পরিষদ। জেলা পরিষদ একটি লুটপাটের প্রতিষ্ঠান। চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা একজন সাম্প্রদায়িক লোক, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালীন উন্নয়নের সমবন্টন হয়নি। জেলা পরিষদ কর্তৃক একটি প্রকল্পও সঠিক বাস্তবায়ন হয়নি। ভবিষ্যতে আওয়ামীলীগের জন্য ভোট চাইতে হলে লংগদুতে বৃষকেতুকে আসতে হবে। ভোটের সময় লংগদু আর উন্নয়নের বেলায় বাঘাইছড়ি তা হতে পারে না।’
সেদিন বারেক সরকার আরো বলেছিলেন- ‘ লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাংগঠনিক অবস্থা ভালো না। যুবলীগের কমিটি নাই দুই বছর, উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক দিন। কলেজ ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ এক বছরের বেশি সময় ধরে। উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন হয়েছে প্রায় এক বছর, কিন্তু এখনো অনুমোদন হয়নি। কমিটি অনুমোদনের জন্য যদি টাকা দিতে হয় তবে আমরা তা দিতে প্রস্তুত।’
সেদিনের সভায় উপস্থিত থাকা রাঙামাটি জেলা কৃষকলীগের সভাপতি জাহিদ আকতার বলেছেন, ‘ওটা ছিলো আমাদের কৃষকলীগের সাংগঠনিক সভা। তিনি( বারেক সরকার) উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে প্রধান অতিথি ছিলেন। তিনি যা বলেছেন,সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত মতামত,এটা কৃষকলীগের বা সেখানে উপস্থিত অন্য কারো বক্তব্য নয়। এর দায় আমরা নিবনা।’
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর এই প্রসঙ্গে বলেন, বারেক সরকার যা বলেছে,সেসব আমার জেনেছি,শুনেছি। বিষয়টি আমাকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরাও জানিয়েছেন। আমি দাদা(দীপংকর তালুকদার)’র সাথে আলাপ করব। তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত,নানা সময় ভিন্ন মতাবলম্বীদের বাড়ীঘরে হামলা-ভাংচুর,মামলা করা,নিজের আত্মীয়স্বজনদের দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন সহযোগি সংগঠনের পদপদবী বন্টন, ব্যবসা বাণিজ্য ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রন,নানান সভা সমাবেশে চটুল বক্তব্য দিয়ে আলোচিত এই উপজেলা চেয়ারম্যান, সর্বশেষ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পর লংগদু উপজেলা বিএনপির ‘খালেদা জিয়ার কারামুক্তির দাবিতে দোয়া মাহফিলে’ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকেও বক্তব্য দিয়েছেন। তার প্রভাবের কারণে লংগদু উপজেলায় কেউই ‘টু-শব্দ’ও করতে পারেনা। এই বিষয়ে কথা বলার জন্য লংগদু উপজেলা আওয়ামীলীগ,যুবলীগ,ছাত্রলীগ,স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও শ্রমিকলীগের একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলেও ‘ভয়ে’ কেউ কথা বলতে রাজী হননি বারেক সরকারের বিরুদ্ধে !

লংগদু বিএনপির খালেদা জিয়ার কারামুক্তি ও সুস্থতা কামনার কর্মসূচীতে আওয়ামীলীগ সভাপতি বারেক সরকার

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button