পাহাড়ের অর্থনীতিলিড

বাম্পার ফলনেও বিষন্ন কৃষক,করোনায় মন্দা বাজার

চলতি মৌসুমে রাঙামাটির লংগদুতে লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন গাছে গাছে ঝুলছে থোকা থোকা রসালো লিচু। বর্তমান করোনার পরিস্থিতির কারণে বাগানে উৎপাদিত এসব লিচু সময়মত বাজারজাত করতে না পেরে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশায় ভূগছেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
লংগদু উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের বাগানে ও বাড়ীর আঙ্গিনায় গাছে গাছে ঝুলঝে থোকা থোকা রসালো লিচু। এরই নমুনা দেখা গেছে উপজেলার মাইনীমুখ ও বগাচতর এলাকার কয়েজন কৃষকের লিচুর বাগান পরিদর্শনে গিয়ে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে এমনটি মনে করছেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমান সময়ে করোনা পরিস্থিতির কারণে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ কৃষকগন। লিচুর বাগানে মধ্যে উচ্ছ ফলনশীল দেশিজাত, চায়না-২, চায়না-৩, বোম্বে ও বেদানা, কালিপুরি জাতের লিচু দেখা যায়।

এদিকে গত সোমবার, উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর এলাকায় মোঃ বিল­াল হোসেন সহ কয়েকজন কৃষকের লিচু বাগান পরিদর্শ করেছেন রাঙামাটি জেলা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রবন কুমার চাকমা। এসময় জেলা কৃষি প্রকৌশলী দেবাশীষ চাকমা, লংগদু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন কুমার চৌধুরী সহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বগাচতর ইউনিয়নের মারিশ্যাচর এলাকার লিচু চাষী মোহাম্মদ বিল­াল হোসেন জানান, আমার নিজস্ব দশ একর বাগানে জায়গায় লিচু বাগান সহ মিশ্রফলের বাগান গড়ে তুলেছি। বর্তমানে বাগানে বিভিন্ন জাতের এক হাজার চারশত লিচুর গাছ রয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ব্যাপক ফলন হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় পনের মেঃ টন লিচু উৎপাদন হয়েছে। আমার বাগানে লিচুর মধ্যে উচ্চ ফলনশীল দেশীয়, বেদানা, বোম্বে, চায়না-২, চায়না-৩, কালিপুরি জাতের লিচু রয়েছে। বর্তমানে করোনার পরিস্থিতিতে পরিবহন সমস্যার কারণে বাজারজাত করতে পারছি না। ফলে ন্যায্য দামও পাচ্ছি না। তাই চিন্তায় আছি। কয়েকদিন আগে উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রায় আট মেঃ টন লিচু চট্টগ্রামে পাটিয়েছি। বাজারজাত করতে পারলে খরছ বাদ দিয়ে তিন থেকে চার লক্ষ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, আমাদের পার্বত্য জেলায় যে কোন ফল উৎপাদনে আবহাওয়া উপযোগী রয়েছে। লংগদু উপজেলায় লিচুর ফলন যা দেখলাম গতবছরের তুলনায় হেক্টর হিসেবে অনেক বেশি ফলন হয়েছে। করোনার কারণে কৃষকরা দামটা কম পাচ্ছে। তারপরও কৃষকরা বিভিন্ন উপায়ে উৎপাদিত লিচু সহ মিশ্রফল চট্টগ্রামে পাটিয়ে বিক্রি করতে পারছেন এটা অনেক ভালো।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close