করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

বাবা মায়ের সাথে দুই শিশুর দীর্ঘ ‘অমানবিক পথ হাঁটা’ !

আব্দুল, বয়স আনুমানিক ৬, লাকি’র আনুমানিক ৩। তারা বাবা মায়ের সাথে হেঁটেই রওয়ানা দিয়েছে, গন্তব্য চট্টগ্রাম। এই দুই শিশু শুধু জানে তারা চট্টগ্রাম যাচ্ছে, কিন্তু কতদুর হাঁটতে হবে সেটা তারা জানেনা। শনিবার বেলা বারোটায় তাদের বাবা মার সাথে রাঙামাটি শহরের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল এলাকায় দেখা যায় তাদের, হাঁটছে তারাও । কোথায় যাচ্ছ এমন প্রশ্নে আব্দুলের উত্তর- চট্টগ্রাম। আর কতদুর হাঁটতে হবে জানো? এমন প্রশ্নে সোজা উত্তর ‘জানিনা’। মা মরিয়ম বেগম ও তাদের বাবা মানিক মিয়া, সকালে লংগদু থেকে মাল বোঝাই বোটে যাত্রা শুরু করে ১১টায় এসে পৌঁছান রিজার্ভ বাজার, সেখান থেকে এই দুই শিশু সন্তান নিয়ে হাঁটা শুরু করে বেলা সাড়ে বারোটায় পৌঁছায় শহরের স্টেডিয়াম এলাকায়।

মানিক মিয়া জানান, আব্দুল এ পর্যন্ত কোন ঝামেলা ছাড়াই হেঁটেই এসেছে, কিন্তু লাকি কখনো হেঁটে কখনো কোলে এভাবে দেড় ঘন্টায় এতোটুকু এলাম, বাকি পথ কিভাবে যাবো জানিনা, তবে যেতে হবে সেটাই সত্য।’ তিনি আরও বলেন, শুনেছি ঘাগড়ার আশেপাশ থেকে সিএনজি যাচ্ছে, সেই ভরসায় যাচ্ছি। সেখানে গিয়েও যদি গাড়ি না পাই, তাহলে কি হবে তা ভাবতে চাইনা।’

মরিয়ম বেগমের কাছে জানতে চাইলে বেশ বিরক্তি ভাব নিয়ে বলেন, আমাদের কষ্টের কথা শুনে কি করবেন, ছবি তুলেও বা কি করবেন। আমাদের জন্য কি কোন গাড়ির ব্যবস্থা করে দিকে পারবেন ? তা তো পারবেন না। তাহলে কথা বলার দরকার নাই ‘ কিছুক্ষণ পর অবশ্য একটু শান্ত হয়ে বলেন, বাবা অসুস্থ্য হয়ে চকবাজার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন আছে। তাকে সেবা করতেই এই প্রায় অসাধ্য যাত্রা শুরু করেছেন, কখন কিভাবে পৌঁছাবেন তা জানেন না। বাচ্চাদের বাসায় রেখে আসেননি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওরা বাসায় থাকবে না, কান্নাকাটি করবে, তাই বাধ্য হয়েই নিয়ে যাচ্ছি। এতো গরম কার কি হয় ভাবতে পারছি না।

মরিয়ম বেগম পোশাক তৈরি কারখানা চাকরী করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা ইতস্তত হয়ে জবাব দিলেন, না আমরা চাকরী করি না, আগেই বলেছি বাবার জন্য যাচ্ছি। তাদের সাথে থাকা ৩৫ জনের বহরে সকলেই পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাদের একজন শহীদ হোসেন একটু একটু সামনে দিকে হেঁটে গিয়ে জানান, মরিয়ম পোশাক তৈরি কারখানায় কাজ করে কিন্তু অজানা কারণে তিনি সে পরিচয়টা দেননি’

এই অবুঝ শিশুরা হয়তো জানেনা তাদের গন্তব্য কত দুর, পাড়ি জমাতে হবে পিচ ঢালা উঁচু নিচু নির্জন রাস্তা সহ ৭০ কিলোমিটার পথ, তারা সবে মাত্র পেরিয়ে এসেছেন শহুরে ৬ কিলোমিটার রাস্তা। আরও ১৩ কিলোমিটার পর ঘাগড়া, সেখানে যদি গাড়ি পায়, তো সেটা হবে সৌভাগ্য, আর যদি সে সুযোগ না থাকে, তবে এভাবই হয়তো যেতে হবে আরো ৬৪ কিলোমিটার। ওরা কি পারবে??

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close