বান্দরবানব্রেকিং

বান্দরবানে সিক্স মার্ডার : ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে,মামলা দায়ের

বান্দরবানে ব্রাশ ফায়ারে নৃশংসভাবে জনসংহতি সমিতি সংস্কার (এমএন লারমা) গ্রুপের শীর্ষ নেতাসহ ৬ জনকে হত্যার ঘটনায়, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে বুধবার সন্ধ্যায় ছয় জনের লাশ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখিত করে অজ্ঞাত’সহ ২০ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে সংগঠনের বান্দরবান জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক উবামং মারমা।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  ময়না তদন্ত শেষে লাশ নিহতদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার বিষয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের আলাপ হয়েছে। ছয় জনের আত্মীয়স্বজনেরা পরস্পরের সঙ্গে আলাপ করে মামলার বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন বলে জানিয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পুলিশ মামলা দায়ের করবেন। পরিবারের কেউই বাদী না হলে সেক্ষেত্রে পুলিশ বাদী মামলা হবে।

নিহত রতন তঞ্চঙ্গার স্ত্রী মিনিপ্রু বলেন, ময়নাতদন্তের পর স্বামীর লাশ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তাকে রোয়াংছড়িতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাব। ধর্মীয় রীতি রেওয়াজ অনুসরণ করে পরবর্তীতে সৎকার করা হবে। বাকী ৫ জনের লাশ নেয়া হবে খাগড়াছড়ি জেলায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা (সংস্কার) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা বলেন, সংগঠনের বান্দরবান জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক উবামং এবং নিহতদের আত্মীয় স্বজনেরা গেছেন লাশ গ্রহণ করতে মর্গে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো হস্তান্তর করা হলে নিহত ৫ জনের লাশ খাগড়াছড়ি জেলায় নিয়ে আসা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য ও জনসংহতি সমিতি মূল সংগঠন (সন্তু লারমা) গ্রæপের নেতা সাধুরাম ত্রিপুরা মিল্টন জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে কারা জড়িত বিষয়টি বলতে পারছি না। তবে এটি রাজনৈতিক, আধিপাত্য এবং স্বার্থের দ্বন্ধের ফসল মনে করছি। এ ধরণের হত্যাকান্ড কারোর জন্যই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

প্রসঙ্গত: গত মঙ্গলবার সকালে সাড়ে ৬টায় বান্দরবান সদরের রাজবিলা ইউনিয়নের বাঘমারা বাজার পাড়া এলাকায় ব্রাশ ফায়ারে জেএসএস এমএন লারমা গ্রুপের ৬ জনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন- কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা (৬৮), কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা চিংথোয়াইয়াং মারমা ডেবিট (৫৬), বান্দরবান জেলা সভাপতি রতন তঞ্চঙ্গা (৫০), যুব সমিতির সদস্য রবিন্দ্র চাকমা মিলন (৫০), রিপন ত্রিপুরা জয় (৩৫), জ্ঞান ত্রিপুরা দিপেন (৩২)। নিহতদের মধ্যে শুধুমাত্র ডেবিট বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার বাসিন্দার। অন্যরা সবাই খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, গুইমারা উপজেলার বাসিন্দার। আহতরা হলেন- জেএসএস সংস্কার সংগঠনের সদস্য খাগড়াছড়ির বাসিন্দার নিরু চাকমা (৪২), বিদ্যুৎ ত্রিপুরা (৩৩) দুজন এবং অপরজন বাঘমারার বাসিন্দার কলেজ ছাত্রী।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button