পর্বতকন্যাবান্দরবানব্রেকিংলিড

বান্দরবানে পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ মুরুং ঝর্ণা

আলাউদ্দিন শাহরিয়ার, বান্দরবান
ভ্রমণপিপাসুদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠছে পাহাড়ের ছোট-বড় ঝিরি-ঝর্ণাগুলো। বান্দরবানে জেলার সৌন্দর্যের শেখড়ে থাকা দর্শনীয় স্থান ঝর্ণাগুলোর পথে পথেই যেন সব রহস্য লুকানো। বিপদজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ ঝর্ণা ভ্রমণে রয়েছে বিপদের হাতছানি। পাহাড়ের চূড়া থেকে ঝরে পড়া মুরুং ঝর্ণা ভ্রমণপিপাসু মানুষদের নতুন আকর্ষণ। সম্প্রতি বান্দরবানে পর্যটকদের টানছে মুরুং ঝর্ণা নামের এক জলপ্রপাত।

প্রশাসন ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, বান্দরবান সদর উপজেলার সূয়ালক ইউনিয়নে মুরুং ঝর্ণার অবস্থান। বান্দরবান-লামা, সূয়ালক সড়কের মাঝেরপাড়া হয়ে হেডম্যানপাড়া পর্যন্ত গাড়িপথ। তারপর সেখান থেকে পাহাড়ি ঝিরি পথে এক ঘন্টা পায়ে হাঁটার পর পাহাড়ের ম্রো জনগোষ্ঠীদের গ্রাম। ম্রো জনগোষ্ঠীদের পাহাড়ি গ্রাম এলাকায় অবস্থান হওয়ায় স্থানীয় ভ্রমণকারীদের মুখে মুখে ঝর্ণাটির নামকরণ হয়েছে মুরুং ঝর্ণা। তবে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে মুরুং ঝর্ণাটি এখনো হয়ে পরিচিত হয়ে উঠেনি।

স্থানীয় ভ্রমণকারী সাইফুল সনেট বলেন, ‘ভ্রমণ আমার খুবই পছন্দ। জেলার অসংখ্য ঝর্ণা ঘুরে বেড়িয়েছি। কিন্তু মুরুং ঝর্ণাটি অন্যসব ঝর্ণার সৌন্দর্যের চেয়ে একটু আলাদা মনে হলো। এখানে ঝর্ণার পানিগুলো ছড়িয়ে গড়িয়ে পড়ছে ছড়ায়। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকা এবং পাহাড়ি ঝিরিপথে বিপদজনক পথ হওয়ায় ঝর্ণাটি এখনো আলো ছড়াতে পারেনি।’

বান্দরবানের সংস্কৃতিকর্মী নাছির উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘বান্দরবানে দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে ঝর্ণা আমার বেশি ভালো লাগে। ক’জন বন্ধু-বান্ধব মিলে সম্প্রতি আমরা মুরুং ঝর্ণা ভ্রমণে গিয়েছিলাম। বিপদজনক ঝিরি পথেই পায়ে হেটে যেতে হয় মুরুং ঝর্ণায়। বিকল্প কোনো পথ নেই। তবে গন্তব্যে পৌছানোর পর ঝর্ণার রুপ দেখে সব ক্লান্তি ম্লান হয়ে যায়।’

এদিকে সূয়ালক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান উক্যনু মারমা বলেন, ‘মুরুং ঝর্ণাটি খুবই সুন্দর। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মুরুং ঝর্ণাটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। স্থানীয়রা দর্শনার্থীদের ভ্রমণে সার্বিক সহযোগিতা করেন। দর্শনীয় স্থানটি সংরক্ষণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

বান্দরবান জেলাপ্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিবরীজি বলেন, ‘পর্যটকদের সুবিধার্থে নতুন নতুন দর্শনীয় স্থান খুঁজে বের করা হচ্ছে। মুরুং ঝর্ণা তারমধ্যে একটি। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ এবং দর্শনীয় স্থানগুলোর উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে পুরনো পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সৌন্দর্যবর্ধণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button