করোনাভাইরাস আপডেটবান্দরবানব্রেকিংলিড

বান্দরবানের ৪১৮ বৌদ্ধবিহার ৫ দিনের লকডাউনে

পাহাড়ে বৈসাবি উৎসবে লেগেছে করোনার ছোবল!। মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ রোধে পার্বত্য জনপদের পাহাড়ী জনগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি আয়োজন বাতিল করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বাংলা বর্ষ বরণ এবং বর্ষবিদায় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল পাপাচার ও গ্লানি ধুয়ে মুছে নিতে বান্দরবানে পাহাড়ের জনগোষ্ঠীরা প্রতিবছর বৈচিত্রময় নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করলেও করোনার ছোবলে সব আনুষ্ঠিকতায় বন্ধ রয়েছে এবার। এমনকি জনসমাগম ঠেকাতে বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলার ৪১৮টি বৌদ্ধ বিহারে লকডাউন ঘোষণা করেছে পার্বত্য জেলা পরিষদ। রোববার থেকে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিহারগুলো সবধরণের দর্শনার্থী এবং প্রার্থণাকারীদের জন্য বন্ধ থাকবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা মারমা বলেন, রোববার থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত আগামী পাঁচদিনের জন্য বিহারগুলো লকডাউন থাকবে। এসময়ে কোনো দর্শনার্থী এবং প্রার্থণাকারীরা বিহারে প্রবেশ করতে পারবে না। লকডাউন চলাকালীন সময়ে ভিক্ষু এবং বিহারে অবস্থানকারী শ্রমনরা যাতে সোয়াইং (ভিক্ষুদের খাবার) খেতে পারেন, সেজন্য বিহারগুলোতে পর্য়াপ্ত খাবার ও প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এদিকে বর্ষবরণ এবং বর্ষ বিদায় উৎসবকে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীরা বহুকাল ধরে ভিন্নভিন্ন নামে পালন করে। মারমা ভাষায় সাংগ্রাই, ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিসু এবং চাকমা ভাষায় বিজু’র সংক্ষেপিত রুপ হচ্ছে বৈসাবি। পাহাড়ী চার সম্প্রদায়ের প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে সমষ্টিগত ভাবে বৈসাবি বলা হয়। ধারণা করা হচ্ছে বিষুব সংক্রান্তি শব্দ থেকে ভাষা, সংস্কৃতি ও অঞ্চল ভেদে একই উৎসব বিভিন্ন নামে সংস্কারায়িত হয়েছে। অহোম ভাষায় বিহু, মনিপুরী ভাষায় বিষু, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিজু এবং ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু মূলতঃ মৌলিক একটি শব্দ। যা বিষূব থেকে এসেছে। আবার থাইল্যান্ডের সংক্রান, মায়ানমার এবং বাংলাদেশের মারমা, চাক, ম্রো, খুমী ও রাখাইন স¤প্রদায়ের “সাংগ্রাই” একই শব্দ থেকে উদ্ভুত, যা বাংলা সংক্রান্তিরই ভিন্ন রুপ। অর্থাৎ চৈত্র মাসের ২৯ ও ৩০ তারিখ বছরের শেষ দু’দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন বৈসাবীকে মারমা সম্প্রদায় সাংগ্রাই, ম্রো স¤প্রদায় চাংক্রান, খেয়াং সম্প্রদায় সাংগ্রান, খুমী স¤প্রদায় সাংগ্রায়, চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় বিজু এবং ত্রিপুরা স¤প্রদায় বৈসু নামে বৈসাবী উৎসব পালন করে আসছে বহুকাল ধরে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven + thirteen =

Back to top button