রাঙামাটিলিড

বাঘাইছড়িতে সূর্যমূখী চাষে সফলতা

মোঃ মহিউদ্দিন, বাঘাইছড়ি ॥
রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়িতে পরীক্ষামূলক সূর্যমূখী চাষ করে সফলতার স্বপ্ন দেখছে চাষি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের গবেষণা ও পরামর্শক্রমে সূর্যমূখী এ চাষ পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম বাঘাইছড়িতে শুরু করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যদিও এই সূর্যমূখী চাষ করতে দেখা গেছে তবে রাঙামাটিতে এই প্রথম হচ্ছে সূর্যমূখী চাষ।

সূর্যমূখী চাষের পদ্ধতি হলে- সূর্যমূখী দানাগুলো পানিতে ১-২ রাত ভিজিয়ে রাখতে অংকুর গজালে ১২-১৪ ইঞ্চি দূরে দূরে সারিবদ্ধভাবে চারার মত রোপণ করতে হয়। এভাবে যে যত পরিমাণ জায়গায় চাষ করতে ইচ্ছুক সে পরিমাণ চারা রোপণ করদেত পারবে। তবে বাঘাইছড়ি উপজেলার রূপকারি ইউনিয়নের মগবান এলাকার শ্রেহাংসু চাকমা ৩৩ শতাংশ পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে সূর্যমূখীর চাষ করেছেন।

মগবান এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ও চাষি শ্রেহাংসু চাকমা জানান, এই সূর্যমূখী চাষ সম্পর্কে সে প্রথম গুগল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারণা গ্রহণ করে। পরে সেটি নিয়ে সে দীর্ঘ দিন গবেষণা করেন। তারপর বাঘাইছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসাণর অধিদপ্তরের অধীনেস্থ উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ও রূপকারি ইউনিয়ন মগবান ব্লকে কর্মরত কুন্তল রায় আমাকে চাষ করতে সহায়তা করেন। চাষ উপযোগি জমি বাচাই ও বীজতলা তৈরি, সার কীটনাশক ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে সার্বিক সহযোগিতা করেন। আমি ৩৩ শতাংশ পতিত জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে এই চাষ শুরু করেছি। তবে চাষে সফলতা পেলে আগামীতে নিজে চাষ করবো এবং প্রতিবেশীদের চাষ করতে উৎসাহিত করবো।

উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোঃ তোফায়েল আহম্মেদ জানান, পরীক্ষামূলকভাবে এবার ৩ একর ৩৩ শতক জমিতে ফলন চাষ করা হয়েছে। ৩৩ শতক জমিতে খুবই ভালো ফলন হয়েছে। আগামীতে বৃহৎ পরিসরে সূর্যমুখী চাষ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।

এদিকে, উপজেলার রূপকারী ইউনিয়নে সূর্যমুখী বাগান ঘিরে ক্রমেই দর্শনার্থীর ভিড় বাড়ছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানান বয়সী মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। সূর্যমূখী ফুলের ছুয়ায় ৩৩ শতক জমি এখন হয়ে উঠেছে মিনি পর্যটন স্পট। স্থানীয় শিল্পী গোষ্ঠীর সদস্যদের সুটিং চলছে নিয়মিত ভাবেই। এসব দেখতে এবং ছবি তোলার জন্য অনেকেই ছুটে আসছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button