ব্রেকিংরাঙামাটিলাইফস্টাইল

বাউল শিল্পী বসুদেব মল্লিক

পাঠালে যে নিয়তি, তার কাছে এই মিনতি, এই জীবন আর আমি চাই না, জীবন মানে তো যন্ত্রণা, বেঁচে থাকতে বোধহয় শেষ হবে না’, কিংবা মরমী শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’ প্রভৃতি মরমী গানগুলো অত্যন্ত দরদ দিয়ে পরিবেশন করে যে শিল্পীটি ইতিমধ্যে মানুষের চিত্তকে জয় করতে পেরেছে সেই বাউল শিল্পীটা হলো বসুদেব মল্লিক।

বসুদেব মল্লিক একজন মাটির শিল্পী, যার গানে আছে মা মাটির গন্ধ। কাপ্তাই এর চন্দ্রঘোনার কেপিএম কয়লার ডিপু এলাকায় একটি সঙ্গীত পরিবারের তাঁর জন্ম। সংগতকারণে জন্ম থেকে তার মধ্যে সংগীতের রক্ত প্রবাহমান। বসুদেব মল্লিকের বাবা খ্যাতিমান নাট্যভিনতা ডা: রঞ্জিত মল্লিক এতদঞ্চলের একজন নামকরা নাট্য পরিচালক এবং অভিনেতা। তাই বাবার হাত ধরে ১৯৯৯ সালে কেপিএম এর বাৎসরিক নাটক মানিক মালায় শিশু শিল্পী হিসাবে অভিনয় জগতে প্রবেশ করেন। এভাবে বাবার সাথে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় বাবার হাত ধরে নাটকে কখনোও শিশু অভিনেতা আবার কখনোও বিবেক গান পরিবেশন করে দর্শকের অনাবিল আনন্দ দেন। তাই বসুদেবের মনের সুপ্ত বাসনাকে বাস্তবে রুপ দেবার জন্য তার বাবা তার জন্য কিনে নিয়ে আসেন হারমোনিয়াম এবং কিবোর্ড। বাবাই তার প্রথম গুরু এবং অনুপ্রেরণাদাতা। এভাবে বসুদেবের সঙ্গীতের পথ চলা শুরু।

কাপ্তাই উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, উদীচী, চম্পাকুড়ি খেলাঘর আসর প্রভৃতি সংগঠনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিল্পী বসুদেব মল্লিক বাউল গান পরিবেশন করে শ্রোতামহলকে মুগ্ধ করে আসছেন। কাপ্তাই তথ্য অফিসের আয়োজনে বিভিন্ন গণউদ্বদ্ধকরণ সঙ্গীতানুষ্ঠানে বসুদেব এর গান পরিবেশনা ইতিমধ্যে অকুন্ঠ প্রশংসা অর্জন করেছেন।

এই প্রসঙ্গে কাপ্তাই তথ্য কর্মকর্তা মো: হারুন জানান, তথ্য অফিসের আয়োজনে কাপ্তাই, রাজস্থলী এবং বিলাইছড়ি উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে বসুদেব এর গান উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন। এছাড়া রাঙ্গুনিয়া বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইপসার উদ্যোগে বিভিন্ন হাট বাজার পাড়া মহল্লায় বক্তব্যধর্মী গান এবং বাউল গান গেয়ে বসুদেব ইতিমধ্যে মানুষের হৃদয়কে জয় করেছে। চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টিয়ান হাসপাতালের ইউবিআর প্রোগামের আওতায় রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই এর বিভিন্ন স্পটে তিনি গান পরিবেশন করে তাঁর প্রতিভাকে দর্শকদের সামনে আরোও তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ বেতার রাঙামাটি কেন্দ্রের বিভিন্ন গোষ্ঠীভিত্তিক অনুষ্ঠানে তিনি বাউল গান পরিবেশন করে শ্রোতামহলে নন্দিত হয়েছেন। এছাড়া কাপ্তাই, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, হাটহাজারী, দোহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা, ফটিকছড়ি, কক্সবাজার, সিলেটসহ চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং মাহফিলে তিনি গান পরিবেশন করে আসছেন।

শিল্পী বসুদেব মল্লিক এতদুর আসার পেছনে তার বর্তমান সঙ্গীত শিক্ষক ঝুলন দত্তের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। তার গর্ভধারিনী মা মিনা রানী মল্লিক( ছায়া), তাঁর স্ত্রী অনিতা দাশ এবং ভাই অসিত কুমার মল্লিক, আশুতোষ মল্লিক, প্রিয়তোষ মল্লিক ও মনতোষ মল্লিক তাঁর সঙ্গীতে চলার পথে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন। এছাড়া তিনি রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জিগারুল ইসলাম জিগার, রাঙ্গুনিয়া ইপসার উপজেলা ম্যানেজার জয়নাল আবেদিন, কাপ্তাই শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ফনিন্দ্র লাল ত্রিপুরা, কেপিএম চম্পাকুড়ি খেলাঘর আসরের মো: জয়নালের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 + 16 =

Back to top button